দেশ দুই দানবের হাতে পড়েছে: ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশ দুই দানবের হাতে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দলের নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে ঢাকাস্থ সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মিলনী এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুইটা দানবের হাতে আমরা পড়েছি। একটা দানব হচ্ছে- আমাদের এই সরকার, ‍যারা অন্যদেশের স্বার্থ হাসিল করছে। আরেকটা দানব হচ্ছে- করোনাভাইরাস, সেটা আমাদেরকে, শুধু আমাদেরকে কেন, গোটা বিশ্বকে আক্রান্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে দলকে, সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা— এটা অবশ্যই আমাদেরকে করতে হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের নেতৃত্ব আমরা পাচ্ছি। আমরা আমাদের সমস্ত নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে কাজ করতে পারছি এবং বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। এতো অত্যাচার, এতো নির্যাতন-নিপীড়নের পরও এখন পর্যন্ত বিএনপি থেকে কেউ চলে যায়নি। এটা নিসন্দেহে আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটা ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে। এতো কঠিন সময় এদেশে মানুষ কখনো অতিক্রম করেনি। অত্যন্ত সুপরিকল্পিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হরণ করে নিয়ে, গণতন্ত্রবিহীন করে দিয়ে জনগণেরর অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আজকে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ইলিয়াস আলীর মতো সাহসী নেতাকে। কিন্তু আমরা তাকে পাচ্ছি না। আমি বিশ্বাস করি যে, ইলিয়াস আলীর পরের প্রজন্ম যারা আসবে তারা অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবার জন্যে, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই নিখোঁজ হওয়া, গুম করে দেওয়ার ঘটনা ইলিয়াস আলীকে দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এটা করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা সত্য কথা যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে পক্ষে যারা কথা বলে, বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে যারা কখা বলেন তাদেরকে আজকে অত্যন্ত সচেতনভাবে, পরিকল্পিতভাবে শূণ্য করে দেওয়া হচ্ছে, নিখোঁজ করে দেওয়া হচ্ছে অথবা আটকিয়ে রাখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত করে রাখাসহ ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব যে ভুলুণ্ঠিত হতে যাচ্ছে এটার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো ইলিয়াস আলীর গুম। আমি জানি, বাংলাদেশ সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করল কে? এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘একজন জলজ্যান্ত রাজনৈতিক নেতা গুম হয়ে গেল দেশের অভ্যন্তর থেকে, আমাদের একজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেল, আমাদের চৌধুরী আলমকে গুম করে দেওয়া হলো— আমি মানলাম এই সরকার করে না। করল কারা? আমি বলতে চাই, যারা করেছে তারা এদেশের স্বাধীনতা চায় না, তারা এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকতে দেবে না।’

জাতীয়তাবাদী যুব দলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল এবং নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

সারাবাংলা/এজেড/এমও





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *