‘সরকার একুশের চেতনা ভূ-লুণ্ঠিত করেছে’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘গায়ের জোরে’ ক্ষমতায় থাকতে সরকার একুশের চেতনা ভূ-লুণ্ঠিত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরের প্রাক্কালে আমরা বেদনার সাথে বলতে বাধ্য হই যে, একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার প্রত্যাশা আজকে ভু-লুণ্ঠিত। কারা ভু-লুণ্ঠিত করেছে? শুধুমাত্র গায়ের জোরে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে, একুশের চেতনা ভূ-লুণ্ঠিত করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই, গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতা, দলীয়করণ— এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যে, দেশে নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-গুম-খুন, চাঁদাবাজী-টেন্ডারবাজী-ক্যাসিনোবাজী, দুর্নীতিসহ হেন কোনো অপকর্ম নাই, যা বাংলাদেশে হচ্ছে না।’

বিরোধী দলকে দাবিয়ে রাখার জন্য সরকার সব কিছু করছে অভিযোগ তুলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখের ওপরে মামলা, ৩৫ লাখের ওপরে আসামি। গুম-খুন-বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার এই দলের নেতা-কর্মীরা। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ সেই সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। যদি ভাষা আন্দোলন সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের স্বাধীনতা সঠিক হয়ে থাকে তাহলে এদেশে গণতন্ত্র আমাদেরকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে, জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা যে ভাষার জন্য লড়াই করেছি, যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, বিজয় আমাদের সূচিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা এখনো অর্জিত হয়নি, সার্বভৌমত্ব এখন হুমকির মুখে। আমি বলতে চাই, সকলকে কাজে-কর্মে সক্রিয় হয়ে সামনে আসতে হবে। আপনারা যদি আসেন, আমরাও সামনে রেখে কিছু একটা করতে পারি। এই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সরকারকে আর বেশিদিন ক্ষমতায় রাখা যাবে না। তাহলে আমার আম-ছালা সবই যাবে, দেশও যাবে, স্বাধীনতা-সারবভৌমত্বও যাবে আর ভাষাও যাবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন যেমন আমাদের ভাষার অধিকার তেমনি শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল স্বাধীনতা প্রাপ্তি। যেই স্বাধীনতার আড়ালে ছিল একটি চিন্তা- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা আমরা এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে বসবাস করা আর পরাধীন দেশের নাগরিকের সঙ্গে খুব একটা আলাদা নয়।’

ড. মঈন খান বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন কারা করেছে, সেটা আমরা সবাই জানি। আজকে নতুন নতুন নাম শুনি, তারা নাকী একু্শে ভাষা আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা পালন করেছিলেন। আমি তাদের নাম উল্লেখ করতে চাই না। শুধু এইটুকু বলব যে, জোর করে ইতিহাস লেখা যায় না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান বক্তব্য রাখেন।

সারাবাংলা/এজেড/এমআই





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *