‘বিএনপি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের কাছেও যেতে দিচ্ছে না’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সারাদেশে চলমান দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্র ক্ষমতাসীনদের দখলেই রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের কাছেই ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তার।

ড. মোশাররফ বলেন, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, আজকের পৌরসভার নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা সকালে থেকেই আমাদের এজেন্টদের সেন্টারে যেতে দেয়নি, অনেক জায়গায় বের করে দিয়েছে। এমনকি বিএনপি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের কাছেও যেতে দিচ্ছে না তারা।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সম্মাননা বিষয়ক উপকমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ‘দখলে’র অভিযোগ তুলে ড. মোশাররফ বলেন, ক্ষমতাসীন দল প্রশাসনের সমর্থন নিয়ে গায়ের জোরে ভোটকেন্দ্র দখল করেছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও তারা একই কাজ করছে। দলীয় প্রার্থীদের এমপি বানানোর জন্য তারা যে কাজ করেছে, মেয়র হওয়ার জন্যও একই কাজ করছে। তারা এখন বলছে— এভাবে যদি আমরা এমপি বানাতে পারি, তাহলে এভাবে মেয়র হব না কেন?

নির্বাচনি ব্যবস্থাকে সরকার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ বলেন, ভোটকেন্দ্রের অবস্থা কী, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মুখ থেকেই আসছে— সত্যিকার ভোট হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নাকি দরজা খুঁজে পাবে না। আসলেই পরিস্থিতি তাই।

ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন ড. খন্দকার মোশররফ। তিনি বলেন, এমনিতেই মানুষ ভোট দিতে পারে না। এখন আবার মেশিনে ভোট। এই মেশিনের ভোটে দুরভিসন্ধি আছে।

ব্যারিস্টার অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নাল আবেদীন, ‍মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের উপদেষ্টা শাহ মো. আবু জাফরস অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শনিবার সকালে দ্বিতীয় ধাপে সারাদেশের ৬০টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানাভোটগ্রহণ চলবে। ৬০ পৌরসভার মধ্যে ২৯টিতে ইভিএম ব্যবহার করে ও ৩১টিতে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এই ধাপে মেয়রপ্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *