২৬ মার্চ হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না: বাবুনগরী


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা দায়েরের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা কাউকে ক্ষমতায় বসানো হেফাজতের কাজ নয়। হেফাজত শান্তিপ্রিয় এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে।

বিবৃতিতে বাবুনগরী আরও জানিয়েছেন, ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মসূচি ছিল না।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সইয়ে বিবৃতিটি পাঠানো হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে প্রাণ হারান কমপক্ষে ১৭ জন। অন্যদিকে গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে কথিত স্ত্রীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় তার সমর্থকদের মিছিল থেকে হামলায় আহত হয়ে মারা যান এক আওয়ামী লীগ নেতা।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট ব্যাখা করে হেফাজতের আমীর বিবৃতিতে বলেন, ‘২৬ মার্চ শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নিরীহ শান্তিপ্রিয় মুসল্লিদের ওপর পুলিশের সহযোগী হেলমেট পরিহিত ও চাপাতি-রামদা হাতে একদল সন্ত্রাসী বিনা উসকানিতে আক্রমণ চালায়। পাশাপাশি পুলিশও মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মুসল্লিরা আত্মরক্ষার্থে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলে।’

‘সেদিনের সংঘাতের ভিডিওগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে কারা সহিংসতা উসকে দিয়েছিল। সারাদেশের মানুষ ওই ভিডিওগুলো দেখেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সেদিনের ঘটনা কাভারেজ পায়। সেদিন হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মসূচি ছিল না। নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেফাজতের ১৭ জন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে’— বলেন বাবুনগরী।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন চালিয়ে কখনোই সহিংসতা রোধ করা সম্ভব নয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানানো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার হরণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির প্ররোচনায় কোনো ধরনের আত্মঘাতী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *