ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে তা দিতে চাই: ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা স্বাধিকার আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, তাদেরকে এখন আওয়ামী লীগ স্মরণ করে না। স্মরণ করে না আ স ম আব্দুর রবকে— যিনি পতাকা তুলেছিলেন, স্মরণ করে না সিরাজুল আলম খানকে। আমরা সেই জন্যই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে গিয়ে তাদেরকে সামনে নিয়ে আসছি। আমরা ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাই না। আমরা ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে তা দিতে চাই।

বুধবার (০৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস উপলক্ষে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি এ আলোচনা সভা আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা লড়াই করে, যুদ্ধ করে একটি দেশের জন্ম দিয়েছিলাম এবং এই যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, শ্রদ্ধা নিবেদন করছি আমাদের মহান জাতীয় নেতৃবৃন্দ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা এমনি এমনি আসেনি। ভাষণ দিয়ে দিল আর দেশ স্বাধীন হয়ে গেল— বিষয়টি এমন না। এর জন্য অনেক দাম দিতে হয়েছে আমাদের। স্বাধীনতা কারও দয়ায় পাওয়া না। এ দেশের খেটে খাওয়া কৃষক, কারখানার শ্রমিক, পেশাজীবী, ছাত্রসমাজ— সবার সংগ্রাম-লড়াইয়ে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই যারা বলেন একজন মাত্র মানুষ, একজন মাত্র নেতা— যার ডাকে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, এটা একেবারে মিথ্যা, জাতির সঙ্গে প্রতারণা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘকাল, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব, ভূ-খণ্ড পেয়েছে। আজকে দুঃখ হয়, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হয়, এই আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগ যারা যুদ্ধের আগে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে, নির্বাচনে জয়লাভ করেছে এবং তাদের সংগ্রামে স্বাধীনতার একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।’

‘কিন্তু এই আওয়ামী লীগই সেই দল, তারা স্বাধীনতার পরে মানুষের যে আকাঙক্ষা ছিল, যে স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। যে সংবিধান রচনা করা হলো ৭২ সালে, সেই সংবিধানকে তারাই কেটে-ছিড়ে ছিন্ন-বিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। তারাই এই দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন নিয়ে এসেছে। এ দেশের মানুষ কি ভুলে যাবে রক্ষীবাহিনীর কথা। কী নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছে শুধু মাত্র ভিন্ন মত পোষণ করার জন্য’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, ফজলুল হক মিলন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিম উদ্দীন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

সারাবাংলা/এজেড/একে





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *