আওয়ামী লীগ ঠুনকো দল নয় যে হেফাজতের ধাক্কায় পড়ে যাবে


ঢাকা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বরিশালের আছমত আলী খান (এ কে স্কুল) ইনস্টিটিউটে পড়া অবস্থায় ১৯৬৯ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি জাহাঙ্গীর কবির নানকের। তিনি ছিলেন বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবেও ছিলেন সফল।

আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিলে ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় স্থান পান তিনি। তার আগে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে নেতৃত্ব ছিলেন। ক্ষমতাসীন সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম নিয়ে সারাবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা। জাহাঙ্গীর কবিরের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নৃপেন রায়।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ তো ঠুনকো নয়। আওয়ামী লীগকে হেফাজত ধাক্কা দিলেই পড়ে যাওয়ার মতো দল নয়। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।

সারাবাংলা: হেফাজতের তাণ্ডব এবং তাণ্ডব পরবর্তী সরকারের কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান কিন্তু সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আমি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই সেটি হলো যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে অবশ্যই এদেশে আলেম ওলামা মাশায়েক পীর দরবেশ ওলিআল্লাহ যারা আছেন, তাদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে আমাদের। আর বিষয়টি দেখবেন যে, আমরা কিন্তু মাদরাসা-মসজিদের বিরুদ্ধে নয় বরঞ্চ আমরা বলতে পারি যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই মাদরাসা-মসজিদ-মক্তব; এ শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি গাইডলাইনের মধ্যে এনেছে।

কাজেই আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে সুসংগঠিত করি এবং চেতনায় উদ্বুদ্ব করি। এই যে সাম্প্রদায়িক একটা কলহের সৃষ্টি করা হচ্ছে, একটি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে; বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেই আমরা মোকাবিলা করার পক্ষে। দেশে একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে, সরকার তার অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নেবে। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ বিষয়টি মোকাবিলা করবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। খেলাফতে মজলিস বা হেফাজতে ইসলাম; তাদের যে কর্মকাণ্ড তা আমরা শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত লক্ষ করেছি।

কাজেই আমরা এদেরকে আর এক চুল ছাড় দেওয়ার পক্ষে না। যারা এই সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় অন্ধত্বকে পুঁজি করে ধর্ম বিশ্বাস  করে, যারা উগ্র সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ জানান দিতে চায়, তাদের শক্তি জানান দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ চলবে।

সারাবাংলা: হেফাজতে ইসলামের মতো একটি ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠনকে মাঠে মোকাবিলা বা প্রতিরোধে করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কোনো দুর্বলতা বা অবস্থান রয়েছে কি না?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: আওয়ামী লীগ মাঠে রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায়ও রয়েছেন। তবে মাঠে তো যুদ্ধ করার মতো সময় পরিবেশ-পরিস্থিতি হয়নি। দেখেন-এই মামুনুল হককে যে নামিদামি রিসোর্ট থেকে ধরা হলো…? ধরল কারা? কাজেই রাজনৈতিকভাবে আমরা কিন্তু অত্যন্ত সতর্ক এবং তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখছি। আর এই তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখছি বলেই কিন্তু রিসোর্টে মামুনুল একজনকে তথাকথিত স্ত্রী বানিয়ে সময় কাটানোতে যখন ঢুকেছে তখন কিন্তু আমাদের সংগঠনের যুবকেরা ধরেছে। আমাদের দল খুব তীক্ষ্মভাবে তাদের প্রতি দৃষ্টি রেখেছে।

সারাবাংলা: বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাস লকডাউন উঠে গেলে বা ঈদের পর হেফাজতে ইসলাম তাদের আবারও শক্তির প্রদর্শন করতে পারে এবং গ্রেফতারকৃত মাওলানাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামতে পারে? এ বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

জাহাঙ্গীর কবির নানক: দেখুন, তাদের তো একটি অশুভ উদ্দেশ্য ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা। হেফাজতের শক্তি হলো মাদরাসার অবুঝ এতিম ছাত্ররা। তারা তাদেরকে ব্যবহার করে। তারা কিন্তু মাদরাসার ছাত্রদের এই শক্তিটাকে বিভ্রান্ত করে। কাজেই এই বিভ্রান্তির জায়গা থেকে এই মাদরাসা শিক্ষাকে বের করা দরকার। এটিই শুধু না তাদের পিছনে মদদ দিচ্ছে, তাদের পিছনে গাঁটছড়া বেঁধেছে বিএনপি-জামায়াত। যারা সমস্ত রাজনীতিতে খেই হারিয়ে ফেলে হাবুডুবু খাচ্ছে; সেই জামাত-বিএনপি-হেফাজত শক্তি একসঙ্গে যেমনিভাবে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে চেষ্টা করেছিল তেমনই তারা আরেকবার চেষ্টা করল। তাদের এই চেষ্টাও এবার ব্যর্থ হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠন, অত্যন্ত সতর্ক একটি দল এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের সভাপতি দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আছে।

আমি যে বিষয়টি বলতে চাই তা হলো—মাওলানা, পীর মাশায়েক, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগকে কিন্তু মাওলানা-আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে পরিণত করার কোনো কোনো অপচেষ্টা চলছে। এই অপচেষ্টা করে কোন লাভ নেই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে, যারা দেশটাকে একটি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র করতে চায়। মাদরাসায় আমাদের সন্তানকে পাঠাই দ্বীন ও কোরআন সুন্নাত শিক্ষার জন্য। কিন্তু তাদেরকে যারা বিভ্রান্ত করে; সেই সকল অশুভ এই ইবলিশদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রশ্ন। এদের সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি কঠিন ব্যবস্থার নেওয়ার পক্ষে আমি।

লকডাউনের পরে, লকডাউনের পরে তারা কী করতে পারে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। কারণ আমি বিশ্বাস করি ,যে সারাদেশে যে মাদরাসার ছাত্ররা আছে, সে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং যে কমিটি আছে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা বুঝতে পেরেছে সমস্যাটি আসলে কোথায়? সেই মূল বিষয় অনুধাবন করে তারা বাস্তব পথে হাঁটবেন।

সারাবাংলা: হেফাজতে ইসলাম যদি এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটায় তাহলে…

জাহাঙ্গীর কবির নানক:  এর ব্যত্যয় হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। আওয়ামী লীগ তো ঠুনকো নয়। আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিলেই পড়ে যাওয়ার মতো দল নয়। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।

সারাবাংলা/এনআর/একে





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: