দেশকে অস্থিতিশীল করার নতুন ষড়যন্ত্র করছে সরকার: ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করার নতুন ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৬ ডিস্বের) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে নব্বইয়ের ছাত্রনেতারা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশকে শেষ করে দিয়েছে, ধবংস করে দিয়েছে। এখন নতুন করে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গতকাল কুষ্টিয়ায় বিএনপির অফিস ভাংচুর করেছে, সন্ধ্যার পরে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’

‘এটা গভীর চক্রান্তের নীল নকশার অংশ। বাংলাদেশে তারা আবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, উদোর-পিণ্ডি বুদোড় ঘাড়ে চাপিয়ে গণতন্ত্রের সৈনিকদেরকে তারা পিছনে ফেলে দিতে চায়, নির্যাতন করতে চায়। এখন যত অপকর্ম এটা আপনারা ছাড়া কে করতে পারেন? আপনারাই করতে পারেন’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে জাতিকে পরিত্রাণ করতে হবে, বের করে আনতে হবে। আমি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই, আমাদের গ্রামের মানুষেরাও কিন্তু শক্তি হারায়নি, সাহস হারায়নি। আপনি গ্রামে যাবেন, তাদের জিজ্ঞাসা করবেন। সবাই বলছে যে, কবে পরিবর্তন হবে, কবে ডাক আসবে?’

ফখরুল বলেন, ‘সেই ডাক আসছে। আমাদের তৈরি হতে হবে। এই আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নয়, উন্মুক্ত আকাশের মধ্যে, রাজপথে আমাদের বীর সৈনিকেরা যেভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন, যেভাবে সমস্ত অন্যায়কে পরাজিত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, অসুন্দরকে পরাজিত করে সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সেভাবে এগুতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, আমাদের নেতা অনেক দূরে। আমরা সৌভাগ্যবান যে, আমাদের নেতা দূরে থেকেও দলকে গড়ে তোলবার জন্য, দলকে সংগঠিত করবার জন্য কাজ করছেন। আর আমাদের নেত্রী নীরবে থেকেও আমাদের শক্তি যোগাচ্ছেন।’

‘আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে, তরুণরাই বদলায়, যুবকরাই বদলায়, সমাজ পরিবর্তন করে। আজকে মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আপনাদেরকেই আনতে হবে। এই ৬ ডিসেম্বর আমাদের আমান উল্লাহ আমানরা যে সাহস ও মেধা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরাও মেধা ও সাহস দিয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করবেন’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের এগুতে হবে। আপনারা কখনোই হতাশ হবেন না, আর কখনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না। দুটোই মনে রাখতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না আবার হঠকারীও হওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরে এগুতে হবে। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। মুহূর্তের মধ্যে গণতন্ত্র হয়ে যাবে না। নব্বইয়ে বিজয় আসতে দীর্ঘকাল সময় লেগেছে। এই পথ খুব বন্ধুর পথ, এই পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে। কোনো উপায় নেই।’

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী মাসে। ফিফটি ইয়ার্স- সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে এই সরকার। আমরাও করছি। আমাদের করা আর তাদের করার মধ্যে পার্থক্য কী? তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তারা আজকে আবার ক্ষমতায় বসে আছে। কিন্তু তারা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন স্বাধীনতা, কোন গণতন্ত্র? অন্যের গলা টিপে ধরার গণতন্ত্র, অন্যের কথা বলতে না দেওয়ার স্বাধীনতা, অন্যকে হত্যা করবার স্বাধীনতা, বিনা বিচারে হত্যার করবার স্বাধীনতা? যখন দেখি ইউরোপীয় ইউনিয়ন একইরকম চিঠি দিচ্ছে; যখন দেখছি যে, আন্তর্জাতিক টিভি-মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে যে, বাংলাদেশে বিনা বিচারে শত শত মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’

সাবেক ছাত্র নেতা আমিরুল ইসলাম আলীম ও শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, জহির উদ্দিন স্বপন, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান আসাদ, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আজিজুল বারী হেলাল, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।

পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এম আবদুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যফ্রন্টের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির হোসেন আলী খান হাসান, জাসাসের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ওলামা দলের শাহ নেসারুল হক ও মৎস্যজীবী দলের আব্দুর রহিম।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *