রিমান্ডে সরকার পতন নিয়ে ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য দিচ্ছেন মামুনুল হক


উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নানা বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রিমান্ডে গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই বেরিয়ে এসেছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের তথ্য। আর সেই যোগাযোগের সূত্র ধরে সরকার পতনের পরিকল্পনার কথাও বের হয়ে এসেছে মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টকাণ্ডের পর মামুনুল হকের ব্যক্তিজীবনও দেশব্যাপী যথেষ্ট আলোচনায় এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে বিষয়েও তথ্য বেরিয়ে আসছে। মামুনুল হক গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী একটিই। তবে সোনারগাঁওয়ের ওই রিসোর্টে তার সঙ্গে থাকা নারীসহ আরও একজন নারীর সঙ্গেও তিনি ‘মেলামেশা’ করে থাকেন। এ বিষয়ে ওই দুই নারীর সঙ্গেই ‘চুক্তি’ রয়েছে তার।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে, রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপুর ১২টার দিকে গ্রেফতার করা হয় মামুনুল হককে। মোহাম্মদপুর থানায় ২০২০ সালে দায়ের করা এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা বেশকিছু মামলাতেও আসামি রয়েছেন মামুনুল হক।

রিমান্ডে সরকার পতন নিয়ে ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য দিচ্ছেন মামুনুল হক

রোববার গ্রেফতারের পর সোমবার (১৯ এপ্রিল) তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। পরে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মামুনুল হক স্বীকার করেছেন, সরকারের পতনের পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করেছে হেফাজতে ইসলাম। সেক্ষেত্রে মামুনুল হক নিজেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করেছেন।

হেফাজতের এই কেন্দ্রীয় নেতা গোয়েন্দাদের বলেছেন, তারা ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করতে চান। আর সেটি কায়েম করতে হলে সরকারের পতন ঘটাতেই হতো। হেফাজত মনে করে, এই সরকারের পতন হলে তাদের অনুগ্রহ ছাড়া আর কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না। এ কারণেই মামুনুল রাজধানীর যেকোনো কর্মসূচিতে সহিংসতার উসকানি দিতেন।

মামুনুল জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর চেয়েও বেশি ‘উগ্রপন্থী’ বলে মনে করেন। তিনি এ-ও মনে করেন, হেফাজতের অন্য নেতাদের দিয়ে ‘বিপ্লব’ হবে না, সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। এ কারণে তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনার সূত্র ধরে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্যও গড়ে উঠেছিল বলে জানান মামুনুল হক।

রিমান্ডে মামুনুল হকের ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক তার বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম স্ত্রীর বাইরে তিনি আর কাউকে বিয়ে করেননি।

সোনারগাঁওয়ের ওই রিসোর্টে মামুনুল হকের সঙ্গে যে নারী ছিলেন, তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন মামুনুল হক। এছাড়া গাজীপুরের আরেক নারীকেও তিনি বিয়ে করেছেন বলে বিভিন্ন স্থানে তথ্য দিয়েছেন।

এই দুই নারীর সঙ্গে মামুনুল হকের প্রকৃত সম্পর্ক কী— এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক কিছু জানিয়েছেন কি না— জানতে চাইলে ডিবি’র ওই কর্মকর্তা বলেন, মামুনুল জানিয়েছেন, মামুনুল হক তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি সম্পর্ক রাখছেন। তাদের দু’জনের সঙ্গেই তার চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির সাক্ষীও আছেন দু’জন। সেই চুক্তির কপি গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র বলছে, ওই চুক্তিতে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে— মামুনুল হক তাদের বিয়ে করবেন না, স্ত্রীর মর্যাদাও দেবেন না। তবে তাদের ভরণপোষণ দেবেন। আর ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত হলো— তাদের মামুনুলের সঙ্গে স্ত্রীর মতো থাকতে হবে। তিনি যেকোনো স্থানে নিয়ে যেতে চাইলেও তারা মামুনুলের সঙ্গে যাবেন।

গোয়েন্দা পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, মামুনুল হকের কাছে তারা জানতে চেয়েছিলেন, বিয়ে না করে কারও সঙ্গে এভাবে চুক্তি করে থাকা যায় কি না। জবাবে মামুনুল হক তাদের বলেছেন, এটি শরীয়তসম্মত। তিনি স্ত্রীর মর্যাদা না দিলেও তাদের ভরণপোষণ দিচ্ছেন। তার বিনিময়ে তারা তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। এটি ইসলামের বিধিবিধানের আওতায় পড়ে বলেই মামুনুল হক দাবি করেছেন।

মামুনুল হক অবশ্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে তার ওইভাবে সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়া ঠিক হয়নি। আর গেলেও আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে নেতাকর্মীদের জানিয়ে যাওয়া উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মামুনুল হকের কাছে স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক তথ্যই রয়েছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে সেগুলো বের করে নিয়ে আসবেন।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: