‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মামুনুলকে নিয়ে আলাপ হয়নি’


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলায় গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জানিয়েছিলেন সদ্য কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা সংগঠস হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্তও করেছেন বলে জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। তবে এর মধ্যে হেফাজতের হেভিওয়েট নেতা মামুনুল হকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৪ মে) রাতে চার দফা দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসায় গিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রবেশ করেন হেফাজত নেতারা। রাত ১২টার দিকে তারা সেখান থেকে বের হন।

আরও পড়ুন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৪ দাবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের বিষয়ে কথা বলেছিলাম। তাদের যেন মুক্তি দেওয়া হয়, আমরা সেই দাবি জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

হেফাজতের শীর্ষ এই নেতা জানান, সম্প্রতি হেফাজতের যেসব ওলামা-মাশায়েখদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মুক্তির দাবি ও ২০১৩ সালের পর থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার এবং কওমি মাদরাসা খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।

হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, মামুনুলের বিষয়টি এখানে আনা হয়নি। এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা আছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। তার নারীঘটিত আলোচনা হেফাজতকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তার বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।

আরও পড়ুন- ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় হেফাজত নেতারা

এদিকে, গ্রেফতার হেফাজত নেতাদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে জানতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী আদৌ এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না— জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বলেন, হেফাজত নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে নেতাদের মুক্তির বিষয়ে কথা হয়েছে। মন্ত্রী আইনের মধ্যে থেকে কী করা যায়, তা ভেবে দেখতে চেয়েছেন। এর বাইরে কিছু নয়।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় হেফাজত নেতাদের। এসময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, হেফাজত নেতাদের মধ্যে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দেওয়ানার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা আতাউল্লাহ আশরাফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মুফতি জসিম উদ্দিন।

এর আগে, গত ১৯ এপ্রিলও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। হেফাজতে ইসলামের ওই সময়কার মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজত নেতা ও খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, তার ভাতিজা মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীসহ কমপক্ষে ১০ নেতা সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে সেদিনও কী বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি।

এর মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল রাতে আচমকা হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন ওই কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অবশ্য আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়। তবে এই আহ্বায়ক কমিটির কোনো কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

এদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনকের জন্মশতবর্ষের আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে দেশব্যাপী সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হেফাজতের বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্তত এক ডজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের কেউ রিমান্ডে, কেউ কারাগারে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোণঠাসা সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা শুরু থেকেই সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: