আর নয় বাঙ্গি নিয়ে যুদ্ধ, জেনে নিন এর হাজারো উপকারিতা


ফারিয়া শারমিন অনন্যা

আমাদের দেশিয় গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম বাঙ্গি। তবে মজার কথা হল, অনেকেই যারা এখনও পর্যন্ত এই বাঙ্গির সাথে অপরিচিত ছিলেন তারাও নিশ্চয়ই ‘নেটদুনিয়ার বাঙ্গি ট্রল’ এর বদৌলতে হলেও বিশিষ্ট এই ফলের সাথে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। যাই হোক, সুখের বিষয় এই যে আমাদের আধুনিক প্রজন্ম যারা দেশি ফল খাওয়া তো দূরের কথা, দেশি ফলের সাথে পরিচিত হতে পর্যন্ত নারাজ, তারা মোটামুটি সবাই এখন অন্যান্য দেশিয় ফল না চিনলেও বাঙ্গি ঠিকই চেনে।

বাঙ্গি, ফুটি, কাকুঁড় বা চিনাল যাই বলি না কেন এটি হল একধরনের শশা জাতীয় ফল। যার বৈজ্ঞানিক নাম হল cucumis melo এবং যাকে ইংরেজিতে বলা হয় muskmelon। আমাদের দেশে গরমকালে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এই বাঙ্গি। আর দেশিয় ফল বলে খুব অল্প দামে সাধ্যের মধ্যেই মেলে। আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের বাঙ্গি দেখা যায়, বেলে বাঙ্গি ও এটেঁল বাঙ্গি। তবে সহজ ভাষায় বলতে গেলে ছোট-লম্বাটে জাত যাকে বলা হয় চিনাল এবং অন্য জাতটি বেশ বড় আকারের, মিষ্টি কুমড়ার মত ডোরকাটা খাঁজযুক্ত হয়ে থাকে।

বাঙ্গির পক্ষে বিপক্ষে নানা ট্রোল, বিতর্ক কিংবা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও, হাল্কা হলুদ রঙের মিষ্টি গন্ধযুক্ত এই ফলটির উপকারিতার রয়েছে বিশাল ফর্দ। নানা বাক-বিতন্ডা কিংবা হাস্যরসের মাঝে অনেকের কাছে অজানাই রয়ে যাচ্ছে বাঙ্গির উপকারিতার এই দিক। তবে আসুন না আজকে নাহয় সমস্ত ‘বাঙ্গি-বিতর্ক’ ভুলে গিয়ে সবাই জেনে নিই এর গুণাগুণের কথা।

বাঙ্গির পুষ্টিগুণ
বাঙ্গির মোট ওজনের ৯০ শতাংশই হল পানি। তবে পানি ছাড়াও ভিটামিন ও মিনারেলস-এ ভরপুর বাঙ্গিতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-‘এ’, ‘সি’, ‘বি৬’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম বাঙ্গি থেকে ৩৪ ক্যালরি শক্তি পাওয়া গেলেও এতে ভিটামিন এ-এর পরিমাণ ৬৭%, ভিটামিন সি ৬১%, ভিটামিন বি৬ ৫%, পটাশিয়াম ৭%, ম্যাগনেশিয়াম ৩% ও টোটাল ৩% ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্যআঁশ রয়েছে।

বাঙ্গির যত গুণাগুণ
বাঙ্গি এমন এক ফল যা নানা রোগের জন্য উপকারি। তাছাড়া আমাদের শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালন করে থাকে। তারই একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

১. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও দ্রুত ক্ষত সারাতে ভূমিকা রাখে
দেহের রোগ প্রতিরোধে কিংবা কোষীয় ক্ষত সরাতে বাঙ্গির জুড়ি নেই। বাঙ্গিতে উপস্থিত gallic acid, ellagie acid ও caffeic acid এর মত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোষীয় তথা দৈহিক ক্ষত দ্রুত সারাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

২. ওজন কমাতে সহায়ক
বাঙ্গিতে লো ক্যালরি, কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমান একদম শূন্য হওয়ায়, ফ্যাট ফ্রি বা লো ক্যালরি ডায়েটের ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ খাদ্য। আবার এতে রয়েছে হাই ফাইবার ও ওয়াটার। সুতরাং যারা সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য বাঙ্গি হতে পারে চমৎকার একটি খাদ্য।
৩ হাজার ছয়শ আটাশ জন মানুষের উপর করা মোট ১৩ টি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উচ্চ মাত্রার পানি ও কম শক্তি আছে এমন খাবার দ্রুত ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই যারা ওজন কমাতে চান , তাদের জন্যও বাঙ্গি হতে পারে আদর্শ পছন্দ।

৩. হজমে কার্যকর অবদান
বাঙ্গি আলসার, অ্যাসিডিটি ও ক্ষুধামন্দাসহ হজম প্রক্রিয়ার আরও অনেক সমস্যার সমাধান করে থাকে।এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যআঁশ যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৪. পানিশূন্যতা দূর করে
আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, বাঙ্গির মোট ওজনের শতকরা ৯০ ভাগই হল পানি। অর্থাৎ শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি পূরণ কিংবা শরীরকে মশ্চারাইজড রাখতে বাঙ্গির জুড়ি নেই। সুতরাং এই গরমে দেহকে ঠান্ডা, আরামদায়ক ও সুস্থ রাখতে খাদ্য তালিকায় বাঙ্গি যোগ করা খুবই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. ত্বকের যত্নে
ত্বকের যত্নে বাঙ্গির ভূমিকা অবর্ণনীয়।বাঙ্গিতে রয়েছে এমন এক ধরনের কোলাজেন প্রোটিন যা ত্বককে সতেজ ও টান টান করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ ও কুচকে যাওয়া প্রতিরোধ হয়।তাছাড়াও বাঙ্গিতে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকার কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। সুতরাং একটি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য হলেও আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় বাঙ্গি যোগ করতে পারেন।

৬. ব্রণ বা একজিমার সমস্যা সমাধানে
প্রথম কথা হল বাঙ্গিতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যেকোনো ধরনের জার্ম বা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে সজীব রাখতে সাহায্য করে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি, বিটা-ক্যারোটিন ও আরও কিছু উপকারি উপাদান সম্মিলিতভাবে ব্রণ বা একজিমার সমস্যাকে প্রতিহত করে। বাঙ্গি ছোট ছোট টুকরো করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পাতলা কাপড়ের সাহায্যে ছেকে রসটুকু নিয়ে লোশনের মত নিয়মিত ব্যাবহারে ব্রণ বা একজিমার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

৭. স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য
বাঙ্গিতে উপস্থিত ‘এ’ ও ‘বি’ ভিটামিন চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ও নতুন চুল গজাতে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ মাথার ত্বক থেকে সিবাম (sebum) উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা আমাদের চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও মশ্চারাইজড রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন ‘বি’ নতুন চুল গজাতে ও চুল পড়া প্রতিরোধ করে।

৮. কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করে
বাঙ্গির উচ্চ পরিমানের ফাইবার আমাদের অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মলের আয়তন ও পরিমাণ বৃদ্ধি করে যার ফলে খুব সহজেই কোষ্ঠাকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৯. গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে
বাঙ্গিতে ফলিক এসিডের উপস্তিতি থাকায় রক্ত তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটি একটি উপকারী ফল। তাছাড়াও শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমানন সোডিয়াম নিষ্কাশনের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের হাতে-পায়ে কিংবা শরীরে পানি আসা প্রতিহত করে।

১০. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
বাঙ্গিতে চিনি, চর্বি ও ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যে আদর্শ একটি খাদ্য তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণেও বাঙ্গি ভূমিকা রাখে।

১১. হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে
বাঙ্গিতে রয়েছে এন্টিকোয়াগুলেন্ট বা ব্লাড থিনিং প্রোপার্টি যা রক্তকে পাতলা রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে আর্টারিতে রক্তের স্বাভাবিক ফ্লো বজায় থাকে এবং ব্লাড ভেসেলে অতিরিক্ত কোন চাপের সৃষ্টি হয় না।যার কারণে হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ কম পড়ে এবং একে সুস্থ রাখে।

১২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
বাঙ্গিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে যা ভাসোডাইলেটর (vasodilator) হিসাবে কাজ করার মাধ্যমে রক্তের স্বাভাবিক ফ্লো বজায় রাখে। ফলে রক্তনালীগুলো খুব রিলাক্সিং থাকে এবং স্বাস্থ্যবান একটি ব্লাড প্রেসার বজায় থাকে।

১৩. দৃষ্টশক্তি ভালো রাখে এবং সার্বিক চক্ষুস্বাস্থ্য ভালো রাখে
বাঙ্গিতে উপস্তিত ৩ টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যথা- beta-carotin, (বিটা কেরোটিন) zeaxanthin (জিজ্যানথিন) ও lutein (লুটিন) সম্মিলিতভাবে চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে চমৎকার কাজ করে। গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত বাঙ্গি খেলে বার্ধক্যজনিত কারণে দৃষ্টশক্তি হ্রাস পাওয়া প্রতিহত হয় এবং চোখের সার্বিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

১৪. আর্থ্রাইটিসের জন্য উপকারি
বাঙ্গিতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি প্রোপার্টিস যা আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যাথা উপসম করতে সাহায্য করে। rheumatoid arthritis (রিউমাটয়েড)-এর রোগীদেরকে সাধারণত এধরণের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে বলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নিয়মিত বাঙ্গি খেলে ইনফ্লামেশন কমানোর মাধ্যমে হাড় ও অস্থিসংযোগের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ সম্ভব। অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বাঙ্গির মত একটি খাবার রাখলে ইনফ্লামেশন ও অস্টিওপোরোসিসের বোন (bone) রিলেটেড ইস্যুগুলো প্রতিহত করা সম্ভব।

১৫. স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়
পটাশিয়ামসমৃদ্ধ বাঙ্গি ‘stress relieving’ ফুড হিসেবে বিবেচিত যা হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সাপ্লাই বৃদ্ধি করে। ফলে বাঙ্গি আপনাকে যেকোনো কাজে আরও বেশি মনযোগী ও স্বচ্ছন্দ করে তুলতে সাহায্য করে।

১৬. ভালো ঘুম এনে দিতে পারে
বাঙ্গির ‘stress relieving’ (স্ট্রেস রিলিভিং) উপাদান স্নায়বিক ও পেশিগত রিলাক্সেশনের মাধ্যমে insomnia (ইনসমনিয়া) বা ঘুমহীনতার মত স্লিপিং ডিসঅর্ডার থেকে মুক্তির মাধ্যমে আপনাকে এনে দিতে পারে একটি সাচ্ছন্দ্যময় ঘুম।

১৭. মিলবে দাঁত ব্যাথা থেকে মুক্তি
বাঙ্গির একটি আশ্চর্যজনক উপকারিতা হল এটি ব্যাথা সহ দাঁতের আরও অন্যান্য অনেক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। “US National Library of Medicine”- এ প্রকাশিত এক গবেষণায়, অস্বাভাবিক দাঁত ব্যাথা উপসমে বাঙ্গির ভূমিকার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

১৮. কিডনির সুস্থতায়
বাঙ্গির এক ধরনের নির্যাস যাকে বলা হয় oxykine। এই oxykine নামক উপাদান কিডনির পাথর অপসারণ ও অন্যান্য কিডনি ডিসঅর্ডারে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকার কারণে কিডনির সুস্থতায় বাঙ্গির ভূমিকা রয়েছে।

১৯. ফুসফুস ভালো রাখতে
নিয়মিত বাঙ্গি খেলে দেহে ভিটামিন-‘এ’ এর ঘাটতি পূরণ হয় যা ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। বিশেষ করে ধূমপায়ী, ধুমপানের কারণে যাদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য বাঙ্গি বিশেষ উপযোগী একটি খাদ্য।

২০. ক্যানসার প্রতিরোধে
দেহে সংঘটিত বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ফ্রি রেডিকেল-ই মূলত ক্যানসার কোষের গ্রোথের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট সরবরাহ করে থাকে। বাঙ্গিতে উপস্থিত উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি ও বিটা-কেরোটিন এসমস্ত ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলগুলোকে নিঃশেষ করে করে দিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে।

এখন নিশ্চয়ই বাঙ্গিকে আর অবহেলা নয়!
একদিকে বাঙ্গির এত উপকারিতা অন্যদিকে এর পানসে স্বাদ। তবে কি দ্বিধায় ভুগছেন, গুণের কথা ভেবে খাবেন নাকি বিস্বাদের কথা ভেবে বাদ দেবেন এই বাঙ্গি মহাশয়কে? না, মোটেই না, শুধুমাত্র সামান্য স্বাদের কথা চিন্তা করে এত পুষ্টিকর একটা ফলকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়াটা মোটেই সমিচীন হবেনা। তাহলে আসুন এবার জেনে নিই ‘কম মিষ্টি অথচ বেশি পুষ্টি’তে ভরপুর এই ফলটিকে কিভাবে আমরা সুস্বাদু ও মুখরোচক উপায়ে খেতে পারি-

ক. বাঙ্গির জুস বা শরবত
পাকা বাঙ্গি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিয়ে, সাথে সামান্য চিনি (অপশনাল, ডায়াবেটিস কিংবা যাদের ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকটেড তারা বাদ দেবেন) ও ফ্রেশ পানি মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পরিবেশন করুন। আর উপভোগ করুন ‘আহ’ বলে তৃপ্তি প্রকাশ করা ফ্রেশ এক মগ বাঙ্গি জুস।

খ. বাঙ্গি মিক্সড ফ্রুটস সালাদ
আপেল, কলা, আঙ্গুর কিংবা আপনার পছন্দসই কয়েক আইটেম ফলের সাথে পাকা বা আধাপাকা বাঙ্গি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিয়ে, সামান্য বিট লবণ ও অলিভ অয়েল মেখে খুব অল্প সময়ে বানিয়ে উপভোগ করতে পারেন চমৎকার একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বা নাস্তা।

গ. বাঙ্গির মিক্সড ভেজিটেবল সালাদ
গাজর, শশা, ব্রোকলি, টমেটো ও সাথে কাঁচা কিংবা আধাপাকা বাঙ্গি টুকরো করে কেটে নিয়ে সামান্য গোলমরিচ, বিটলবণ ও ওলিভ অয়েল দিয়ে মেখে ‘মেইন ডিশ’ এর সাথে সালাদ হিসেবে অথবা ছোট স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন।

ঘ. বাঙ্গি-কলার স্মুদি
পাকা বাঙ্গি ও কলার টুকরোর সাথে এক কাপ টকদই, গোলমরিচ ও বিটলবণ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন স্বাস্থ্যকর এক গ্লাস স্মুদি যা মূহুর্তেই আপনাকে যেমন এনে দেবে স্বস্তি ও আরাম। তেমনি আপনার শরীরও পেয়ে যাবে চমৎকার কিছু পুষ্টি উপাদান।

এই ছিল সময়ের আলোচিত ফল বাঙ্গির পুষ্টিকথা ও নানাবিধ উপকারী দিক।সমালোচনা কিংবা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন যেকোনো খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আমাদেরকে এর ইতিবাচক ও উপকারী দিকটিই বিবেচনায় আনতে হবে। তাই না জেনে বা না বুঝে ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে বাঙ্গির মত বহু গুণে গুণান্বিত একটি ফলের উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হওয়াটা অবাঞ্চনীয়। আবার একইভাবে ভিত্তিহীন সব ট্রোলের কারণে বাঙ্গি গ্রহণে সাধারণের অনীহার ফলে বাঙ্গি চাষিদের জীবন-জীবিকার উপর যে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হবে সেটিও মূল্যবোধের বিপরীতে। তাই সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা ভেবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত বাঙ্গি রাখার চেষ্টা করুন এবং অন্যকেও অতি উপকারী এই ফল খাওয়ার সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করুন।

লেখক- বি.এস.সি.(অনার্স),খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, হোম ইকোনমিক্স ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সারাবাংলা/আরএফ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: