latest

‘নোবেলের প্রাপ্য ছিল শেখ হাসিনা, দুঃখ লাগে অশান্তির দেশে আসে’


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে একটা স্বীকৃতি শেখ হাসিনার প্রাপ্য ছিল। নোবেলের প্রাপ্য ছিল শেখ হাসিনা। অথচ দুঃখ লাগে অশান্তির দেশে নোবেল শান্তি পুরষ্কার আসে। যেখানে যুদ্ধবিগ্রহ লেগে আছে, গণহত্যা আছে, সেখানে নোবেল আসে।

রোববার (দুপুরে) ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন চত্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে ‘শেখ হাসিনার চার দশকঃ বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা‘ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পিতা বঙ্গবন্ধুর মতই অন্ধকারের বিরুদ্ধে, দুর্যোগের বিরুদ্ধে ঝড়ের মধ্যে অপ্রতিরোধ্যভাবে ও অকুতোভয়ে এগিয়ে যাওয়ার অপর নাম শেখ হাসিনা। সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৭ মে স্বদেশ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শেষে ছয় বছর পর বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিলে আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে প্রতিরোধ করতে পারেনি কোনো শক্তি। জনতার কন্ঠ বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল- হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃহত্যার বদলা নেবো/ শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম।

দেশে ফিরে বাংলাদেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে শেখ হাসিনার ছুটে বেড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা একজন সংগ্রামী নেতা থেকে এখন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও উন্নয়নের নেতা হিসেবে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার জন্যই জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পেরেছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশ পাপমুক্ত ও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব আছে বলেই বাংলাদেশে আজ সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং সমুদ্রসীমা জয়লাভসহ গঙ্গার নদীর পানির ন্যায্য পাওনা বুঝে পেয়েছে এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েও সমাধান হবে।

বাংলাদেশ আজ পারমাণবিক বোমা ছাড়া আর্থসামাজিক সকল সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার চলার পথ কখনো পুষ্প বিছানো ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবুও শেখ হাসিনা এগিয়ে গেছেন মানুষের মুক্তির জন্য,অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য। তিনি এসেছিলেন বলেই কলহ-কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও চার দশক অতিক্রম করেছেন। তিনি আজ আওয়ামী লীগকেও অতিক্রম করেছেন।

কোন দেশের নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে একটা স্বীকৃতি শেখ হাসিনার প্রাপ্য ছিল। নোবেলের প্রাপ্য ছিল শেখ হাসিনা। অথচ দুঃখ লাগে অশান্তির দেশে নোবেল শান্তি পুরষ্কার আসে। যেখানে যুদ্ধবিগ্রহ লেগে আছে, গণহত্যা আছে, সেখানে নোবেল আসে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদান, দারিদ্র্য বিমোচন; এইসব অনেকগুলো সাফল্য শেখ হাসিনার। আন্তর্জাতিক একটি স্বীকৃতি তিনি হয়ত পাননি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে শেখ হাসিনার জন্য যে নোবেল পুরস্কার মানুষের অন্তরে লেখা হয়ে গেছে, এই নোবেল পুরস্কার কেউ কোনোদিন সরিয়ে নিতে পারবে না। অনন্তকাল ধরে বাংলার মানুষ তাকে স্বীকৃতি দেবে।

বঙ্গবন্ধু রাজনীতির রোল মডেল, আর উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে শেখ হাসিনার নাম চিরভাস্মর হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্যরা।

সারাবাংলা/এনআর/এসএসএ





Source link