latest

প্রত্যাবর্তন দিবসে উগ্রবাদী অপশক্তি মোকাবিলার শপথ আ. লীগের


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবিলা করে হেফাজতে ইসলামসহ সকল সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী-প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র সমূলে উৎপাটন করার প্রত্যয় নিয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে অঙ্গীকার করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সোমবার (১৭ মে) বিকেলে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। তার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যরিস্টার ফজলে নূর তাপস, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এই পথে যেতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার আদরের সন্তানের পায়ে আঘাত ও বুকে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। কিন্তু তিনি থামেননি। আজকে এ কথাই বলতে চাই, ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রী এখানে থেম না… এবং শেখ হাসিনা থামেন নাই। তিনি সব সময় মনে রেখেছেন আমি ক্লান্ত না, শ্রান্ত না।’

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাঙালিকে তিনি তার সূর্যালোকের দিগন্তে নিয়ে যাবে। অভীষ্ঠ লক্ষ্যে নিয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশ আজ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে গেছে। ইনশাল্লাহ তার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হব। সেই শক্তির পাথেয় বঙ্গবন্ধুর বাণীকে সম্বল করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অবশ্যই সূর্যালোকিত দিনের দিকে এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আজ ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার প্রমাণ আমরা সবকিছুতেই পাই। কিন্তু একটা কথাই বলি, কুকুররা ঘেউ ঘেউ করবে, কিন্তু কাফেলা এগিয়ে যাবে। তারা ষড়যন্ত্র করে কিছুই করতে পারবে না।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা জীবনে ২১ বার মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করে এই জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। করোনার সময় একটি দেশকে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়- একাই লড়াই করে তা তিনি পৃথিবীর নেতৃত্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন।‘

সরকাররবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ওরা শেখ হাসিনাকে ভয় দেখাতে চায়। শেখ হাসিনা ভেঙে যাবে, কিন্তু মচকাবে না। যত ষড়যন্ত্রই হোক। আওয়ামী পরিবারের একটা সদস্য বেঁচে থাকতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেবো না। এই ষড়যন্ত্র বরদাশত করব না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা যদি দাঁড়াতে পারি, কেউ আমাদের সর্বনাশ করতে পারবে না। যদি আমরা নিজেরা নিজেদের পায়ে কুড়াল না মারি তাহলে কেউ পারবে না। সুতরাং আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ত্যাগের সর্বোচ্চ মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে আদর্শের পতাকা তুলে দাঁড়াতে হবে। অবশ্যই আমাদের জয় হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার এই দেশে এসে মানুষ ও দেশকে নেতৃত্বে দেওয়ার ৪০ বছর পূর্ণ হলো। সেদিন শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল না, ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রত্যাবর্তন। দিনটি গণতন্ত্রের অগ্নিবীণার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। সেই দিনটি ছিল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠের প্রত্যাবর্তন। সেই দিনটি ছিল বাংলাদেশের সমৃদ্ধি আগামীর জন্য যে নেতৃত্ব দেবে সেই নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন। তাই আজ শেখ হাসিনা শুধু গণতন্ত্রের মানসকন্যা নয়, শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধি নয়, তিনি হচ্ছেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বদলে গেছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। আমরা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। দল শক্তিশালী ছিল। বুকে পাথর বেঁধে আমরা লড়াই-সংগ্রাম করেছি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারণে পর পর তিনবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তাই বলে আমাদের মধ্যে আলস্য আসলে চলবে না। চারিদিকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে যেমন ষড়যন্ত্র হয়েছিল আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই সজাগ থাকতে হবে।’

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘এই ৪০বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা অত্যন্ত কঠিন এবং বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছেন। এই পথ মসৃণ ছিল না। আজ আমরা যেমন সুন্দর মুজিব কোর্ট পরে এসেছি, রঙিন পাঞ্জাবি-মুজিব কোর্ট পরে এসেছি, একটি আনন্দের দিন হিসেবে। কিন্তু এই দিনে আমরা আসতে পারতাম না এবং এখানে হয়তো বসতেও পারতাম না, যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেদিন বাংলাদেশে আদর্শের প্রতীক হয়ে দেশে ফিরে না আসতেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কি মামুনুল হকদের হাতে বাংলাদেশকে ছেড়ে দেব? না মামুনুল হকদের হাত থেকে, ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে, যারা সাম্প্রদায়িক শক্তির জাগরণ ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, সেই অপশক্তির অপরাজনীতিবিদদের হাতে বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে পারি না। ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি মামুনুল হকদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। আর এই রক্ষা করতে পারে শুধুমাত্র আদর্শের প্রতীক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাদের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ বাংলাদেশে থাকতে পারে না। আমাদের এই মাতৃভূমি বাংলাদেশে তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

মির্জা আজম বলেন, ‘আজকের ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু ১৯৮১ সালের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি এবং শক্তিশালী। তাদের মোকাবিলা করতে হলে গতানুগতিক রাজনৈতিক সংগঠন করে পারা যাবে না। সেই কারণে আমাদের দরকার শক্তিশালী আওয়ামী লীগ। আমরা ইউনিট থেকে শুরু করে ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ে যদি আওয়ামী লীগকে দাঁড় করাতে পারি, তাহলে সরকার ছাড়াই রাজনৈতিকভাবে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারব।’

এছাড়া দুপরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম





Source link