বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের প্রতিবাদ জানালো সরকারি কর্মকর্তা ফোরাম


ডিএমপি নিউজঃ ‘জাতির পিতার সম্মান রাখবো মোরা অম্লান’ এই শ্লোগানে ‍কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাংচুর করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অল ক্যাডার এসোসিয়েশন। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) সরকারি কর্মকর্তা ফোরাম আয়োজিত এক সভায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম-বার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম-বার, ২৯ টি ক্যাডার এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দসহ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার ও নন ক্যাডার কর্মকর্তাবৃন্দ।

সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিকালে কিছু স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তির প্রাক্কালে এসেও রাষ্ট্র ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে তাদের বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টি স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু সাংবিধানিকভাবে আমাদের জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রাণের স্পন্দন। বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে মিশে আছে আমাদের আবেগ ও অনুভুতি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু ব্যতীত স্বাধীনতার ইতিহাস মিথ্যে। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বললে আমাদের প্রাণে লাগে। এদেশের মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন দ্বিমত থাকার কথা নয়। স্বাধীনতা বিরোধীরা হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কোন স্মৃতি রক্ষা করা যাবে না, ভাস্কর্য বানানো যাবে না। একটা কথা মনে রাখতে হবে এই দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্যকোন শক্তিকে আমরা কল্পনা করতে পারি না।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন সবাই এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা দেখছি, বারবার এ দেশটাকে টেনে হিঁচড়ে পেছনে নিয়ে যাওয়ার প্রবনতা। আমি প্রতিবাদের কথা বলব না। কারণ এখানে আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী ও রাষ্ট্রের অংশ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের হামলা আমরা অবশ্যই এদেশের প্রচলিত আইন এবং প্রচলিত যে বিধি আছে তার মাধ্যমে মোকাবিলা করবো। বঙ্গবন্ধু মানে হচ্ছে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু আমার দেশের সংবিধানের অংশ। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে এই দেশ দিয়েছেন, পতাকা দিয়েছেন, মানচিত্র দিয়েছেন, ভাষা স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিমন্ডলে উন্নয়নের যে ম্যাজিক হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করেছে তার সূত্রধর, কারিগর, বঙ্গবন্ধু শেখ  ‍মুজিবুর রহমান।  তাঁর উপরে হামলা সংবিধানের উপরে হামলা, রাষ্ট্রের উপরে হামলা, সরকারের উপরে হামলা এবং রাষ্ট্র অবশ্যই তার যে বিধি বিধান আছে তার মাধ্যমে কঠোর হস্তে মোকাবিলা করবে।

আইজিপি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারি হিসেবে রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ১৮কোটি মানুষকে নিশ্চিত করতে চাই এবং আজকে এই মঞ্চে দাড়িয়ে বলতে চাই, আমার দেশের স্বাধীনতা, আমার দেশের সংবিধান, আমার রাষ্ট্রের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। আমরা ১৮ কোটি মানুষ এবং রাষ্ট্র এটাকে মোকাবেলা করব। বলে রাখতে চাই রাষ্ট্র মহাপরাক্রমশালী, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ করার দুঃসাহস দেখাবেন না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ মানে হচ্ছে ১৮ কোটি মানুষের বিরুদ্ধাচারণ। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ সংবিধানের বিরুদ্ধাচারণ।

ড. বেনজীর আহমেদ আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ। আমরা যে মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে, আমাদের ‍পূর্বসূরীরা যে মূলমন্ত্রের উপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। আমরা সে মূলমন্ত্র মূলনীতিকে সংরক্ষণ করতে বদ্ধ পরিকর। রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের সকল কর্মচারী এ দায়িত্বের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। 

সভাপতির বক্তব্যে মূখ্য সচিব বলেন, আমরা এখানে এসেছি ঐক্যবদ্ধ হতে। সরকার আমাদের নিযুক্ত করেছেন প্রজাতন্ত্রের বা এদেশের মানুষকে সেবা করতে। আমরা জনগণের সেবক। এই সেবার জন্য সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২৯টি ক্যাডার সৃষ্টি করে আমাদের নিযুক্ত করেছে। আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা, কোথায়ও যদি কোন অন্যায় হয় তার প্রতিবাদ করা আমাদের দায়িত্ব। সংবিধানে জাতির পিতা রয়েছেন, আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা। আমাদের কাছে টুলস্ আছে, আমরাই প্রশাসন, পুলিশ, কৃষি, ডাক্তার, শিক্ষক আমরা সবাই এক। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে জাতির পিতার নামের অবমূল্যায়নের কোন সুযোগ নেই। আমরা বাংলাদেশের সকল ক্যাডার কর্মকর্তারা এখানে উপস্থিত থেকে প্রতিজ্ঞা করছি আমাদের জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি কোন অবমাননা হতে দিব না। কোন কিছুতে কারও মতপার্থক্য থাকলেও জাতির পিতার ক্ষেত্রে আমরা সকলে একত্রিত হয়েছি।

এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের ব্যানারে ‘জাতির পিতার সম্মান রাখবো মোরা অম্লান’ এই শ্লোগানে ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম-বার এর নেতৃত্বে একটি র‌্যালি উড়োজাহাজ ক্রসিং থেকে শুরু হয়ে বিআইসিসিতে গিয়ে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬ টি ক্যাডারের বিভিন্ন এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের বক্তব্য প্রধান করেন।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: