latest

পান্ট-পুজারার ব্যাটে চড়ে ভারতের সিরিজ জয়


পান্ট-পুজারার ব্যাটে চড়ে ভারতের সিরিজ জয়

প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই না পারা, ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর পুরো বিশ্বে হাস্যরস। নিয়মিত অধিনায়ক ও দলের অন্যতম স্তম্ভ বিরাট কোহলির প্রস্থান, সঙ্গে ইনজুরির ধকল। সব মিলিয়ে ভারতের পরাজয় অনেকের চোখেই হয়ে উঠেছিল স্পষ্ট। সেখান থেকে এক অনভিজ্ঞ ভারত লিখেছে এক অনন্য গল্প যা ক্রিকেট ইতিহাসে হয়ে থাকবে উজ্জ্বল। 

পান্ট-পুজারার ব্যাটে চড়ে ভারতের সিরিজ জয়

লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৮ রানের।  দলীয় সংগ্রহ ৪ রান থেকে শেষদিনের খেলা শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা আর শুভমান গিল। সকালেই প্যাট কামিন্সের চতুর্থ স্টাম্পে করা এক দারুণ ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষক টিম পেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত শর্মা। ২১ বলে ৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান রোহিত শর্মা।

Also Read – বারবার স্ট্রাইক রেটের প্রশ্নে বিরক্ত তামিম

দিনের শুরুতেই রোহিত শর্মার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। এরপর দলের হাল ধরেন শুভমান গিল এবং চেতেশ্বর পুজারা। প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তোলেন দুজন মিলে। গিলের ব্যাটে চড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে ভারত। ৯১ রান করে নাথান লায়নের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে থাকা স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন গিল, ভাঙে গিল-পুজারার ১১৪ রানের জুটি। ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

গিল ফিরে গেলেও দৃঢ়তার সাথে উইকেটে টিকে থাকেন চেতেশ্বর পুজারা। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সাঁড়াশি আক্রমণে আহত হলেও ফিজিওর সেবা নিয়ে ফের ক্রিজে এসে দাঁড়িয়েছেন পুজারা। তার প্রতিজ্ঞা আর মজবুত মানসিকতা বেশ ভুগিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে আজিঙ্কা রাহানেকে সাথে নিয়ে ৩৫ রান যোগ করেন পুজারা। বলের সাথে তাল মিলিয়ে রান তুলছিলেন রাহানে। ২২ বলে ২৪ রান করে প্যাট কামিন্সের শর্ট বলে ফিরে যান রাহানে। এরপর রিশাভ পান্টের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়েন পুজারা। পুজারার এক দুর্দান্ত ইনিংসের ইতি টানেন কামিন্স। ২২১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান পুজারা। এ ইনিংসের পথে গুনদাপ্পা বিশ্বনাথকে ছাড়িয়ে টেস্টে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় প্রথম দশে প্রবেশ করেন তিনি।

পুজারা সাজঘরে ফেরার পর দ্রুত ফিরে যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। জয়ের জন্য দ্রুত রান তুলতে গিয়ে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ক্যাচ দেন ওয়েডের হাতে, পরিণত হন প্যাট কামিন্সের চতুর্থ শিকারে। আগারওয়ালের বিদায়ের পর পান্টের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

শেষ দশ ওভারে জিততে ৫৩ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চড়াও হতে থাকে ভারত। প্যাট কামিন্সের করা এক ওভারে ছক্কা ও চার হাঁকান ওয়াশিংটন সুন্দর। পরের ওভারে লায়নের বল দুইবার সীমানাছাড়া করেন পান্ট। পাঁচ ওভারে ৩৮ রান সংগ্রহ করে ফেললে দিনের শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ১৫ রান দরকার হয় ভারতের।

পান্ট ও সুন্দরের ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন লায়ন। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন সুন্দর। পরের ওভারে হ্যাজলউডের বলে চার মেরে দলকের জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান পান্ট। চার মারার পর জীবনও পান পান্ট। যদিও এরপরের বলেই বিদায় নেন শার্দুল ঠাকুর। দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়া দুই উইকেট নিলেও ম্যাচ তখনও ভারতের মুঠোয়। হ্যাজলউডের বলে এক দারুণ ড্রাইভ করে বাউন্ডারি মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন পান্ট।

এ ম্যাচ জিতে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখল ভারত। এ নিয়ে টানা তিনবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল ভারত। ৩২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতা ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ৩৬৯/১০,  ১১৫.২ ওভার এবং ২৯৪/১০, ৭৫.৫ ওভার
ভারত ৩৩৬/১০,  ১১১.৪  এবং ৩২৯/৭, ৯৭ ওভার


বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *