এখন সবাই আওয়ামী লীগ— এটাই দলের জন্য উদ্বেগজনক!


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বরিশালের আছমত আলী খান (একে স্কুল) ইনস্টিটিউটে পড়া অবস্থায় ১৯৬৯ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধও তার জীবনের গর্বিত অধ্যায়। ছিলেন বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ধীরে ধীরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। পরে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এক সময় সংগঠনটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেও দলে তার অসামান্য অবদানের কারণে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতি দেন। দলের ২১তম কাউন্সিলে ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় স্থান পান তিনি। সম্প্রতি জাহাঙ্গীর কবির নানক সমসাময়িক রাজনীতি ও দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন সারাবাংলার সঙ্গে। এই কথোপকথনে সারাবাংলার পক্ষে অংশ নেন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নৃপেন রায়। দুজনের কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরা হলো-

সারাবাংলা: পরপর তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। মোটা দাগে বলতে গেলে, দলটি তাদের সুসময় অতিক্রম করছে। কিন্তু দেশের প্রায় সব জায়গায় একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এখন সবাই আওয়ামী লীগ? এর কারণ কী? এ কারণে আপনারা কি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: এই যে সবাই আওয়ামী লীগ— এটি দলের জন্য সুখকর নয়, শুভ সংবাদ নয়। এই দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা টানা ১২ বছর অতিক্রম করছি। এই সময়ে এসে যখন সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে তখন সেটা রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনীতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বলে মনে করছি। এই পরিস্থতি মোকাবিলায় দলকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি সতর্ক হতে হবে সরকারকেও।

সারাবাংলা: এখন সবাই আওয়ামী লীগ; এই ‘সবাই’ আওয়ামী লীগ হচ্ছে কীভাবে?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আওয়ামী লীগে যারাই ঢুকছে কারও না কারও হাত ধরে ঢুকছে। যারা হাত ধরে ঢুকাচ্ছে তারা আসলে কারা? তারা কিন্তু পার্টির জন্য ক্ষতিকর কাজ করছেন। আমাদের তো বয়স অনেক হয়ে গেল। আমরা ১৯৭২ সালে দেখেছি, ’৬৯-এ দেখেছি, ’৭৫-এ দেখেছি; এই সুযোগসন্ধানী মানুষগুলো থাকে না। যখন দুঃসময় আসে এবং এরা থাকবে না। এরা আদর্শিক কেউ না। এরা এসেছে ক্ষমতার স্রোতে গা ভাসাতে। এবং ক্ষমতার সঙ্গে গা ভাসিয়ে এই মানুষগুলো স্বার্থসিদ্ধি করার চেষ্টা করে। এরাই মূলত পার্টির দুর্নাম করছে।

সারাবাংলা: এই সমস্যা থেকে উত্তরণে আপনারা কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: পার্টির যারা ত্যাগী নেতা, যারা দুঃসময়ের নেতা, যারা ৭৫’র পর থেকে যে জুলুম-অত্যাচার, অবিচার সহ্য করেছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাদের দ্বারা পার্টির বা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হওয়া খুবই কঠিন। তারা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকে। কিন্তু এই যে এখন সবাই আওয়ামী লীগ; এই সবাই আওয়ামী লীগই একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। এই পরিস্থতি মোকাবিলা করতে হলে দলকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং দলের ভেতর থেকে অনুপ্রবেশকারী সুযোগ সন্ধানী মানুষগুলোকে বের করে দিতে হবে।

সারাবাংলা: আপনারা প্রায়ই এই দাবি তোলেন। কিন্তু বলাতেই কেন আপনারা সীমাবদ্ধ রয়েছেন? এই উদ্যোগ কার্যকর হচ্ছে না কেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: ‘আমরা বলছি, এখনও বলছি, আগেও বলেছি, আমরা বলতেই থাকব। তারপরও সত্য কথা হলো, এই মানুষগুলোকে বের করা হচ্ছে না। এটাই হলো বাস্তব সত্য।’

সারাবাংলা: কেন বের করা হচ্ছে না?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন, এই মানুষগুলোকে বের করার জন্য। তারপরও দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক হলো এই মানুষগুলোকে কেউ বের করার উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সারাবাংলা: এখানে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত কিনা?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আসলে ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে কিছু নেই। ব্যক্তিস্বার্থ অবশ্যই থাকে। আর এ জন্য দেখা যায়, আমাদের নেত্রীর সিদ্ধান্তে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা দাঁড়িয়ে যায়। আর এই বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে থাকেন আমাদের পার্টির অনেক মন্ত্রী, এমপি ও নেতা। আমি নেত্রীকে বলেছি, যারা বিদ্রোহ করছেন তাদের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। তেমনিভাবে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যারা তাদের মদদ দিয়ে যাচ্ছেন, বিশেষ করে যেসব এমপি-মন্ত্রী বিদ্রোহীদের ইন্ধন দিচ্ছেন ও সমর্থন যোগাচ্ছেন তাদের জন্যও চিরতরে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

সারাবাংলা: ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জাহাঙ্গীর কবির নানক: ধন্যবাদ সারাবাংলাকেও।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *