মানবিক সহায়তায় প্রস্তুত আওয়ামী লীগ


নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও সেইসঙ্গে জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে সরকারের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল হিসাবে মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর কঠিন পরীক্ষার সামনে আওয়ামী লীগ। এই সময়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, যত কঠিন পরীক্ষাই হোক, মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা যাতে থমকে না যায়; সে ব্যাপারে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অতীতের ন্যায় এবারও প্রস্তুত আছে।

প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বিধিনিষেধের কারণে খেটে-খাওয়া মানুষগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কাজ হারিয়েছে। দোকানপাঠ, শপিংমল বন্ধ থাকায় চাকরি হারাচ্ছেন অনেক বিক্রয়কর্মী। ব্যবসা করতে না পারায় অফিস ও দোকান ভাড়াসহ নানান সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় দিনমজুর, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ। করোনা মোকাবিলায় দলের সকল শক্তিকে কাজে লাগানো হবে বলেও প্রতিশ্রুতির কথা জানালেন দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সারাবাংলাকে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হল মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করা। করোনা মহামারি হোক, যেকোনো দুর্যোগ হোক; বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে আর্ত-মানবতার সেবায় ছুটে গিয়েছে। ইতোমধ্যেই আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দিয়েছেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং মানুষের পাশে থাকা যায় আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে আছি। যত কঠিন পরীক্ষাই হোক, মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা যাতে থমকে না যায়, সে ব্যাপারে আমাদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছে।

এদিকে গতকাল সারাদেশে কমবেশি বিক্ষোভ হয়েছে লকডাউনের (১১ দফা নির্দেশনা) বিপক্ষে। ঢাকাসহ বেশিরভাগ জেলায় মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলতে দেওয়া হোক। রাজধানীর নিউমার্কেটে গত রোববার দোকান মালিক ও কর্মচারীদের বিক্ষোভের সময় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় তিন হাজারের বেশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার দোকানপাট লকডাউনের সময় খোলা রাখার দাবিতে রোববার মানববন্ধনের আয়োজন করে নিউমার্কেট দোকান মালিক সমিতি। মানববন্ধনটি পরে বিক্ষোভ সমাবেশে রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষুব্ধ লোকজন নিউমার্কেটের সামনের রাস্তা অবরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নিউমার্কেট ৪ নম্বর গেটে ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ফরিদপুরের সালথায় লকডাউন কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতা। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সালথা উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজার থেকে এ সংঘাতময় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। জানা যায়, আনসার সদস্য ও এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা ফুকরা বাজারে যান। এসময় বাজারে লোক সমাগম ও দোকানপাট খোলা দেখতে পেয়ে এসিল্যান্ডের সহকারী একজনকে লাঠিপেটা করে। আর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে এসিল্যান্ড তার টিম নিয়ে উপজেলা সদরে ফিরে যান। পরে সালথা থানার পুলিশ ফুকরা বাজারে গিয়ে জনতার সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফুকরা বাজারে এলে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পুলিশের উপর হামলা চালায়।

এর আগে গত বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম ধাক্কার সময় টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গণপরিবহনসহ বাইরের সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয় সরকার। সেবার দুঃস্থ ও কর্মহীন মানুষজনের পাশে সমাজের সর্বস্তরের লোকজনকে দাঁড়াতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে সরকারেরও নানামুখী প্রণোদনা ছিল। কিন্তু এবার সেসব চিত্র খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তার উপর গতবছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারা মানুষগুলো এবার আরও অসহায় অবস্থায় পড়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, আমরা মনে করি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রথম ধাপেও যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, এবারও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দ্বিতীয় ধাপেও আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের ত্রাণ কমিটির মাধ্যমে সাধ্যমত চেষ্টা করব। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে এই দ্বিতীয় ধাক্কাতেও যাতে মানুষ জীবন-জীবিকার চাকা সচল রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই আমরা মানুষের পাশে থাকব।

সারাবাংলা/এনআর/এএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *