ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডিতে এমপি নয়: হাইকোর্ট |


কোনো ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি পদে সাংসদদের মনোনয়ন বা নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংসদদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরের পর আজ বৃহস্পতিবার এ রায় প্রকাশ করা হয়।সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গত বছরের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছিলেন। যার লিখিত কপি আজ প্রকাশিত হলো।সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে ২০১৭ সালে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছেন।স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আফজালুল হক রিট আবেদনটি দাখিল করেছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়,একজন সাংসদকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়।অপরদিকে গভর্নিং বডি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদমর্যাদা সাংসদের নিচের পদমর্যাদার।সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সাংসদ যদি গভর্নিং বডির সভাপতি হন তাহলে কার্যত উক্ত গভর্নিং বডি একটি ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে বাধ্য।সাংসদরা নির্বাচিত হন আইন প্রণয়নের জন্য। আর তাদের সার্বক্ষণিক এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম করার কাজে ন্যস্ত থাকার কথা।সাংসদদের মধ্য থেকেই পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী ও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। সুতরাং একটি গভর্নিংবডির এমন ছোট পদে তার থাকা সমীচীন নয়। কারণ তিনি যদি একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন তাহলে দেশের অন্যান্য উন্নয়নমুখী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

রায়ে আরো বলা হয়,হাইকোর্ট ও মাননীয় আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত আগের রায় পর্যালোচনা করে এটা কাচের মতো স্পষ্ট যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে স্থানীয় সাংসদদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সহিত সাংঘর্ষিক।এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সাংসদদের অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।রিটের বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের সভাপতি পদে মনোয়নন দেয়। উক্ত মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আফজালুল হক।রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পদে সাংসদকে মনোনয়ন দেওয়া কেন অবৈধ হবে না, এই মর্মে রুল জারি করা হয়। পরে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন।অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ন কবির বলেন, এর আগে উচ্চ আদালত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে (এইচএসসি পর্যন্ত) গভর্নিং বডির সভাপতি পদে জাতীয় সংসদ সদস্যরা থাকতে পারবে না মর্মে রায় দিয়েছেন। এখন থেকে ডিগ্রি কলেজ ও তার সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদেও সংসদ সদস্যরা থাকতে পারবেন না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *