latest

প্রতিদিন ১ লাখ করোনা পরীক্ষার দাবি বাম গণতান্ত্রিক জোটের


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। তারা বলছেন, সরকারের এই উপুর্যপরি ব্যর্থতা ক্ষমার অযোগ্য।

এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে বিশ্বস্বীকৃতি পদ্ধতি— বেশি বেশি পরীক্ষা করা, কন্টাক্ট ট্রেসিং করা, আইসোলেশন, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জোটনেতারা। তারা বলছেন, সরকার এর কিছুই কার্যকরভাবে করছে না। নমুনা পরীক্ষার দিক থেকে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুহার ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি বাংলাদেশে। এ অব্স্থায় প্রতিদিন এক লাখ করে করোনা নমুনা পরীক্ষা করানোর দাবি জানান তারা।

বুধবার (২১ এপ্রিল) বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক ভার্চুয়াল সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য বাসদ সাধারণ সম্পাদক  খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা  মানস নন্দী, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবার কবীর জাহিদ, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক  মনিরুদ্দিন পাপ্পু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কবাদী) নেতা অনিল বিশ্বাস ও বাসদের (মার্কসবাদী) জহিরুল ইসলাম।

জোটনেতারা আলোচনায় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, তারা করোনার থেকে অনেক শক্তিশালী। শুরুতে তাদের এহেন আত্মম্ভরিতা, অহমিকা ও অবহেলা-প্রস্তুতিহীনতা করোনা মহামারিতে দেশের মানুষকে নাকাল করেছে। বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু পর্যাপ্ত টেস্ট করেনি, ফলে কে আক্রান্ত, কে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে, তার সঠিক হিসাবও সরকারের কাছে নেই। জনগণকেও সেই হিসাব জানতে না দিয়ে সাফল্যের এক আত্মতুষ্টির কারণে আজ করোনা মোকাবিলায় সরকার হাল ছেড়ে দিয়ে সব দোষ জনগণের কাঁধে চাপানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তারা বলছে, জনগণ অসচেতন, স্বাস্থ্যবিধি মানে না ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন— দেশবাসীকে সচেতন করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করানোর দায়িত্ব কার? এটা তো সরকারেরই দায়িত্ব। ফলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না।

সভায় বলা হয়, বর্তমান ভোট ডাকাতির ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণকে সচেতন করে জনগণের ওপর আস্থা না রেখে আমলা-নির্ভর হয়ে এই অতিমারী মোকাবিলা করতে চাইছে। জনগণ তো দূরের কথা, তার নিজের তৈরি কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশও সরকার কার্যকর করছে না। জনগণকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে সরকার মুনাফালোভী, লুণ্ঠনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছিল ২ সপ্তাহ কঠোর লকডাউন দেওয়ার। কিন্তু সরকার প্রথমে ১ সপ্তাহ ঢিলেঢালা বিধিনিষেধ দিলো, দুই দিন পর নগরে গাড়ি চলাচল, তিন দিন পর শপিং মল ও দোকানপাট খোলার ঘোষণা দিলো; বইমেলা, কারখানা চালু রাখল। এতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ না হলেও জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

সভায় নেতারা ঘোষণা প্রস্তুতিহীন ও অপরিকল্পিত লকডাউনের সমালোচনা করেন। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, বিশেষজ্ঞদের অভিমত— সারাদেশে লকডাউনের প্রয়োজন নেই, বেশি সংক্রমিত ৫/১০টি জেলা শহরে লকডাউন দিলেই হতো। সভা থেকে লকডাউন কার্যকর করতে হলে একমাসের খাদ্য ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সভায় দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কম থাকা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করা হয়। বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টার ও ডিএনসিসি মার্কেটে ৯৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুইটি হাসপাতাল নির্মাণ করার যে কথা প্রচার করা হয়েছিল, তার শ্বেতপত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। সভা থেকে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওয়তায় আনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

সভার আরেক প্রস্তাবে বাঁশখালীতে পুলিশের গুলিতে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলা হয়, মারা গেল শ্রমিক, আহত হলো শ্রমিক, আবার সেই শ্রমিকের নামেই মামলা দেওয়া হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার শ্রমিকের নামে পুলিশ ও মালিক মামলা দিয়ে শ্রমিকদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন নামিয়ে আনছে। এটা অন্যায় ও অনৈতিক। কারণ পুলিশ একটি পক্ষ ফলে তাদের মামলা করা তারাই তদন্ত করবে, এটা কিভাবে সুষ্ঠ তদন্ত হবে?

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা শ্রমিকের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। নেতারা মৃত শ্রমিক পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও নগদ অর্থ-পুনর্বাসনের দাবি জানান।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *