latest

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছে কৃষকরাও: প্রধানমন্ত্রী


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুবিধা কৃষকরাও পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আজ কৃষকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। মোবাইল ব্যবহার করেই কৃষি সংক্রান্ত সব তথ্য কৃষকরা ঘরে বসেই সংগ্রহ করতে পারছেন।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই বক্তব্য প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষক মোবাইল ফোন ধরে ছবি তুলে তার ফসলের কী অবস্থা, মাটির কী অবস্থা বা মাটি পরীক্ষা করা এবং কী ধরনের সার ব্যাবহার করবেন, কতটুকু ব্যাবহার করবেন বা কীটনাশক ব্যাবহার করবেন কি না বা কতটুকু করবেন— এসব তথ্য যেন পেতে পারেন, সেই ধরনের তথ্যকেন্দ্র আমরা গড়ে তুলেছি। সেখান থেকে কৃষক তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর মোবাইল ফোনও আমরা সবার হাতে হাতে তুলে দিয়েছি।

আরও পড়ুন- ‘আ.লীগ ক্ষমতায় এলে কৃষকদের আর কষ্টে থাকতে হয়নি’

কৃষকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবাসহ সব ধরনের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে। আমি আজ কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশের সব কৃষক-কৃষাণীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। কারণ, তারা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাদ্য উৎপাদন করেন। সেই খাদ্য খেয়েই আমরা বেঁচে থাকি। কাজেই তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন রয়েছে। তাদের সহযোগিতা করাকে আমরা  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের কর্তব্য মনে করে।

আওয়ামী লীগ সরকার কৃষি গবেষণায় সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে উল্লেখ করে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখনো কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছি। আজ গবেষণার ফলে আরও নতুন নতুন ধরনের ফসল, তরি-তরকারি, ফল-মূল ও দানাদার খাদ্য-শষ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। আরও গবেষণা চলছে। আমরা উন্নতমানের বীজ আমরা সরবরাহ করছি। ফলে কৃষক অল্প কষ্টে বেশি খাদ্য উৎপাদন করতে পারছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ধান কাটা নি সমস্যা হলে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগম যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে মাঠে ফসল কেটেছেন— এ কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, হারভেস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের যন্ত্র আমরা ধীরে ধীরে কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করেছি। আমরা কৃষিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একইসঙ্গে শিল্পায়নেও আমরা নজর দিয়েছি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যাবস্থা এবং দেশে-বিদেশে পণ্য যেন আমরা রফতানি করতে পারি, তার ব্যবস্থা করে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় আফসোসের কথা জানান শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমণের এই সময়ে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণেরও আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, গার্গল করা, ভাপ নেওয়া, জনসমাগমে না যাওয়া, দূরত্ব বজায় রেখে চলা, আমাদের দেওয়া স্বাস্থ্য-সুরক্ষার নির্দেশনা অনুসরণ করা— এই কাজগুলো করতে হবে। আপনারা নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন, অন্যকে সুরক্ষিত করুন। এই করোনাভাইরাসের হাত থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়, তার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সবাই দোয়া করবেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *