সবাই নিজের মতো খেলে দিয়ে এসেছে : পাপন


সবাই নিজের মতো খেলে দিয়ে এসেছে : পাপন

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলকে ধবলধোলাই হতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ও দলীয় কৌশল, পরিকল্পনায় ঘাটতি দেখে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার এলপিএল আয়োজনের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান পাপন

গত ছয়টি টেস্ট ম্যাচের কেবল একটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এবং বাকি পাঁচটি ম্যাচেই বাজেভাবে হেরেছে। জয় পাওয়া একমাত্র ম্যাচটি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার আগে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন সদস্য আফগানিস্তানের কাছেও হেরেছিল টাইগাররা। ওই সময় থেকেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স গ্রাফ নিচের দিকে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন পাপন। ম্যাচ শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন,

Also Read – হোয়াইটওয়াশ করে মানুষকে ভুল প্রমাণ করতে পেরে গর্বিত ক্যারিবীয় অধিনায়ক

‘এটা শুরু হয়েছে আফগানিস্তান সিরিজ থেকে। এর আগে এরকম দেখিনি। আফগানিস্তান সিরিজ দেখে আমি খুবই হতাশ ছিলাম। বলেছিলাম ওটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে দুইটা টেস্ট ম্যাচ দেখলাম। দুটো ম্যাচই আমরা অত্যন্ত খারাপ খেলেছি। প্রথম ম্যাচে ভাগ্য খারাপ ছিল- এমন কিছুই না। আমরা খুবই বাজে ক্রিকেট খেলেছি, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে চার শতাধিক রান করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসেই পেয়েছিল ১৭১ রানের লিড। কিন্তু সেই ম্যাচও জিততে পারেনি স্বাগতিকরা। দেশের মাটিতেও এমন ম্যাচ হাতছাড়া কর বড় সমস্যা বলে মনে করেন বোর্ড সভাপতি। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের জন্যই এমন হয়েছে বলে তার পর্যবেক্ষণ।

পাপন বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে ১৭১ লিড নিয়েও দেশের মাটিতে সেই ম্যাচ ধরে রাখতে পারি না, এটা খুবই বড় সমস্যা। আবার এমনও না যে স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে খুব দক্ষ এমন দলের বিপক্ষে খেলেছি। বলতে গেলে ওরা একটা নতুন দল। একটা না, অনেক সমস্যা আছে। যেমন প্রথম ইনিংসেই মনে হচ্ছিল আমরা ম্যাচ ছেড়ে দিচ্ছি।’

সবাই নিজের মতো খেলে দিয়ে এসেছে  পাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেভাবে উইকেট দিয়ে আসি, এটা আমি কোনো দলে দেখিনি। টেস্ট খেলতে গিয়েও একাধিক ক্রিকেটার বারবার উইকেট দিয়ে আসছে এটা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। একটা ভালো বলে আউট হতেই পারে। যেমন মুশফিকের বলটা টার্ন করেছিল অনেক। কিন্তু বাকি যে উইকেটগুলো, ওগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও করেন অর্ধশতক। দ্বিতীয় ইনিংসেও জয়ের আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ছিলেন ইনিংসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানকারী। তরুণ ক্রিকেটার মিরাজের ব্যাটিং একপাশে রাখলে অন্যদের অবদান আর চোখে পড়ে না পাপনের। মিরাজের পারফর্মে বিসিবি সভাপতি সন্তুষ্ট হলেও বাকিদের পারফর্মে যে মোটেও সন্তুষ্ট হননি সেটা তার কথায় স্পষ্ট হয়েছে।

‘একটা জিনিস দেখেন, আমাদের মেহেদী হাসান মিরাজ যদি প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরিটা বাদ দেন, এই টেস্টেও তার যে ব্যাটিংটা বাদ দেন তাহলে আমাদের আর রান কোথায়? আমাদের দলে তো আহামরি কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই খেলোয়াড়রাই তো খেলে। তাহলে রান কোথায়?’

এই সিরিজ জুড়েই বাংলাদেশ দলের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না বলে মনে হয়েছে পাপনের। ম্যাচে টাইগাররা কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বাইরে থেকে তার মনে হয়েছে যে ক্রিকেটাররা পরিকল্পনা ছাড়াই নিজের মতো করে খেলে মাঠ ছেড়েছে।

পাপনের ভাষ্যমতে, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো কিছুই ঠিক হয়নি। প্রত্যেকটা ম্যাচের আগে একটা কৌশল সাজাতে হয়। এমনকি প্রতিটা সেশনের আগেও থাকে। কিন্তু এখানে কৌশল, পরিকল্পনা কিছুই ছিল না। সবাই নিজের মতো খেলে দিয়ে এসেছে। আমি বিশেষজ্ঞ না, কিন্তু বাইরে থেকে দেখে এটা মনে হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *