latest

‘ভ্যাকসিন কার্যক্রম খালেদা জিয়াকে দিয়ে শুরু হোক’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কামরুল হাসান নাসিম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বলতে গেলে এক রহস্যপুরুষ! ২০১৫ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন, ঠিক সেই সময় বিএনপি পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসেন তিনি।

এর আগে পরে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার জন্ম দেন এই তরুণ রাজনীতিক। ইদানিং তিনি ব্যস্ত চলচ্চিত্র-প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, লেখা-লেখি ও সাংবাদিকতা নিয়ে। কিন্তু রাজনীতি থেকে একেবারে দূরে সরে যাননি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মাঝে-মধ্যেই কথা বলেন। সে সব কথা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক লাইভ অথবা ফেসবুক নিউজ ফিডে ভেসে বেড়ায়।

সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ভ্যাকসিন। ভারত থেকে উপহারের ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসার পর থেকেই এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মতে জনমনের সংশয় দূর করার জন্য ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উচিত!

কিন্তু বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম হাঁটলেন উলটা পথে। তিনি বলতে চাচ্ছেন— ‘ভ্যাকসিন কার্যক্রম বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে শুরু হোক।’

সোমাবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া কামরুল হাসান নাসিমের পোস্ট হুবুহু তুলে ধরা হলো।

‘আমরাও যেন কেমন! ভুলতেই বসেছি বিশেষ এক ব্যক্তি সত্তাকে। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- ‘বিএনপি’ মুখে মুখে তার মুক্তি চাইছে। কিন্তু, কার্যত চাইছে কি? চাইলে সভা-সমাবেশ তথা আন্দোলন নেই তো! যদিও আমাদের উচিতই হবে প্রথমত প্রতিজ্ঞা করা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মোক্ষম সময়। বাংলাদেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে পারব— এমন চিন্তায় পরিবেষ্টিত হয়ে রাজনীতি করার মধ্য দিয়েই আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ দল হয়ে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষমতাসীন দলকে বলতে হবে, তোমরাও শুধরাও, রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। কিন্তু, তা করছেও না। কি হচ্ছে দলে তা সবাই কম বেশি জানেও। অথচ, এই সেই বেগম জিয়া, যার স্তুতিতে ভেসে যেয়ে দলের নেতৃস্থানীয় চরিত্রসমুহ কি গালভরা শ্লোগান শোনাত! আপসহীন নেত্রী! দেশমাতা! কত কিছু!

বাংলাদেশের দুষ্টু ও অশিক্ষিত মানুষগুলো এই বেগম জিয়াকে ভালও বাসত। আমি তাকে প্রথম ‘দুষ্টু মা’ বলে সম্বোধন করার পর কয়েক বছর পর তারা (দলের সমর্থক) ভান ধরলো, তাকে ‘মা’ বলেও ডাকবে! ক’দিন লোক দেখানো মা ডেকে আবার বসন্ত ফুরিয়ে এখন শীতার্ত অনুভূতিতে বাস করে সকলেই কম্বলের ভেতরে। মা হওয়া কঠিন, ওই বলয়ের একজন শেখ হাসিনার চেহারা ও কর্মে চিরন্তন বাঙালি মায়ের ছায়া কায়া দেখা যায়। তাই বলব, বেগম খালেদা জিয়াকে ‘ম্যাডাম’ করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। গরীব দেশের ধনী নেত্রী, গোবরে চাইনিজ টগর! পল্লীর উঠোনে রানী ভিক্টোরিয়া!

এই ভিক্টোরিয়া হতে গিয়েই আজ তিনি কারাগারের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দেশের সবচেয়ে অভিজাত এলাকার সেই স্থাপনায় ফিরে এসেছেন। আপস করে বলছেন, আমাকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চিরায়িত কক্ষের বিছানায় নিদ্রায় থাকতেই হবে বন্ধু!

১৯৯১ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলে এই বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। দেখাতে পেরেছিলেন, দ্যাখো, আমি কত জনপ্রিয়! বামনের দেশের পছন্দে আমি ছাড়া আর কে নেত্রী রে! ঠিকই আছে। তিনি প্রবল জনপ্রিয়। আজকের শেখ হাসিনা আর বেগম জিয়ার তুলনা করা বোকামি হলেও তিনি কি জনপ্রিয় নন? এখোনো মনুষ্য প্রাণের ছাগল শ্রেণির কাছে তিনিই অধিক জনপ্রিয় কি না তা নিয়ে গবেষণার খোরাক আছে।

কোভিড-১৯ এসেছিল, চলছে। বৈশ্বিক মহামারি রুখতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কত উদ্যোগ, কত প্রচেষ্টা! কি কারণে কোথা হতে কোভিড এলো, তা না জানাতে পারলেও রাজনৈতিক মার্কেটে এখন সুশীল ইনজেকশন নয়, খোদ করোনার জন্য ভ্যাকসিন এসে হাজির। সাথে সাথে মুচকী হেসে বিএনপির মুখপাত্ররা এবং কিট নিয়ে তুলকালাম করা একজন বিদগ্ধজন বলে বসলেন, এই ভ্যাকসিনের যাত্রাটা প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে শুরু হোক। প্রস্তাব মন্দ নয়! কিন্তু, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিপুল জনপ্রিয়তা যার পুঁজি— সেই বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে পারলে সব কুল রক্ষা হয় বলে মত আমার।

কীভাবে? এক, যেহেতু দেশের বড় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাবি, তিনি অধিকতর জনপ্রিয়। তাহলে বেগম জিয়া শুরু করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনশ্রেণি সাহস ও আগ্রহ দেখাবে। দুই, এতে করে রাজনৈতিক সম্প্রীতির উদাহরণে থাকা হল। তিন, আজকের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে তিনি বয়সেও জ্যেষ্ঠ এবং তার (বেগম জিয়া) স্বাস্থ্যগত দিক আগলিয়ে রাখার দায়িত্বও সরকার দলের ওপর পড়ে। চার, রাজনৈতিক বাতাসে আবার বেগম জিয়া খানিকটা আলোচনায় চলে আসতে পারলেন, তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের একটা সুযোগ তৈরি হল। শক্তিশালী একটি ভূখণ্ডের সাবেক দুর্বল শাসক হলেও তিনিই তো ম্যাডাম হতে পেরেছিলেন, ইতিহাসে এমন কৃষ্টিকে বড় করে দেখবার সুযোগও আছে।’

কামরুল হাসান নাসিম
বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা

সারাবাংলা/এজেড





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *