সিন্ডিকেটের হাতে বাজার ব্যবস্থাপনা জিম্মি: ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিন্ডিকেটের হাতে বাজার ব্যবস্থাপনা জিম্মি হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্ যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে যে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে, মূলত তারই ধারাবাহিকতায়  সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী চক্রের হাতে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনাও জিম্মি হয়ে আছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার দূরীকরণের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বিধায় তারা জনগণের কলাণের তোয়াক্কা না করে নিদারুণভাবে নিষ্ঠুর ও নির্দয় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণময় সরকার প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক আন্দোলনে অংশ নিতে হবে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার।’

বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার দিবসকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটালো সরকার, সেটা পুরোপুরিভাবে পরিকল্পিত ঘটনা বলে আমি মনে করি। স্বাধীনতা দিবসে এই অবস্থাটা তৈরি করে এখন তারা এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করবার আরেক বড় প্রজেক্ট তারা হাতে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা শুনতে পারছি এবং প্রকারান্তরে বুঝতেও পারছি— এই লকডাউনের মধ্যেও বিরোধী দল ও আন্দোলনরতদের ওপর তারা চড়াও হবে এবং গ্রেফতার করবে। এরই মধ্যে হেফাজতের বিভিন্ন নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে এবং কিছু লোককে গ্রেফতারও করেছে।‘

‘আমরা হেফাজতের পক্ষে কথা বলছি না। আমাদের প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কথা বলার অধিকার সবার আছে। কথা বলার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বন্ধ করে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। ২৬ মার্চ তাদের (সরকার) প্রোভোকেশন ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই প্রোভোকেশন ছিল সব জায়গায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তাদের প্রোভেকেশন ছিল, তারা তৈরি করেছে সিচুয়েশনটা, সেই সিচুয়েশনটা তৈরি করে এখন তারা বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। এরই মধ্যে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করেছে। সালথায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে,’— অভিযোগ মির্জা ফখরুলের।

তিনি বলেন, ‘এভাবে পরিকল্পিতভাবে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কোনোদিন কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার, একনায়কতান্ত্রিক সরকার বা ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি। আমি আবারও আহ্বান জানাতে চাই— এখান থেকে বেরিয়ে আসুন। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আপনাদের এবং জনগণের চোখের দৃষ্টিটা বুঝে নিন, ভাষাটা বুঝে নিন। আপনারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেন। দেশে একটা প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

করোনা আক্রান্ত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে খবর নিয়েছি— একই অবস্থায় তিনি আছেন। এরই মধ্যে তার চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। আমরা দোয়া করছি, সারাদেশের মানুষ দোয়া করছে তিনি যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে আসছি। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে। তিনি তার দুয়েকদিনের কথার মধ্যে একটা জরুরি কথা বলেছেন, এই করোনার মধ্যে অবিলম্বে তার পূর্ণাঙ্গ জামিন দেওয়া প্রয়োজন। আমি তার এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। এজন্য আামি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: