‘নির্বাচন বর্জন বিএনপির নেতিবাচক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে’


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি তাদের নেতিবাচক অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে আগাম সরে দাঁড়ানোর অর্থ— তারা তাদের নেতিবাচক অটল অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে জানান দিলো। কারণ তারা জানে, জনগণ তাদের ভোট দেবে না।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুক্ত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাদেশে পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল সমর্থনের মধ্য বিজয়ী করেছে। অন্যদিকে বিএনপিকে করেছে প্রত্যাখান। গতকালও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মাত্র একটিতে জয়লাভ করেছে, বাকি সব পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আজ দেশের মানুষ এটাই প্রমাণ করেছে— তারা উন্নয়নের পক্ষে, তারা অর্জনের পক্ষে, তারা শেখ হাসিনার সততার রাজনীতির পক্ষে।

‘বিএনপি নির্বাচনেও জনগণের সাড়া পায় না, আন্দোলনে সাড়া পায় না। অপরাজনীতির কারণেই ভোটাররা তাদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। তাই তারা ষড়যন্ত্রের চোরাগলির পথ খুঁজছে,’— বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের বিএনপি প্রার্থীদের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভবিষ্যতে ইউপি নির্বাচন আসছে। কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচন হবে। তার আগেই বিএনপি মহাসচিব ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এর অর্থ কী দাাঁড়ায়? তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকাশ ধারাকে ব্যাহত করতে চায়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকশিত হোক, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক— এগুলো তারা চায় না।

তিনি বলেন, তাদের পথ গণতন্ত্রের পথ নয়। তাদের পথ হচ্ছে ষড়ন্ত্রের পথ। সেটাই তারা আবারও নতুন করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।

সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কথা তুলে ধরে কাদের বলেন, দেশের বিভিন্ন চলমান প্রকল্প আজ দৃশ্যমান। তাই দেশের মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে। বিএনপি আমলে তারা একটাও উন্নয়নের সফলতা দেখাতে পারেনি। তাই তাদের রাজনীতিতে এখন খরা লেগেছে। বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিতে ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি আরও বলেন, দেশে এখন আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই। শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অর্জনের রাজনীতি সরকারবিরোধী রাজনীতিকে ইস্যু সংকটে ফেলে দিয়েছে। বিএনপি আন্দোলনের কোনো যুৎসই ইস্যু খুঁজে না পেয়ে ডুবন্ত মানুষের মতো এটা-সেটা আঁকড়ে ধরার অপচেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই উল্লেখ করে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আমাদের প্রত্যেকের বিকল্প থাকলেও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তেমনি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতেও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আস্থার সোনালী দিগন্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অভিযাত্রায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে আসতে পেরেছে, যা শেখ হাসিনার সাফল্যের মুকুটে আরেকটি সোনালি পলক।

ওবায়দুল কাদের ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রের ৩৫(১) ধারা অনুযায়ী মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সব ইউনিটের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করতে হবে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী তিন মাস পরে ওয়ার্ড সম্মেলন ও থানা সম্মেলন করতে হবে।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। এছাড়া বিশেষ বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাসহ উত্তরের অন্তর্গত থানা, ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *