জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কেউ নয়, বার্তা দিতে চায় আ.লীগ


নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যারা গুজব ও উসকানি ছড়িয়ে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করবে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করবে, তারা যত বড় দুর্বত্ত, যত বড় যে দলের নেতাই হোক, যত বড় হুজুর’ই হোক, জড়িত-ইন্ধনদাতাদের প্রত্যেককে কঠোর আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নেতাদের দাবি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ঠকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে, এটাই বুঝিয়ে দেওয়া হবে যে, রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গত সোমবার রাতের সহিংস তাণ্ডবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলটি সালথা উপজেলা কার্যালয়ে চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ সব কথা বলেন।

দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে.কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী।

প্রসঙ্গত, গুজব ছড়িয়ে গত সোমবার রাতে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা পরিষদ, থানা চত্বরে তাণ্ডব চালায় স্থানীয়রা। ওই হামলায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতপন্থি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে হামলা, ইউএনওর বাড়িতে হামলা করে গ্যারেজে আগুন দেওয়া, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে ও গাড়িতে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। আগের মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় ১৭ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এরইমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সহিংসতায় বিধ্বস্ত সালথা উপজেলায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপস্থিত হন। সেখানে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, ইউএনও হাসিব সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। নেতারা স্থানীয় জনগণ ও নেতাকর্মীদের আশ^স্ত করে বলেন, ‘যারা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত এবং যারা ইন্ধন দিয়ে পেছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছেন, তারা যে দলেরই নেতা হোন বা যত বড় হুজুরই হোন; কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এই সমাবেশ পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

মাওলানা মামুনুল হকের বাবা রাজাকার ছিল দাবি করে মির্জা আজম বলেন, ‘একইভাবে এই হেফাজতের সাথে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রত্যেকের র্প্বূ পুরুষরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। আজকে এই স্বাধীনতা বিরোধীরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান-রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে এসেছে ঠিক তখনই একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা ২৬ শে মার্চ থেকে তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই আমাদের স্বাধীনতার চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে এই মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিরোধ করতে করতেদ হবে, এই শপথ নিতে হবে।’

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যারা এই সালথায় যে অমানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যারা অপপ্রচার মিথ্যাচার করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে, তারা কারা? তাদের আসল পরিচয় কি? তারা হল দেশবিরোধী অপশক্তি। তারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা এদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি হোক তারা সেটা চায় না। যারা সরকারি অফিসে হামলা করেছে, যারা নারী-শিশুদের ওপর হামলা করেছে, এরা কারা? তারা বাংলাদেশে বিরোধী অপশক্তি।’

ইসলামের নাম করে এরা ধর্ম ব্যবসায়ী, এরা দুষ্টচক্র দাবি করে তিনি বলেন, ‘এরা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিহত করতে হবে। এদেরকে মোকাবিলা করতে হবে। এই অপশক্তি যদি সুযোগ পায়, আপনার আমার মা-বোন থেকে হিন্দু-মুসলিম কারো অস্তিত্ব রাখবে না। এরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্টাইলে দেশ বানাতে চায়। এরা তালেবানি শাসন কায়েম করতে চায়। এরা আফগানিস্তান, ইয়েমন বানাতে চায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে। এরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দিয়ে এদেশে জঙ্গিবাদী শাসন কায়েম করতে চায়। এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করতে হবে।’

নাছিম আরও দাবি করেন, এরা যখনি সুযোগ পাবে তখনি বিষধর সাপের মতো আঘাত করবে, দংশন করবে। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে এখনি আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে সকলকে সজাগ করতে হবে। আসুন আমরা সকলে মিলে এদেরকে মোকাবেলা করার শপথ নেই। এখনই সময় এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

গত ৫ তারিখে লকডাউনকে কেন্দ্র করে একটি তাণ্ডব চালানো হয়েছে যে ক্ষতি করা হয়েছে সেগুলো পরিদর্শন করার কথা তুলে ধরেন নেতারা। এ বিষয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘করোনার দুর্যোগ বৃদ্ধির কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দোকানপাঠ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এটা আমার-আপনার জীবনকে বাঁচানোর জন্য। কারণ এই করোনা কোনো ব্যবসায়ী চেনে না, ধনী-গরিব, রাজনীতিবিদ সাধারণ কৃষক চেনে না। সকলেই করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। এই করোনার থেকে আমাকে-আপনাকে বাঁচানোর জন্যই সেটাকে কেন্দ্র করে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, এটা আসলে কোন সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে হয় না। এই গণ্ডগোল করা হয়েছে, যারা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি কখনো মেনে নিতে পারেনি। একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সেই যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াত, তাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি; আর নব্য রাজাকারের দল হয়েছে হেফাজত। এরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী।’

হানিফ আরও দাবি করেন, যার কারণে কোনো কারণ ছাড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। রাষ্ট্রের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। যারা এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, এই অপরাধ করেছে; প্রত্যেককে খুঁজে খুঁজে বের করে এদেরকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজনও রেহাই পাবেন না। আমরা আজকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, যারা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত এবং যারা ইন্ধন দিয়েছে পিছন থেকে কলকাঠি নেড়ে, তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন, সে যে দলের, যত বড় হুজুর হোক; এই নাশকতা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা আইনের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসী। তারা নাশকতা সৃষ্টিকারী। তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কঠোর শাস্তি দিয়ে এটা বুঝিয়ে দেয়া হবে, রাষ্ট্রের শক্তির কাছে কোন শক্তি খাঁটে না।’

ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পরে ওই কুখ্যাত রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য বিএনপি-জামাত মিলে সারাদেশে তান্ডব সংঘটিত করেছিল সে প্রসেঙ্গ উদাহরণ দিয়ে হানিফ বলেন, ‘তারা ভেবেছিল, সন্ত্রাস নাশকতা কর্মকাণ্ড করে বিচার বন্ধ করতে পারবে। বিচার বন্ধ করতে পারে নাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তার নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছে দেশের জনগণের উন্নয়ন অগ্রগতি। এই উন্নয়ন অগ্রগতির পথে যারা বাধা হিসাবে দাঁড়াবে, তাদের কিন্তু কোনো ছাড় নেই, সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন। তাই যারা আজকে হেফজাতে ইসলামের দোহাই দিয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে ভাবছেন, মাদ্রাসায় বসে জঙ্গিবাদ করে, এই বাংলাদেশে আপনারা পার পেয়ে যাবেন, এই পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এদেরকে কঠোরভাবেই দমন করে এই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা হবে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের এই উন্নয়ন অগ্রগতির পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, যারা সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড করবে প্রশাসনকে পাশে নিয়ে এদেরকে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করারও আহ্বান জানান নেতারা।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের সম্মুখে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, যারা আজকে উন্নয়নের গতিপথ রুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে যারা ধ্বংস করতে চায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা লুণ্ঠন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কি আপনারা সেই একাত্তরের ন্যায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত আছেন?’

নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছি প্রতিউত্তর দিলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আজকে যারা স্থুল স্বার্থ নিয়ে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। নিজেদের ফায়দা লুটতে চায়। নিজেদের ভাগ্যন্নোয়ন করতে চায়। তারা এই দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে আজকের ধর্মীয় উন্মাদনায় উসকানি দিতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।’

আমি আপনাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার সন্তান হিসাবে আমার দুঃখে বুক ফেটে যায়। এই সালথায় এমন ঘটনা ঘটবে, আমরা কখনোই আশা করতে পারি নাই। তিনি বলেন, এই নগরকান্দা-সালথার মানুষ জীবনবাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই নরগকান্দা-সালথার মানুষ এই মাটিকে কোন অবস্থাতেই পাকিস্তান অনুসারীদের কাছে বন্দি হতে দেব না।’

আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের সকল রাজনৈতিক শক্তি, সকল সামাজিক শক্তি, তাদেরকে উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই, এই ফণা তোলা, এই ছোবল মারা এই বিষধর সাপের এখনোই বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে এবং সেই জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনাদেরকে উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সেই ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন। হাজার হাজার মানুষের নামে মামলা হয়েছে, এই সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করার জন্যে। অথচ আপনারা কি সেই দোষে দোষী? আমরা প্রশাসনকে বলেছি, কোন নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি শিকার না হয়। আমরা বলেছি, কোন অবস্থাতেই কোন নিরীহ মানুষ এই হয়রানির শিকার হতে পারবে না। অপরদিকে বলেছি, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জগিড়ত, যাদের ভিডিও আছে, যাদের রেকর্ডপত্র আছে, ওদেও একজনও যেন রেহাই না পায়।

আজকে আবার আপনারা নতনু করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হন। ওরা জনতার সমদ্র্যের ফেনিল উচ্ছ্বাসে খড়কুঠার মত ভেসে যাবে। ওদের জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না।

ফারুক খান বলেন, ‘একটা অজুহাতকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে, লকডাউনকে কেন্দ্র করে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যে ধরনের কাজ করেছে, এটা সম্পূর্ণভাবে ইসলাম ধর্মের আইনকানুন বিরোধী। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মে বিল্ডিং ভাঙচুর, মানুষকে হত্যা, কারো বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, সম্পত্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নেই। সুতরাং যারা এসব করেছেন, তারা ভুল করেছেন। দেশের আইন অমান্য করেছেন। ইসলামের শান্তির আইন অমান্য করেছেন।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তখন যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, সেই অপশক্তিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। আজকে তাদের বিষদাঁত আবার আমরা দেখছি। ৫০বছর আগে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। এই ট্রেনিং তো আমরা স্যারেন্ডার করিনি। বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। তখন তাকে কুচক্রীরা, ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করে। এখন আমরা সেই অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতের¦ আমরা সেই পথে আজকে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।

‘সুতরাং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ধরে বলি, এখনো মুক্তিযুদ্ধ চলছে। তাই যদি হয় তাহলে বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। আজকে আমাদের সকলকে এই ধরনের অপশক্তি, যারা ধর্মের নামে বাংলাদেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চায়। যারা ধর্মের নাম করে ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করতে চায়। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে কয়েক ব্যক্তি বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে ও স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এমন গুজব ছড়ালে আশপাশের গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় তাণ্ডব চালায়।

হামলাকারীরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা। এছাড়াও তিনটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

সারাবাংলা/এনআর/একে





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *