latest

নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান ইমন


নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান ইমন

চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের আগে কতজন-ই বা চিনতো আনিসুল ইসলাম ইমনকে? ঘরোয়া ক্রিকেটেও খুব বেশি নামডাক ছিল না তার। তবে জহুরির চোখে রত্ন চিনতে ভুল করেননি রাজশাহীর হেড কোচ সরোয়ার ইমরান। বঙ্গবন্ধু কাপের ড্রাফট থেকে দলে টানেন ইমনকে। কোচের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন এই তরুণ। পুরাদস্তুর ব্যাটসম্যান হলেও নিজেকে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান ইমন।

নিজ জেলা নারায়ণগঞ্জে টেপ টেনিস দিয়ে ক্রিকেটের হাতেখড়ি ইমনের। ইচ্ছে ছিল বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। সে সুযোগ পাননি। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলার হয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তিনি। ছিলেন দলটির অধিনায়ক। সেখানে ২০১৬-১৭ মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে সুযোগ পান।

Also Read – টস জিতে ফিল্ডিংয়ে খুলনা, বাদ পড়লেন ইমরুল

প্রথম বিভাগেও নিজ ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছোটান ইমন। সে মৌসুমে ২টি সেঞ্চুরির সাথে অর্ধশতক হাঁকান ৩টি। সুযোগ পান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে তাকে দলে টানে উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। মৌসুম শেষে চার অর্ধশকের সাহায্যে নামের পাশে ৪২৪ রান জমা করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। মিডিয়াম পেসের বোলিংয়ে উইকেট নেন ৬টি। তখনই ইমনের খেলা দেখে মুগ্ধ হন কোচ সরোয়ার ইমরান।

এবার ডিপিএলে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ইমন। তবে করোনার কারণে এক রাউন্ডের বেশি খেলা হয়নি। যে একটি ম্যাচ খেলেছেন, সে ম্যাচে ৫৯ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। সবেমিলে ১৪টি লিস্ট-এ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ইমনের। তবে এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি তার।

এবার বঙ্গবন্ধু কাপের ড্রাফটে সুযোগ পেয়ে ইমনকে দলে টানে রাজশাহীর কোচ সরোয়ার ইমরান। ব্যাট হাতে আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে দুই অর্ধশতকের সাহায্যে ১৯৫ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেসার ইমন। তবে নিয়মিত বল হাতে নেওয়ার সুযোগ হচ্ছে না তার। এই সাত ম্যাচে চার দিন হাত ঘুরিয়েছেন, উইকেট নিয়েছেন ১টি।

ইমন চান অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উত্থানের গল্প জানিয়ে বিডিক্রিকটাইমকে ইমন বলেন, ‘গতবছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিপক্ষে ভালো খেলেছিলাম। সে সময় ইমরান স্যার আমাকে দেখেছিলেন। হান্নান স্যারও (রাজশাহী দলের ম্যানেজার) বিকেএসপিতে একটা ম্যাচ দেখেছিলের মোহামেডানের বিপক্ষে। তো ওখান থেকে পারফর্ম দেখে এবার আমাকে দলে নিয়েছেন তারা।’

‘বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দল পাওয়ার জন্য ইমরান স্যার বা হান্নান স্যার, তাদের সাথে ঐরকমভাবে আগে থেকে কথা হয়নি। প্রথম বিভাগ বা প্রিমিয়ার লিগ বলেন; আমি সুজন (খালেদ মাহমুদ) স্যার, সাইফুল স্যারদের তত্ত্বাবধানে খেলেছি। এবার টিম পাইলে পাওয়ার কথা ছিল ঢাকায়। কিন্তু তার আগেই ড্রাফট থেকে রাজশাহী আমাকে নিয়ে নিয়েছে।’- সাথে যোগ করেন তিনি।

বয়সের কোটা সবে ২৩ ছুঁয়েছে। এর আগে প্রিমিয়ার লিগ খেললেও যে দলগুলোতে তিনি খেলেছেন, সেখানে ছিল না তেমন কোনো তারকা ক্রিকেটারের উপস্থিতি। এবার জাতীয় দলের বেশকিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করছেন ইমরান। একই দলে আছেন তার স্বপ্নের তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলও। পুরো বিষয়টি ‘ড্রিম ফিলিং’য়ের মতো মনে হচ্ছে ইমনের কাছে।

ইমন জানান, ‘এটা স্বপ্নের অনুভূতি যেটাকে বলে। এখানে খেলোয়াড় বলেন, কোচ বলেন, অধিনায়ক বলেন সবাই আমাকে খুব ভালো সমর্থন দিচ্ছে। সবাই অনেক সাহায্য করছে। তো আল্লাহর রহমতে অনেক উপভোগ করছি।’

‘লং ওয়ে টু গো। এখনো আমার অনেক ভালো খেলতে হবে। তাদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছি। তো আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগছে। আসলে ভালো খেলতে হবে ধারাবাহিকভাবে। নিজের টিমের জন্য, নিজের জন্য ভালো খেলতে হবে।’– যোগ করেন তিনি।

প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের হয়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা। সে স্বপ্ন আঁকলেও এখনই ডানা মেলে উড়তে নারাজ ইমন। নিজের পা জোড়া মাটিতেই রাখছেন তিনি। টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ‘টুকটাক’ বল করার তকমা থেকে বের হয়ে নিয়মিত হাত ঘোরাতে চান। ইমনের স্বপ্ন, একজন প্রতিষ্ঠিত অলরাউন্ডার হওয়া।

ইমন বলেন, ‘আমার আপাতত ঐরকম (জাতীয় দলে) কোনো লক্ষ্য নেই। সব খেলোয়াড়ের ইচ্ছে থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিমে খেলার ইচ্ছে অবশ্যই আছে। কিন্তু এমনি তো আর সুযোগ হবে না। পারফর্ম করতে হবে। পারফর্ম করলে সুযোগ আসবে বলে আমি মনে করি। এজন্য ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আমি আমার বোলিংটাকেও চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমি যেটা পারি পারফর্ম করা। আমি বিশ্বাস করি পারফর্ম করলে সুযোগ একসময় আসবে।’

বঙ্গবন্ধু কাপে রাজশাহীর হয়ে খেলছেন ইমন। দলটির হয়ে ৩৩ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠ মাতাচ্ছেন তিনি। তার এই জার্সি নাম্বারের পিছনে আছে মজাদার এক গল্প, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে হবে। আমাদের এলাকায় একবার খেলছিলাম টেপ টেনিস বলে। সেই ম্যাচে আমি এক ওভার বল করে ৩৩ রান দিই। আমাদের নারায়ণগঞ্জের এক বড় (শিবলী) ভাই এই রান নিয়েছিলেন। তার কাছে এক ওভারে ৩৩ রান খাওয়ার পর থেকে এটি আমি আমার জার্সি নম্বর হিসেবে ব্যবহার করি।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *