latest

বাঁচার উপায় কি? ওয়াইফাই ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

ডেনমার্কের এক শিক্ষার্থীর মনে হঠাৎ করে একটি প্রশ্ন জাগে। আচ্ছা ওয়াইফাই সংযোগ আমাদের কোনো ক্ষতি করছে না তো?

প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য সে একটি গবেষণা চালায়। ৪০০ টি বীজ সংগ্রহ করে৷ তার বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে, অর্ধেক অর্থাৎ ২০০ টি বীজ ওয়াইফাই সংযোগ রয়েছে এমন একটি কক্ষে রাখে । এবং বাকি অর্ধেক বীজ ওয়াইফাই সংযোগ নেই এমন একটি কক্ষে রাখে৷ কিছুদিন পর দেখা যায়, যে কক্ষে ওয়াইফাই সংযোগ ছিল সেই পক্ষের বীজগুলোর অঙ্কুরোদগম সুষ্ঠুভাবে হয়নি। এবং তা থেকে যে চারা সৃষ্টি হয় তা সুষ্ঠু ভাবে বিকশিত হতে পারছে না৷ এবং অপরদিকে ওয়াইফাই সংযোগহীন কক্ষটিতে বীজগুলোর সুষ্ঠু অঙ্কুরোদগম ঘটেছে এবং তা থেকে যে চারা উৎপাদিত হয়েছিল তার সুষ্ঠু বিকাশ ঘটেছে।

এবং এ থেকে প্রমাণিত হয় যে ওয়াইফাই সংযোগ সকল জীবের জন্য এক ধরনের নীরব ঘাতক৷ হোক সেটা প্রাণী অথবা উদ্ভিদ!

ইন্টারনেট এক মায়াজাল । বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট শ্বাস-প্রশ্বাসের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ সেলুলার ডাটা চেয়ে এখন ব্রড ব্যান্ড কানেকশন এর চাহিদা খুব বেশি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন ব্রডব্যান্ড অথবা ওয়াইফাই আমাদের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতিসাধন করছো নাতো?

এই আর্টিকেলে আপনাদের ওয়াইফাই ব্যাবহারের ফলে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত করব যা জানার পরে আপনার ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগ্রহ কমে আসবে৷

সাধারণত আমরা যখন ওয়াইফাইয়ের পাওয়ার অন করা হয় তখন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে৷ এবং তা থেকে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধে:

যেমন :

*হৃদপিন্ডের কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত হয়

*কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়

*কোন কাজ করতে গেলে বেশিক্ষণ চিন্তা করার ধৈর্য হারিয়ে ফেলে

*অতিরিক্ত সময় ওয়াইফাই সংযোগ চালু থাকলে মাথা ব্যথা হয়

*শুক্রাণু কমে গিয়ে পুরুষত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে

*মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে বিকাশিত হতে পারেনা।

বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশ ভয়ের ব্যাপার
একটা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যেসকল বাসায় ওয়াইফাই সংযোগ নেই সেই সকল ভাষার শিশুদের ব্রেইন ডেভলপমেন্ট ১০০ শতাংশ হয়ে যায় মাত্র ছয় বছরের মাথায়।

এবং সে সফল বাসায় ওয়াইফাই সংযোগ রয়েছে সেই সকল শিশুদের ব্রেইন ডেভলপমেন্ট ১০০% হয় আট বছর বয়সে।

বেশি নয় দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকলে মাত্র দুই বছরের মাথায় বাসার সকল সদস্য এর দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।

ব্যাপারটা আপনাদের কাছে বেশ ভীতিকর। তবে উপরে যে লক্ষণগুলোর কথা বলা হলো সেগুলো সবই মাত্রাতিরিক্ত ওয়াইফাই সংযোগ চালু রাখার ফল৷

তাহলে কি এই ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই?

আসলে ইন্টারনেট আমাদের কাছে একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে বিনোদন সব কিছু এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে । সুতরাং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখাটাও বোকামি হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে আশা করা যায় আপনি উক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি গুলোর সম্মুখীন হবেন না৷

১. ২৪ ঘন্টা ওয়াইফাই সংযোগ চালু রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই৷ দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে । মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করা আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর৷ সুতরাং দিনের যে অংশটুকু আপনি ইন্টারনেটে ব্যয় করবেন ঠিক ততটুকু সময় ওয়াইফাই সংযোগ চালু রাখুন এবং বাদবাকি সময় রাউটারের সুইচ অফ করে দিন।

২.যতদূর সম্ভব কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে সেলুলার ডাটা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

৩.আপনার বিশ্রাম ঘর অথবা বেডরুমে ওয়াইফাই সংযোগ স্থাপন করা থেকে বিরত থাকুন । কিংবা আপনি দিনের অধিকাংশ সময় যে ঘরে ব্যয় করেন সেই ঘরে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা থেকে বিরত থাকুন কারণ এগুলো আপনার ঘুম,কাজ, বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি নিউজ, প্রেভেনশন.কম, এনটিভি

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *