latest

জমজমাট ম্যাচে দলীয় নৈপূণ্যে ঢাকার জয়


জমজমাট ম্যাচে দলীয় নৈপূণ্যে ঢাকার জয়

বেক্সিমকো ঢাকা ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা দারুণ ব্যাটিং শৈলি প্রদর্শন করেন। দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তবে শেষ হাসি হেসেছে বেক্সিমকো ঢাকা। মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে মুশফিক-ইয়াসিররা হারিয়েছে ২৫ রানে। এই জয়ে ফরচুন বরিশালকে নিচে ঠেলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসলো ঢাকা।

জমজমাট ম্যাচে দলীয় নৈপূণ্যে ঢাকার জয়

বড় রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। দলীয় ১৫ রানের মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত, আনিসুল ইসলাম ইমন ও মোহাম্মদ আশরাফুল সাজঘরে ফেরেন। আশরাফুল করেন ৮ বলে ১ রান। রাজশাহীর এই বড় ধাক্কা সামাল দেন রনি তালুকদার ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি। রনি এক প্রান্তে দ্রুত রান তুলতে থাকেন, অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে সাহায্য করেন ফজলে।

Also Read – রাব্বি-আকবরের টর্নেডো ইনিংস ও মুশফিকের দৃঢ়তায় ঢাকার ‘১৭৫’

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা এই জুটি ভাঙেন মুক্তার আলি। একটি চার ও ৩ ছক্কায় ২৪ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন রনি। ফজলের সাথে তার জুটি হয়েছিল ৬৭ রানের। রনি ফেরার পরে হাত খুলে খেলতে থাকেন ফজলে।

পরের ওভারে ফিরে এসেই রাজশাহীর অন্যতম ভরসা শেখ মেহেদী হাসানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মুক্তার। ১ রান করে ফেরেন মেহেদী। রাজশাহীর জয়ের আশা জিইয়ে রাখা ফজলেও সাজঘরে পাঠান মুক্তার। ৪০ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন ফজলে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৩টি ছয়।

কঠিন সমীকরণের মুখে টানা ২টি ছয় হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন ফরহাদ রেজা। তবে পরের বলেই আবার মুক্তার আলি উইকেট তুলে নেন। মুক্তারের চতুর্থ শিকার হয়ে বিদায় নেন ফরহাদ। রাজশাহী থামে ১৫০ রানে।

ঢাকা পেল ২৫ রানের জয়। এটি টুর্নামেন্টে ঢাকার দ্বিতীয় জয়। ঢাকার পক্ষে মুক্তার আলি ৪টি, শফিকুল ৩টি ও রুবেল ২টি উইকেট শিকার করেন।

তার আগে ঢাকার পক্ষে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন নাঈম হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দুই নাঈমই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই নাঈম হাসানকে আউট করেন শেখ মেহেদী হাসান। আরাফাত সানির শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ১৯ বলে ৯ রান করা নাঈম শেখ।

ঢাকার রানের চাকা সচল রেখেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তিনি ইনিংস বড় করতে পারেননি। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা দিয়ে মুশফিক সাজঘরে ফেরেন। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৩৭ রান। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা।

মুশফিক ফেরার পরে আকবর আলিকে সাথে নিয়ে ঢাকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ইয়াসির আলি রাব্বি। ৩১ রানে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন রাব্বি। মুগ্ধর এক ওভারে সংগ্রহ করেন ২২ রান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অর্ধশতক পূর্ণ করার পরে রাব্বির ব্যাটে গতি আরও বৃদ্ধি পায়।

রাব্বির ৬৭ রানের টর্নেডো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান ফরহাদ রেজা। বোল্ড হওয়ার আগে রাব্বি করেন ৬৭ রান। তার ৩৯ বলের ইনিংসটিতে ছিল ৯টি চার ও একটি চার। স্ট্রাইকরেট ১৭১.৭৯!

আকবরও খেলেন এক ঝড়ো ইনিংস। শেষ ৫ ওভারে রাব্বি ও আকবর মিলে তোলেন ৬২ রান। তারা দুইজনে গড়েন ৬১ বলে ১০০ রানের জুটি। আকবর অপরাজিত থাকেন ২৩ বলে ৪৫ রানে। এই তরুণ ব্যাটসম্যানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ঢাকা পেয়েছিল ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহ। রাজশাহীর পক্ষে মুগ্ধ শিকার করেন ২টি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বেক্সিমকো ঢাকা ১৭৫/৫ (২০ ওভার)
রাব্বি ৬৭, আকবর ৪৫*, মুশফিক ৩৭;
মুগ্ধ ২/৩৮।

মিনিস্টার রাজশাহী ১৫০/১০ (১৯.৫ ওভার)
ফজলে ৫৮, রনি ৪০, ফরহাদ ১৪;
মুক্তার ৪/৩৭, শফিকুল ৩/৩১, রুবেল ২/১৫।

বেক্সিমকো ঢাকা ২৫ রানে জয়ী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *