‘মেয়র তাপস আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী’


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই সিটির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে ‘ধানমন্ডি এলাকার গণমানুষের নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। শুধু তাই নয়, মেয়র তাপসকে ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী’ বলেও আখ্যা দেন নিউ মার্কেট থানার মিরপুর রোড ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসান লিটন।

সম্প্রতি ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংস্থাটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বক্তব্য দিলে তার প্রতিবাদে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সাঈদ খোকনের এমন অভিযোগ ও বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং কটূক্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে এই প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করে ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ। সেখানে আবুল হাসান লিটনের দেওয়া বক্তব্য এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আবুল হাসান লিটন বলছেন, ‘তাপস ভাই শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন। তিনি এই এলাকার (ধানমন্ডি) দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনসাধারণের নেতা। তাপস ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ তাপস ভাইকে নিয়ে ভাবে। তাই আমরা কোনো ব্যক্তির হয়ে নয়, একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষের পক্ষে কথা বলছি।’

আবুল হাসান লিটন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার এক হাতে সাঈদ খোকনের বিকৃত ছবি সংবলিত ফেস্টুন ছিল। তিনি আরও বলেন, সাঈদ খোকনকে পেলে ধানমন্ডিবাসী উচিত শিক্ষা দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হাসান লিটন সোমবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক, যেটা আমাদের আবেগের জায়গা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ না কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেবে। তাপস ভাই যেহেতু বঙ্গবন্ধু পরিবারের, বঙ্গবন্ধুর উত্তোরাধিকারী, সে হিসেবে আমরা বলতেই পারি যে তাপস ভাই আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী। তাপস ভাই আমাদের আবেগ-অনুভূতি, চেতনার জায়গা।’

ওই প্রতিবাদ সভার আহ্বানকারী ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক গোলাম রাব্বানী হিরুর কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সভায় আবুল হাসান লিটন নির্ধারিত বক্তা ছিলেন না। তিনি বিচ্ছিন্নভাবে এক সাংবাদিককে বক্তব্য দিয়েছেন। ভিডিওটি দেখেছি। এমন বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন নিউ মার্কেট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, আবুল হাসান লিটনের এই বক্তব্য এক ধরনের বেয়াদবি। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সাঈদ খোকনের বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামালসহ ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এ ছাড়া ধানমন্ডি থানা মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন, ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসের অনুসারী তারা।

এর আগে, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এ ডিএসসিসি পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ডিএসসি মেয়র শেখ তাপসের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ আনে সিটি করপোরেশনটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শেখ তাপস মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন

পরদিন ১০ জানুয়ারি সাঈদ খোকনের এমন বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ আখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান মেয়র শেখ তাপস। তবে ১১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর মুগদায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে মেয়র তাপস সাংবাদিকদের বলেন, সাঈদ খোকন যে ভাষায় কথা বলেছেন তাতে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মানহানি হয়েছে বলে মনে করি। এজন্য আমি মামলা করতে পারি

মেয়র তাপসের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আদালতে দুইটি মানহানির মামলার আবেদন করেন দু’জন আইনজীবী। তবে ১২ জানুয়ারি দুপুরে ডিএসসিসির নগর ভবনে সাকরাইন উৎসব পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ তাপস বলেন, সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে আমি কোনো মামলা করিনি। উনার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা হয়েছে বলে শুনতে পাচ্ছি। এর সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই। যারা মামলা করেছে, তাদের আমি অনুরোধ করব, মামলাগুলো যেন তারা প্রত্যাহার করে নেন। আর আমি এ বিষয়ে (সাঈদ খোকন) কোনো মন্তব্য কখনো করব না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক ও বর্তমান মেয়রের মধ্যে চলমান এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামও। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এর আগে সাঈদ খোকন একই দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সময়ের ব্যবধানে সব সমস্যার সমাধান হবে

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *