latest

দেশে ধর্মীয় আবরণের একটি ভাইরাস আক্রমণ করেছে: আমু


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে ধর্মীয় আবরণের একটি ভাইরাস আক্রমণ করেছে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, ‘আজকে যারা আস্ফালন করছে, তাদের আস্ফালন থাকবে না। অচিরেই তারা অতীতের মতো গহ্বরে চলে যাবে। আমাদের এই গণতন্ত্র স্বাধীনতাকামী শক্তির বিজয় কেতনই উড়বে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যাব, এটাই আজকে আমাদের শপথ।’

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় রাজনৈতিক আবরণ বলার কারণ তুলে ধরে আমু বলেন, ‘যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে, সেই থেকে এই দেশে যখনই এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যখনই কোনো আন্দোলন দানা বাঁধাবার চেষ্টা করেছে তখন অন্য শক্তিগুলি পরাজিত হয়। তখনি কিন্তু তারা এই ধর্মীয় আবরণের আশ্রয় গ্রহণ করে আসছে। শুধু তাই তাই নয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই সাম্প্রদায়িক শক্তি, তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় আবরণে রাজনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যহত করার জন্য আঘাত করার অগ্রসর হয়ে থাকে।’

আজকেও যখন আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছতে এগিয়ে যাচ্ছি। জাতির পিতার অবদান স্মরণ করে আমু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে লক্ষ্য নিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক চেতনায় বাংলাদেশ জাতি হিসাবে মাথা তুলে দাঁড়াবে এবং সেই কাজে যখন তিনি হাত দিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচিতে হাত দিলেন, সেই মুহূর্তেই তাকে কিন্তু সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল এবং হত্যা করে আবার ইতিহাসের চাকা পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে আমাদের দেশের সংবিধানে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোনো স্থান ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেটা পরিবর্তন করে এই দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরিবেশ ঘটানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এইভাবে ধর্মীয় শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা শুরু হয় এবং জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে প্রয়োগ করা, মন্ত্রীসভায় স্থান দিতে গিয়েই তাদের ব্যাপ্তী ঘটে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা ব্যর্থ হয়, তখনই কিন্তু ধর্মীয় আবরণ তাদের সহায়ক শক্তি হিসাবে এগিয়ে আসে ‘

‘বিগত দিনে হেফাজতকে আমরা লক্ষ্য করেছিলাম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য যখন বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছিল বারবার তখন কিন্তু হেফাজত এগিয়ে এসেছিল ঢাকা শহরে অবরোধ করে এই সরকারের পতন ঘটাবার জন্য। সুতরাং এই যে তাদের কৌশল এটা কিন্তু নতুন কোনো কাজ নয় বা এটা নতুন নয়। আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত জিনিস। সেইভাবেই এদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

‘আজকে বিএনপি এবং তাদের পাকিস্তানি প্রেমিক সমস্ত দলগুলো যখন ইতিহাসের গহ্বরে চলে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে, শেষ মুহূর্তে তাদেরকে রক্ষার জন্যই আজকে ভাস্কর্যের নামে তাদের এই আগমন। তারা এই ধর্মীয় শক্তি ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে আজকে আবার একটা জাগরণ সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়।’

‘চট্টগ্রামে তাদের নাকের ডগায় জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য। অথচ সেটা নিয়ে কোনো কথা বলতে শুনিনি। ভাস্কর্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। কিন্তু কোনোদিন কোনো ধর্মীয় দল থেকে এই ধরনের প্রশ্ন আসেনি’-বলেন আমু।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক পথে উন্নয়ন আর অগ্রযাত্রার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘চিহ্নিত রাজনৈতিক মোল্লাসহ দেশেবিরোধী ষড়যন্ত্রে ভাড়াটে খেলোয়াড়দের কোনো ছাড় নয়, কঠিন জবাব দিতে হবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, ‘সারাবিশ্ব কিন্তু আজ দিশেহারা করোনা ভাইরাসে। কিন্তু শেখ হাসিনা যে সাহস যুগিয়েছেন তাই এটাকে মোকাবেলা করতে পেরেছি এবং পারবো ইনশাল্লাহ। বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে যত ষড়যন্ত্র হোক অতীতের ন্যায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি পরাজিত করা। যারা পরীক্ষিত ও সাহসী সেইসব মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করে এই ষড়যন্ত্রকারীদেরকে মোকাবিলা করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, জাতীয় পার্টি জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ১৪ দল নেতা শরীফ নুরুল হক আম্বিয়া, ডা. শাহাদাত হোসেন, এস কে সিকদার, ওয়াজেদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ও জাকির হোসেনসহ অনেকে।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *