‘জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষায় বদল আসেনি ত্যাগীদের ভাগ্যে’


ঢাকা: দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি। তিনি বলেন, আমাদের ত্যাগী-নেতাকর্মী যারা আছেন, তারা কিন্তু এখনো আগের মতোই আছেন। কিন্তু আমাদের দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা, তারা বেশিরভাগই এসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করেছেন। ফলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এমন আলোচনা হয়ছে। সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুক্ত ছিলেন।

বর্ধিত সভায় উপস্থিত সূত্র বলছে, সভায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তারা তাদের জায়গা থেকে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া, বঞ্চনা, ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।

সভায় এস এম মান্নান কচি  বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যেভাবে প্রতিবাদ করার কথা ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে যেভাবে সবার লড়াই করার কথা ছিল, আওয়ামী লীগ বিশাল সংগঠন হলেও সে ধরনের নেতৃত্ব দিতে পারিনি। এখন আমাদের দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু সরকারবিরোধী বিভিন্ন মহল আবার নানামুখী অপপ্রচার করে করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কতটা সরব দলের নেতাকর্মীরা— সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কচি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও আমাদের সংগঠন যেভাবে মজবুত থাকার কথা ছিল, সে অবস্থায় সংগঠন নেই। অনেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যে অপবাদ দিয়েছেন। অনেক সুবিধাবাদী এ দলের মধ্যে ঢুকে দলকে ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুকন্যার যে উন্নয়নের রাজনীতিকে ভণ্ডুল করেছে। তাই আজ আমরা তৃণমূল থেকে সম্মেলন চাই। ওইসব সুবিধাবাদী, সুবিদাভোগী, যারা আজকে দলের দুর্নাম করছে, বিতর্ক তৈরি করছে— সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বাদ দিয়ে তৃণমূল থেকে সংগঠনকে গড়ে তুলতে হবে। কারণ আমরা সাচ্চা সংগঠন চাই। কারণ আর কোনো ষড়যন্ত্র এই বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা মহানগর আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিতভাবে গড়তে চাই।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আমাদের সংগঠন কিন্তু শক্তিশালী নয়। ক্ষমতায় আসার পর আমাদের সংগঠন দুর্বল হয়ে গেছে। কারণ সেই হানিফ ভাইয়ের সময়ে ইউনিটগুলো করা হয়েছে। এরপর আর ইউনিটগুলো নিয়ে কাজ করা হয়নি। তাই যদি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হয়, তাহলে ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। আর তার জন্য সম্মেলন করতে হবে।’

তৃণমূল্যের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে এস এম মান্নান কচি বলেন, আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ত্যাগী নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তারাও সততার সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা করে ভালো থাকতে পারতেন। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা আছেন, বেশিরভাগই তাদের উপেক্ষা করছেন। এমপিরা রয়েছেন, কমিশনাররা রয়েছেন। তাদের মারফতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কিন্তু ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছেন না। তাদের আপনারা কাজ দিয়ে সহযোগিতা করুন। তারা কাজ করুক, ভালো থাকুক, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করুক বৈধভাবে, অবৈধভাবে নয়।

দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কচি বলেন, এই দলে কোনো চাঁদাবাজের জায়গা নেই, মাস্তানের জায়গা নেই, সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই। যত প্রভাবশালীই হোক, এদের জায়গা হবে না। আপনারা ওয়ার্ড-থানার নেতা। যদি বিতর্কিত লোকের ব্যাপারে প্রস্তাব দেন, তাহলে কিন্তু আপনারাও চিহ্নিত হয়ে যাবেন। নেত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আজ আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার প্রশ্নে আপস করব না।

তিনি বলেন, কাউকে তেল মারবেন না। কারও সঙ্গে কোনো অবৈধ লেনদেন করবেন না। যারা করতে চান, তারা এই দলের না, অন্য দল থেকে এসেছেন। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। সৎ, যোগ্য নেতৃত আমরা চাই। আমরা ভালো নেতৃত্ব চাই। গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চাই। আগামী দিনে নির্বাচন আছে, নির্বাচনের জন্য ভোটের জন্য এই দলকে প্রস্তুত করতে হবে। সেভাবেই আমাদের দলকে গড়ে তুলতে হবে। এর বিকল্প নেই। কারণ আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, তাই আমরা কোনো আপস করব না। একটি কথা বলে রাখি— আজ আপনারা আমাদের ভালো বলুন আর মন্দ বলুন, আমরা সঠিক কাজটি করব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা সেভাবে সংগঠনকে গড়ে তুলতে চাই।

মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

পরে বিশেষ বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারাসহ উত্তরের অন্তর্গত থানা-ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। তারা সংগঠনকে হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

The post ‘জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষায় বদল আসেনি ত্যাগীদের ভাগ্যে’ appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *