latest

আ.লীগ ১৫৬, স্বতন্ত্র ৩০, বিএনপি ১০


গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সারাদেশে ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে চার ধাপে ২০১টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ৩১টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম চার ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৮০ শতাংশ মেয়রপ্রার্থী জয় পেয়েছেন। বাকি ২০ শতাংশ মধ্যে ১৫ শতাংশ স্বতন্ত্র এবং ৫ শতাংশ মেয়রপ্রার্থী বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

ইসি সুত্র জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে চার ধাপে অনুষ্ঠিত ২০১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৫৬টি পৌরসভায় বিজয়ী হয়েছেন। বিপরীতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে কেবল একটিতে জয়লাভ পেয়েছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩০টিতে এবং বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১০টি পৌরসভায় জয়লাভ করেছেন। তবে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিতদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। চার ধাপের পৌরসভায় নির্বাচনে গড়ে ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘চার ধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি না থাকলেও প্রতিটি ধাপেই ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। এই তেলেসমাতিটা কী? তেলেসমাতিটা হলো জাল ভোট, কারচুপি ও ইভিএম। তেলেসমাতিটা হলো প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ।’

তিনি বলেন, ‘ইভিএমে যা দেখাতে চায় তাই দেখানো যায়। অনেকে এও বলেছেন ইভিএমেও আগের রাতে ভোট দেওয়া হয়েছে। ইভিএম করা হয়েছে মূলত জাল ভোট বন্ধ করার জন্য। এখন দেখা যাচ্ছে ইভিএমেও জাল ভোট হচ্ছে। ফলে এসব নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেবল জনগণের অর্থেব অপচয় হচ্ছে।’

তবে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে ভোটের উপস্থিতি বাড়ছে। নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন সেটা বড় কথা নয়। আসল বিষয় হলো- নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারছে কিনা। পৌরসভা নির্বাচনে জনগণ ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’

প্রথম ধাপে পৌরসভা নির্বাচন

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ২৩টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে গড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পড়ে। ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ২৩ পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌরসভায়। এখানে ভোট পড়েছে ৮৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড পৌরসভায়। এই পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। প্রথম ধাপের ২৩ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ১৮টিতে, বিএনপি দুটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটিতে জয়লাভ করে।

দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন

গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনে গড়ে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট পড়ে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৬টি পৌরসভায় জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে চারটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১৪টি পৌরসভার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আটটিতে, বিএনপি চারটি, জাতীয় পার্টি একটি এবং জাসদ একটি পৌরসভায় জয়লাভ করেছেন।

তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচন

গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৬৩টি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৪৬টি পৌরসভায় জয়লাভ করে। এর মধ্যে দুইটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি ১৭টি পৌরসভার মধ্যে স্বতন্ত্র ১৪টিতে, বিএনপি তিনটিতে জয়লাভ করেছে। তৃতীয় ধাপে নির্বাচনে গড়ে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচন

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে ৫৫ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে বরিশালের বানারীপাড়ায় ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৪৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। চতুর্থ ধাপে ৫৫ পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৬ জন, বিএনপির একজন ও পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। বাকি তিনটির ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। প্রথম ধাপে গত ২৮ ডিসেম্বর ২৩টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভা, ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬৩টি পৌরসভা এবং সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে ৫৫ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সারাবাংলা/জিএস/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *