প্রথম ধাপে ৩ জয়, পৌরসভায় ‘সিরিয়াস’ বিএনপি


আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে দলকে চাঙ্গা রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে চলমান পৌরসভা নির্বাচনে সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করছে বিএনপি। প্রথম ধাপে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫টি পৌরসভার মধ্যে তিনটিতে মেয়র পদে জয় পেয়েছে তারা। ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ও ‘চরমমাত্রার’ কোনো কিছু না ঘটলে বাকি ৩০৪ পৌরসভাতেও দলীয় প্রতীকে অংশ নেবে দলটি। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় ১২৪টি পৌরসভার জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।

আর চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় ৫৬ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন আগামী ১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত করা হবে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসউইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

দলীয় সূত্রমতে, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার যে উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বিএনপি, তা এরই মধ্যে সফল হয়েছে। নির্বাচনি এলাকাগুলোতে দলটির সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর মাঠের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তারা।

শুধু তাই নয়, প্রথম ধাপের নির্বাচনে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদ আহমেদ অলি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুককে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। দিনাজপুরের ফুলবাড়ি পৌরসভার বর্তমান মেয়র মানিককে পরাজিত করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মাহমুদ আলম লিটন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী রবিউল ইসলাম রবিকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আল মামুন খান।

জানা গেছে, প্রথম ধাপের নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর বিজয়কে পুঁজি করে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলোতেও ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে তৃণমূল সফর করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এ রিপোর্ট লেখার সময় দিনাজপুর সফর করছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি।

দলীয় সূত্রমতে, শুধু মহাসচিব নন, পৌর নির্বাচনে ‘ভালো’ কিছুর আশায় বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই মুহূর্তে তৃণমূল সফরে রয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ সফরে রয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম। এর আগে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য ফরিদপুর সফর করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

পৌর নির্বাচনে প্রচারণার জন্য ময়মনসিংহের মুক্তগাছায় অবস্থানরত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মোবাইল ফোনে সারাবাংলাকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা এই নির্বাচনকে সিরিয়াসলি নিয়েছি। কারণ, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় আট বছর পর আমাদের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা বাইরে বের হতে পারছে, কথা বলতে পারছে। এই কথা বলার সুযোগটা আমরা হাতছাড়া করতেই চাইনি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন আমরা কখনো বর্জন করিনি। ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের দলের প্রার্থীরা স্থানীয় নির্বাচনের অংশ নিয়েছিল। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কৌশলগত কারণে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে না গেলেও তৃণমূল নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।’

‘বিএনপি নির্বাচমুখী রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি— নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল ক্ষমতার হাতবদল হতে পারে। যদিও নির্বাচন ব্যবস্থা একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও গণতন্ত্র চর্চার ন্যূনতম সুযোগটুকু আমরা কাজে লাগাতে চাই। সে কারণেই পৌরসভা নির্বাচনে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছি,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। প্রথম ধাপে গত ২৮ ডিসেম্বর ২৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি ৬০টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় নির্বাচন হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। আর চতুর্থ ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ৫৬টি পৌরসভায় ভোট নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *