গণফোরামে ‘জটিলতা’ কাটেনি, ড. কামালকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম


আজমল হক হেলাল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দীর্ঘ দিন ধরেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে ভুগছে গণফোরাম। মাঝে শোনা গিয়েছিল, দলের দুই পক্ষের মধ্যেকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, বিভেদ মিটিয়ে সমমনা অন্য দলগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ খবর বলছে, সেই কোন্দল মীমাংসা হওয়া তো দূরের কথা, পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে ধাবিত হয়েছে।

এরই মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশ থেকে রীতিমতো এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে। আল্টিমেটামে বলা হয়েছে, এর আগে দলের এই অংশের কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ বাতিল ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরদিনই ‘চূড়ান্ত’ নেবে দলের একাংশ।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে ড. কামাল হোসেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠবে। অবশ্য ড. কামাল হোসেন আশাবাদী, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন-

গণফোরামে ‘জটিলতা’ কাটেনি, ড. কামালকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

গত ১৭ অক্টোবর এক সভায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আট নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন ড. রেজা কিবরিয়া। এই আট নেতা হলেন— মোস্তফা মোহসীন মন্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরী।

মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বে মূলত কেন্দ্রীয় এই নেতাদের অনুসারীদের নিয়েই গণফোরামে বিভক্তি দেখা দেয়। আরেক অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি কাউন্সিলও ডাকা হয়েছিল। পরে ড. কামাল হোসেনের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয় বলেও জানা যায়। সে কারণেই দুই অংশের পৃথক কাউন্সিল স্থগিত করে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন গণফোরামের দুই অংশের নেতারাই।

এরকম একটি পরিস্থিতিতে বর্তমানে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের দাবি, তাদের যেসব নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে সেই বহিষ্কারাদেশ বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে ড. কামালকে। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) মোস্তফা মোহসীন মন্টুর একাধিক নেতা সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, গত শনিবার (৫ ডিসেম্বর) তারা ড. কামাল হোসেনকে এই বিবৃতি দেওয়ার জন্য সাত দিন বা এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ড. কামাল বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হলে আগামী শনিবার (১২ ডিসেম্বর) তারা বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন অবশ্য সারাবাংলাকে বলছেন, জটিলতার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। ড. কামাল বলেন, আগামীকাল (বুধবার, ৯ ডিসেম্ব) দলের নেতাকর্মীরা আমার কাছে আসবেন। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব ঠিক করে নেব।’

মোস্তফা মোহসীন মন্টু অংশের দাবি অনুযায়ী পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে নেতাদের বহিষ্কারাদেশ বাতিল করবেন কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করি আগামীকাল আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেব। নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেই বিবৃতি দিয়ে দেবো।

ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের ওপর অবশ্য আস্থা রাখতে পারছেন না মন্টু গ্রুপের নেতাকর্মী। একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, তার (ড. কামাল) কথার ওপর আস্থা রাখা যায় না। কারণ তিনি এর আগেও এমন প্রতিশ্রুতি একাধিকবার দিয়েছেন। কিন্তু একবারও সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখতে পারেননি। এবারও যে তার পুনরাবৃত্তি হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা মোহাসীন মন্টু সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগামী শনিবারের মধ্যে ড. কামাল হোসেন আমাদের দেওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে ওই দিন বৈঠক করে আমরা আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

বৈঠকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়েই দলের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না— জানতে চাইলে মন্টু বলেন, বৈঠকে নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাই সম্মতি দিলে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

গণফোরামের এই প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়া হবে কি না— সেটি এই মুহূর্তেই বলছি না। আমরা আমদের দলকে সামনের দিকে নিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য সেটিই। নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে তার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামী ২৬ ডিসেম্বর গণফেরামের কাউন্সিল আয়োজনের ঘোষণা করেছিল মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশ। সেই কাউন্সিল সফল করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মন্টু।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: