latest

‘কওমি মাদরাসা রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কওমি মাদরাসাগুলোকে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ।

শনবির (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে জামিয়া ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এ আহ্বান জানান। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কওমি মাদরাসার মুহতামিম এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক শায়খুল হাদিস ড. মুশতাক আহমদ, সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী।

সভায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য দেন তাহাফ্ফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশ এর যুগ্ম-আহ্বায়ক শায়খুল হাদিস হাফিজ মাওলানা ইয়াহিয়া মাহমুদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান ফয়েজি, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা মিনহাজুদ্দীন, কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু, ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, মাওলানা আকরাম হুসাইন, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারি, মাওলানা কামরুজ্জামান, মাওলানা আজিজুর রহমান, মাওলানা শহিদুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা কলিমুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা মুখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম সোবহানী, মাওলানা আব্দুল বাতেন শরিয়তপুরী, মাওলানা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন মাদরাসাগুলো বন্ধ রাখা অনুচিত। কারণ, তালিম, দরস, দোয়া-কালাম— বিশেষ করে হিজফখানা ও মক্তব চালু থাকলে দেশের ওপর আল্লাহ’র রহমত বর্ষিত হয়। কাজেই রমযানের পর যথানিয়মে মাদরাসাগুলোর কার্যক্রম চালু করতে সরকার, কওমি মাদরাসার বোর্ড এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।’

‘কওমি মাদরাসা রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে’

তারা বলেন, ‘কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে কোনো দিনও উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ— ইত্যাদি প্রচার-প্রসারের সুযোগ ছিল না এবং আগামীতেও থাকবে না। অসতর্কতাবশত যদি কারও কারও জযবাতি বক্তব্যে এমন কিছু কথা এসে যায়, তবে তা নি:সন্দেহে কওমি মাদরাসার অস্তিত্বের সংকট ডেকে আনবে। তাই সচেতনভাবে বয়ান বক্তৃতায় এমন সব কথা পরিহার করতে হবে, যা দেশ-সমাজ এবং কওমি মাদরাসাগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।’

বক্তারা বলেন, ‘আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, এই অসাবধাণ বক্তৃতার ছুতা ধরে কোথাও কোথাও কওমি আকিদার শত্রুরা মাদরাসাগুলোকে নানারকমের হয়রানির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মধ্যে আলেমদের জড়িয়ে দিচ্ছে, কোথাও কোথাও পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। পরিণামে মাদরাসা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নানাভাবে হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।’

মাদরাসাগুলোকে অতীতের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ‘নজর রাখতে হবে যাতে অশুভ কোনো শক্তি যেন মাদরাসাগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। ভেতর-বাইরে আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মাদরাসাগুলোকে নানা ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা করা যায়।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘মাদরাসা কিংবা মাদরাসার শিক্ষকদের ওপর অহেতুক কোনো হয়রানি যেন না হয় সেজন্য শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে সরকারের সঙ্গে বসা জরুরি। কওমি মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা এবং ভর্তির সময় যেসব ওয়াদা ছাত্ররা করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে না জড়ানো। ছাত্র বা শিক্ষক এই নীতি ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে মাদরাসাকর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুশতাক আহমদ বলেন, ‘কওমী মাদরাসা আবহমানকাল থেকেই পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ, গভীর পড়াশুনার জায়গা, ইলম ও আমলের সুন্দরতম মিলনক্ষেত্র, আদব ও আখলাকের সুন্দরতম আদর্শের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত ছিল। এখানে ছাত্ররা কখনো উস্তাদের সাথে বেআদবি করা, উস্তাদের নির্দেশের অমান্য করার চিন্তাও করত না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে নজর রাখতে হবে, যাতে কওমি মাদরাসায় আদব-আখলাক ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত না হয়। কওমি মাদরাসায় মোবাইলের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। কওমি মাদরাসায় যারা শিক্ষকতা করতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্মানজনকভাবে কওমির ছাত্রদেরকেও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বহির্বিশ্বে গমনের সুযোগ দিতে হবে।’

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *