যান্ত্রিক শহরে চিত্ত বিনোদনের নতুন ঠিকানা


ফারহানা হোসেন শাম্মু

গত বছর ১৫ ডিসেম্বর মুখোশ পরে যখন অফিসের ডিভিশনাল এক্সটেন্ডেড ম্যানেজমেন্ট টিম মিটিংয়ে ‘ঠিকানা’য় যাই, তখন বড় একটা খোলা মাঠ আর গাঁদা ফুল ছাড়া কিছুই ছিল না। ঠিকানার মালিক তখন বলেছিলেন, তিনি বিদেশ থেকে দুই কোটি টাকার চারা আনবেন। জানুয়ারির শেষেই তার একটি ফ্লাওয়ার ফেস্টিভালের পরিকল্পনা আছে।

সেই চারাগুলো মাত্র দেড়-দুই মাসে ফাগুনে আগুন লাগিয়ে এমন লাস্যময়ী—অবাক লাগছে। শুভ্র দেবের একটি জনপ্রিয় গানের লাইন, ‘ফুল যত সুন্দর হোক না কেন, ফুলেরই পাশে যদি থাকো/ আমি চেয়ে চেয়ে তোমাকে দেখবো’। রাজধানীর ভাটারার রাস্তা ধরে ১০০ ফুটে পৌঁছলে ঠিক এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে। সবাই ছবি তোলায় মগ্ন। এক গ্রুপের ‘ফুল যত সুন্দর হোক না কেন’ তাদের কাজ ছবি তুলে দেওয়া, এবং ফুল ছেড়ে সেই মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকা।

বন্ধের দিন, খোলার দিন কিংবা মহামারি করোনার বালাই নাই। নির্মাণাধীন বালুর রাস্তা, তার মধ্যেই বেরাইদের গলি গলিয়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া সমাগম। নেকাবে মুখ ঢেকে ছবি তুলছেন, মডেল ফটোগ্রাফি চলছে। কেউ কেউ শাড়ি পড়া। ঘামছে- মুছছে-সঙ্গী ফটোগ্রাফারকে শাসাচ্ছে— কিন্তু কোনো ছবিই যেন পিকচার পারফেক্ট হচ্ছে না।

যান্ত্রিক শহরে চিত্ত বিনোদনের নতুন ঠিকানা

টিপস: পারলে রবি থেকে বৃহস্পতি

বন্ধের দিনে গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি। এখন যেহেতু দিন বড় হচ্ছে কোনোভাবে অন্যদিন ম্যানেজ করে পাঁচটা সাড়ে পাঁচটায় গেলে দিনের ছবি, সূর্যাস্ত এবং রাতের লাইটিং তিনটাই পাওয়া যাবে। দু’শো টাকার টিকিটে ঢুকে ঘুরে ফিরে ছবি তুলে সেই টাকা খাওয়ার বিলের সাথে সমন্বয় করা যাবে। তবে খাওয়া দিতে রবি থকে বৃহস্পতিও এক ঘণ্টা লাগে। তাই আগে অর্ডার করে এক ঘণ্টা ছবি তোলার জন্য তুলে রাখলে বেশি অধৈর্য লাগবে না। খাওয়ার কাউন্টারে উত্তেজনা কিন্তু লেগেই থাকে।

শুক্র-শনিবার গাড়ির ভিড়ে ও ভারে চাকা বালিতে ফেঁসে যায়। একজনের খাওয়া নাকি অন্যকে দিয়ে দেয়। রাস্তাও বেশ সংকটাপন্ন। অতএব ধীমান হন। বিস্তৃত খোলা জায়গা। আবার ফুলেল কুটিরের দুই তিন তলা বসেও খাওয়া দাওয়া করা যাবে। তবে বাইরে বসলে ফুলেল প্রাসাদ, আলোকসজ্জা দেখা যাবে। ভেতরে লোকেরা প্রাসাদশয্যা পাবে কিন্তু প্রাসাদসজ্জা বঞ্চিত হবে।

মশা আছে, থাকবে। ধুপ জ্বালিয়ে অবিরত মশা তাড়ানোর চেষ্টা করে একদল একনিষ্ঠ কর্মী বাহিনী। টয়লেট আছে। কিন্তু হয়ত পাঁচশ লোকের জন্য একটি টয়লেট। অতএব মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি জরুরি। নামাজের জায়গা আছে, পুলিশ প্রহরাও আছে। তবে ছবির মতো মন যাদের নেই তারা গিয়ে ভিড় ঠেলে তেমন কিছু পাবেন না।

যান্ত্রিক শহরে চিত্ত বিনোদনের নতুন ঠিকানা

দু’শো টাকার টিকেটের বাইরে কিছু খরচ না করতে চাইলে দু’শো টাকার টিকেটে দু’শো টাকার জুস খেতে পারবেন। আগে বুকিং দিলে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারও পাওয়া যাবে। আর চলাফেরা সন্তর্পণে। কেউ ছবি তুলছে, ভুলে যদি তার সামনে মাড়ান বেখেয়ালে, তাহলে জেমসের সেই গানের মতোই অভিজ্ঞতা হবে,

‘তুমি এই চোখে তাকিয়ো না
লুটপাট হয়ে যাবে
তর্জনী উঁচিয়ে জ্বেলে দেব
সবুজ আগুন’

এই হচ্ছে ‘ঠিকানা’ ও তার পূর্ব প্রস্তুতি। যারা মনে করেন এই একটা থাই স্টাইল বাড়ি আর ফুল, এখানে দেখার কী আছে, তাদের ঠিকানা ‘ঠিকানা’ নয়। আপনার একটা সোশ্যাল একাউন্ট থাকাও পূর্ব প্রস্তুতির একটা অংশ। একটা ‘পিকচার পারফেক্ট’ প্রোফাইল পিকচারের জন্য যিনি রবার্ট ব্রুসের মতো দৃঢ় হতে পারবে না, তাদের জন্যও ‘ঠিকানা’ গন্তব্য নয়।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *