AmaderProtidin.com | ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট:সত্য,অর্ধসত্য,মিথ্যা আর উত্তেজনার মিশেল


প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের অতৃপ্তি অনেকাংশেই পুষিয়ে গেছে ভাইস প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটের মাধ্যমে।বিতর্কের শুরুতেই কমোলা হ্যারিস তাঁর দক্ষতার প্রমাণ রাখলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স কে একটি যুত্সই চপেটাঘাত করে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন সঞ্চালককে অগ্রাহ্য করে কমোলার বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করতে চাইলেন,তখনই আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণকায় মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমোলা হ্যারিস মৃধু হেসে বল্লেন,মি.ভাইস প্রেসিডেন্ট!আই এ্যাম স্পিকিং!লেট মি ফিনিশ।ডোন্ট ইন্টারাপ্ট মি।শুরু থেকে শেষোবধি কমোলার বাগ্মিতা,বুদ্ধিদীপ্তভাবে ফেক্চুয়াল বক্তব্য উপস্থাপন ক্ষমতায় মাইক পেন্স কে কিছুটা না হলেও ভড়কে গেছেন মনে হলো।মাইক পেন্স কেবলই আত্মরক্ষা আর মি ট্রাম্পের জয়জয়াকার গাইলেন।দুজনই যে দক্ষ রাজনীতিবিদ তার সুষ্পষ্ট প্রমাণ তারা দিয়েছেন আজকের বিতর্কে।ট্রাম্প কিংবা বাইডেন যেই হোন না কেনো প্রেসিডেন্ট,দুজনের ক্ষেত্রেই একটি অভিন্ন ইতিহাস জড়িয়ে থাকবে।তাহলো আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক অর্থাৎ বুড়ো প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছি।ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান বয়স ৭৪বছর আর জো বাইডেন৭৮।তাই স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক মঞ্চে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টদের স্বাস্হ্যগত বিষয়ও গুরুত্ব পায়।প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বয়স,স্বাস্থ্যগত বিষয় ও বয়সজনিত ঝুঁকি নিয়ে দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে দুজনই পাশ কাটিয়ে যান।ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গেলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না এই বিবৃতিতে মাইক পেন্সকে প্রশ্ন করা হলে কোন সদুত্তর তিনি দেননি।অধিকাংশ রাজনীতিবিদেরা কখনোই পুরোপুরি সত্য বলেন না।তারা কথার মারপ্যাচে সত্যকথন কে পোস্টমর্টেম করে দলীয় প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে অর্ধসত্য বলেন।এরমধ্যে কেউ অর্ধসত্য কেও মাটিচাপা দিয়ে দিব্যি মিথ্যাও বলেন।ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে পাইয়োনিয়ার চ্যাম্পিয়ন।তবে মিথ্যাচারে দুনিয়াজোড়ে তার সমগোত্রীয়দের অভাব নাই।

যাইহোক আজকের ভাইস প্রেসিডন্ট বিতর্কে দুজনই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখলেও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাপক তথ্য বিকৃতি ঘটিয়েছেন।রাজনীতিবিদেরা যে প্রায়ই অর্ধসত্য বলেন এবং প্রয়োজনে সত্যকে মাটিচাপাও দেন তার কয়েকটি নমুনা দেবো।করোনা মোকাবিলায় কমোলা হ্যারিস যখন ট্রাম্প প্রসাশনকে দায়ি করে বক্তব্য দেন জবাবে মাইক পেন্স বলেন,আমেরিকায় চিনের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশের ভ্রমন আমরা বাতিল করেছি যা জো বাইডেন বিরোধিতা করে বিদেশাতঙ্ক বা জেনোফোবিয়া হিসেবে আখ্যা দেন।পেন্সের এই সরলোক্তিতে পূর্ণসত্য প্রকাশ পায় নি।চিরাচরিত রাজনীতিকদের মতো তিনি অর্ধসত্য প্রকাশ করেছেন।পূর্ণসত্য হলো,ট্রাম্প প্রসাশন যুক্তরাষ্ট্রে বহিরাগত নাগরিকদের চিন হতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।নিউইয়র্ক টাইমসের এপ্রিল মাসের জরিপ মতে,জানুয়ারী থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকাবধি প্রায় ৪৩০,০০০লোক চিন থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করেছেন।কারণ মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা(গ্রিনকার্ডধারী)এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ছিলেন না।এদের মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।

রোজ গার্ডেন ইভেন্ট বিষয়ে কমোলার বক্তব্যের জবাবে মাইক পেন্স অর্ধসত্য নয় বরং সত্যকে মাটিচাপা দিলেন।পূর্ণসত্য হলো হোয়াইট হাউজে রোজ গার্ডেন ইভেন্টে উপস্থিত হাতেগোনা কয়েকজনের মুখে মাস্ক ছিলো।অধিকাংশই ছিলেন মাস্ক ছাড়া এমনকি সামাজিক দূরত্বও মানা হয়নি।তারা একে অন্যকে আলিঙ্গন ও কর্মর্দন করতে দেখা যায়।

এবার আসা যাক কমোলা হ্যারিস প্রসঙ্গে।

কমোলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন,ট্রাম্প করোনা ভাইরাসকে একটি প্রতারণা(hoax) বলেছেন।কমোলা হ্যারিস কৌশলে অর্ধসত্য প্রকাশ করে নিজেকে চিরাচরিত রাজনীতিকদের কাতারেই রাখলেন।পূর্ণসত্য হলো,গত ২৮ফেব্রুয়ারী ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ক্যাম্পেইনে করোনা মোকাবিলায় তার প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে মিডিয়া ও ডেমোক্রাটদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন এটা তাদের প্রতারণা।করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের গত ২৯ফেব্রুয়ারী একটি প্রেস কনফারেন্সে তাকে তার`প্রতারণা’মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।তিনি করোনা ভাইরাসকে কখনো প্রতারণা আখ্যা দেননি বলে নিশ্চিত করেন।

কমোলা হ্যারিস পিউ নামে একটি বিখ্যাত গবেষণা সংস্থার একটি বিশ্লেষণী সমীক্ষার বরাত দিয়ে বলেন,বলা হয় আমাদের পূর্বের মিত্র দেশগুলোর নেতারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশী সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখায় চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানকে।পূর্ণসত্য হলো ঐ রিসার্চ কর্তৃক প্রকাশিত সমীক্ষায় বলা হয় খুব অল্পসংখ্যক উত্তরদাতা উভয় দেশের(চীন,যুক্তরাষ্ট্র)নেতাদের উপর আস্থা রেখেছেন।তবে পশ্চিম ইউরোপীয়রা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান শি জিনপিংয়ের উপর বেশী আস্থা রেখেছিলো।১৪টি দেশে পরিচালিত জরিপে মাত্র ১৯% চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের উপর আস্থা রাখে,অন্যদিকে ১৭% আস্থা রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উত্তরদাতাগন বেশী আস্থাশীল ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর।তিনি জেনেও সেই তথ্যটি গোপন রাখেন কারণ তাতে হিতে বিপরীত হওয়ারই সম্ভাবনা থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন মানেই হলো বাড়তি উত্তেজনা আর উদ্দীপনা।বৈশ্বিক গনতন্ত্রের মডেল খ্যাত মার্কিন নির্বাচনে বিশ্বের নামিদামি সব মিডিয়া গুরুত্বসহকারে কাভারেজ করে।প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুরু হয় আড়ম্ভর আনুষ্টানিকতা।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।গনতন্ত্রের অন্যতম সূতিকাগার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অরাজনৈতিক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণে বিশ্বময় নিরপেক্ষ ও রাজনীতি সচেতন মহলের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে অনাগ্রহই বেশী লক্ষ্যণীয়।তবে এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায় সব নিরুত্তাপ ছাড়িয়ে মার্কিন নির্বাচন “কমোলা-পেন্স” নির্বাচনী ডিবেটের মাধ্যমে আবারো সুধিমহলে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলো।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: