পট পরিবর্তনের অপেক্ষায় জাপা, কঠোর হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে!


আজমল হক হেলাল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হলেও অনেকের মতেই জাতীয় পার্টি সরকারের ‘বি টিম’। দলের চেয়ারম্যানসহ কিছু নেতাকর্মী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরকারবিরোধী কিছু বক্তব্য দিলেও সংসদে কেউ কেউ সরকারের গুণগান গেয়ে থাকেন— এমন অভিযোগও অনেকের। খোদ দলটির অনেক নেতাকর্মীই তাদের ‘প্রকৃত’ বিরোধী দল বলতে রাজি নন। কিন্তু এবার সরকারে বিরুদ্ধে ‘কঠোর অবস্থানে’ যাওয়ার কথা বলছেন দলটির নেতারা। আর পরবর্তী সময়ে কোনোভাবে সরকারের পরিবর্তন হলে জাপা যেন নতুন সরকারের অংশীদার হতে পারে, তার জন্যও চলছে নানান তৎপরতা।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যা করতে পারেননি এবার তা-ই করার চেষ্টায় রয়েছেন জিএম কাদের। এ জন্য তিনি তার কর্মকৌশলের অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলছেন। এমনকি স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের অপেক্ষায়ও রয়েছেন তিনি। রাজনীতি কিংবা রাজনীতির বাইরে কোনো মেরুকরণ সৃষ্টি হলে সেদিকে দল নিয়ে ঝুঁকে পড়বেন জাপা চেয়ারম্যান। এছাড়া রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না হলে ক্ষমতার শরিক হতে ক্ষমতাসীনদের কাছে মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে ১২ জন সদস্য এবং নির্বাচনে আসন সংখ্যা ৭০টির অধিক চেয়ে নেবেন। এ জন্য আগে থেকেই চুক্তিপত্র পাকাপোক্ত করতে চান তিনি। দলটির একাধিক সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন, ‘আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে সেটিকে স্বাগত জানাব (একই উক্তি তিনি সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছেও করেন)। তিনি বৈঠকে আরও বলেন, ‘দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হত্যা মামলাসহ অনেকগুলো মামলা ছিল। এজন্য তিনি মুক্তভাবে রাজনীতি করতে পারেননি। আমি মুক্ত, আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। জাপা কারও লেজুরভিত্তিক রাজনীতি করবে না। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার টার্গেট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। এজন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তত জাপা।’

ওই বৈঠকে জাপা চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের আরও বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে চরমপন্থা- বিশেষ করে আইনসিদ্ধ নয় এমন সংগঠন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে এই শক্তি বড় কোনো অঘটনও ঘটাতে পারে। যা কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ কামনা করে না। তাই জনগণের স্বার্থে ও দেশের কল্যাণে যেকোনো ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে থাকবে জাপা।’ এসব বিষয় নিয়ে জিএম কাদেরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘পট পরির্বতন নিয়ে কথা বলতে চাই না। নিউজ সর্ম্পকে কিছু জানতে হলে জালালির (প্রেস সেক্রেটারি) সঙ্গে কথা বলুন।

তবে দলের মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলু বিষয়ে কৌশলে বলেন, ‘জিএম কাদের হয়তো বলতে চেয়েছেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পট পরির্বতন হলে জাতীয় পার্টি স্বাগত জানাবে। রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে পট পরির্বতন সর্ম্পকে কিছু বলতে চেয়েছেন কিনা সেটি আমার জানা নেই। তারপরও রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে কিছু হলে বা ঘটলে সেক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব।’

পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলব। জনগণের স্বার্থকে বড় করে দেখব। এক্ষেত্রে কারও সঙ্গে আপোষ নেই।’ বিএনপির সঙ্গে আপনাদের যোগাযোগ আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আপাতত নেই। তবে জনগণের জন্য যা যা করতে হয় তা করা হবে। ভবিষ্যতে কী হবে তা এই মুহূর্তে চিন্তা করছি না।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জাতীয় পার্টি নানা ধরনের আন্দোলনের কর্মসুচি পালন করবে। এক পর্যায় আমরা সরকারের বিরুদ্ধে হার্ডলাইন কর্মসূচিতে যেতে পারি।’

এ সর্ম্পকে জাপা দলীয় প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্য বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যা করতে পারেননি জিএম কাদের সেটি করার চেষ্টা করছেন। পারবেন কিনা জানি না। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিএম কাদের যেসব উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন তা সফল না হলে দলটির অনেক ক্ষতি হতে পারে। কারণ জাপার সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছি বলে আমরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আছি। প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে ছিলাম বলে এসব সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় জাতীয় পার্টির অবস্থা কি হতো?’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *