latest

তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন: আমু


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন সরকার গঠন করার কারণে যারা ভাবছেন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হবে, তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বলয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনোদিন দেশীয় ভীত কাঁপানো যায় না। যদি পায়ের নিচে মাটি না থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি শক্তি ক্ষমতায় বসাতে পারে না। সাময়িকভাবে হয়তো ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কিছু একটা করা যায়, কিন্তু সেটা টিকে না। সেটার প্রমাণ বারবার হয়েছে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, আমাদের এই ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তার আন্দোলন। এটি বঙ্গবন্ধু ধারণ করেছিলেন। প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যাদের নাম সংযুক্ত আছে ভাষা আন্দোলনে, যারা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন, তারা কিন্তু সেটাকে ধারণ করতে পারেননি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেটা ধারণ করে ধাপে ধাপে জাতীয়তাবাদকে শাণিত করে পরববর্তী সময়ে ছয় দফা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।

তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন: আমু

তিনি বলেন, অন্য যারা দাবিদার, তারা কিন্তু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, পদচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি কিন্তু ওই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষে উপনীত হয়েছেন।

আমির হোসেন আমু আরও বলেন, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই স্বাধীনতার প্রথম দিকে যে ষড়যন্ত্র, তা স্বাধীনতার পরও অব্যাহত রয়েছে। ১৯৭৭ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর যখন কারাগারে বন্দি, কারাগারে বসে দেখতে পেলাম— জেনারেল নিয়াজি লন্ডনে বসে একটি প্রেস কনফারেন্সে করেছিলেন। সেই প্রেস কনফারেন্সে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছিলেন— আমরা চলে এলেও আমাদের ছেলেরাই দেশ শাসন করেছে। আমাদের ছেলেদের হাতেই আছে বাংলাদেশ।

‘সুতরাং এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না— বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই দেশের শাসনভার তারা নিয়েছিলেন এবং তারা দেশটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন,’— বলেন আমু।

তিনি আরও বলেন, আজ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এত বিষেদাগার কেন? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র কেন? তার কারণ একটি— যে কারণে ১৫ আগস্ট, সেই একই কারণে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষেদাগার এবং ষড়যন্ত্র। এটা তার সরকারের বিরুদ্ধে নয়, এটা তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মানে হলো— তাকে শেষ করতে পারলেই সরকার শেষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শেষ। তিনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এই অগ্রযাত্রা শেষ। সুতরাং আজ তাই তাকে ঘিরে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

বিএনপির উদ্দেশে আমু বলেন, তারা বলে আমরা ভারতের দালাল। অথচ ভারতে যখন নরেন্দ্র মোদি প্রথম সরকার গঠন করলেন, তারা বগল বাজিয়ে হাততালি দিতে শুরু করলেন। তারা আনন্দে নাচতে আরম্ভ করলেন। তারা ভাবলেন, এবার আওয়ামী লীগের পতন হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রইল। ওনারা এখনো বলে, আমরা ভারতের দালাল।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, আজ যখন ট্রাম্প চলে গেলেন, বাইডেন ক্ষমতায় এলেন, তারা আবার বগল বাজাতে শুরু করলেন। তারা বলছেন, এবার আওয়ামী লীগ শেষ! কিন্তু এবারেও তাদের সেই চেতনা ভঙ্গ হবে। এখনো তারা বুঝতে পারেনি— তারা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই আছে, সেই তিমিরেই থাকবে।

‘তাই আজও যারা মনে করতে পারেন যে অমুক দেশের সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হবে, যারা মনে করেন অমুক জায়গার পতনের সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হবে, তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। অচিরেই তাদের ঘুম ভাঙবে। অচিরেই তারা আবার বুঝতে পারবেন, তারা অনেক ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছেন,’— বলেন আমির হোসেন আমু।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি,  জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগের সভাপতি এস কে সিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের নেতারা।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *