নীরব বিএনপি, ৩০ ডিসেম্বর ‘ঠাণ্ডা’-ই থাকছে রাজনীতির মাঠ


আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর সাতটি স্থানে একযোগে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাজনীতিতে ‘হঠাৎ’ উত্তাপ ছড়ালেও আগামী ৩০ ডিসেম্বর ‘ঠাণ্ডা’-ই থাকছে রাজনীতির মাঠ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই দিনটি ঘিরে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির। আপাতত তারা নীরব-ই থাকছে।

দলীয় সূত্রমতে, গত ১২ নভেম্বর ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের দিন রাজধানীর সাতটি স্থানে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ এবং এই ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে আসামি, বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং পাঁচজন কর্মী নিখোঁজ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে সবাইকে শান্ত থাকতে বলা হয়। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেকে এবং দলকে বিপদে না ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কয়েকটি ভার্চুয়াল সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমাদের বুঝে-শুনে এগোতে হবে। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’

জানা গেছে, দলের এই ‘বুঝে-শুনে’ চলা সিদ্ধান্তের সঙ্গে মোটামুটি সবাই একমত। সে কারণেই বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি বা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে রাজপথ ‘গরম’ করার মতো কোনো কর্মসূচি দেবে না বিএনপি। বরং দল ‘পুনর্গঠন ও অস্তিত্ব রক্ষার’ যে পলিসিতে এগোচ্ছে, সেটাই করে যাবে বিএনপি।

দলীয় সূত্রমতে, কেবল অস্তিত্ব রক্ষা আর দল পুনর্গঠনের জন্যই নয়, বিএনপির নীরব ভূমিকার পেছনে বৈশ্বিক মহামারি নোভেল করোনাভাইরাস অন্যতম কারণ। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দলটির এক ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী মারা গেছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের অবস্থা সংকটাপন্ন। স্থায়ী কমিটির অন্য দুই সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহুমুদ টুকুসহ বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত।

এমন পরিস্থিতিতে ৩০ ডিসেম্বর বা ৫ জানুয়ারি ঘিরে রাজপথে উত্তাপ ছড়ানোর মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি। তবে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিতে ভার্চুয়াল প্রতিবাদ সভা অথবা সীমিত পরিসরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারে দলটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনি সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স সারাবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা সবকিছুই তো সীমিত পরিসরে করছি। সুতরাং ৩০ ডিসেম্বর বা ৫ জানুয়ারি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে তেমন কিছু করার সম্ভবনা খুবই কম।’

‘তবে কর্মসূচি একেবারেই থাকবে না— এমনটি নয়। সীমিত পরিসরে মাঠ পর্যায়ে কিছু কর্মসূচি থাকতে পারে। আবার ভার্চুয়াল কর্মসূচিও আসতে পারে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি’— বলেন এমরান সালেহ প্রিন্স।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর বা ৫ জানুয়ারি নিয়ে দলীয় ফোরামের কোনো আলোচনা না থাকলেও ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস নিয়ে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েয়েছে বিএনপি। ১৬ই ডিসেম্বর সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যাবে। সেখান থেকে ফিরে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাবে তারা। এরইমধ্যে এসব কর্মসূচি পালনের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সারাবাংলাকে বলেন, ‘আপাতত আমরা ১৬ই ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে ভাবছি। চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে কর্মসূচি পালন করতে চাই।’

‘যেহেতু এসব জাতীয় দিবসে সরকার এবং সরকারি দলের প্রোগ্রাম থাকে, তাই তাদের সাথে সিডিউল মিলিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। আমরা সেই অনুমতি জন্য যোগাযোগ করছি। দেখা যাক কী হয়’— বলেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: