বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই— মির্জা ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে নতুন বাজেট দিতে যাচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো জায়গা এই বাজেটে নেই। সরকার যে উন্নয়নের কথা বলছে, সেই উন্নয়ন কার? সেই উন্নয়ন শুধু সরকারের মদতপুষ্ট যারা তাদের, যারা সরকারের প্রশ্রয় পেয়েছে, যারা সরকারের আশ্রয় রয়েছে তাদের। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্থান বাজেটে নেই।’

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণের দিনটি স্মরণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উন্নয়ন নিয়ে আজকে সরকার যে বড় বড় কথা। কোন উন্নয়ন, কাদের উন্নয়ন? এই উন্নয়ন শুধু তাদের যারা এদেশকে শাসন করছে। তাদের পকেট বোঝাই হচ্ছে আর সাধারণ মানুষ একেবারে গরিব থেকে গরিব হচ্ছে।’

বিরোধী দলের ওপর সরকার এক দশক ধরে নির্যাতন করছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আমাদের দলের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৫‘শ উপরে নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন আমাদের ইলিয়াস আলীসহ হাজারো নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের জাতির মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা গেলে দেশের মুক্তি নেই। সেজন্য আসুন দলমত নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি এক হই। আমরা সকলের এক হয়ে এই ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটাই, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনি, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি।’

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিএনপির এই উপলব্ধি আমার ভালো লেগেছে যে, গণঅভ্যুত্থান ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না। সেই গণঅভ্যুত্থান কীভাবে হবে? সেটা কি আরব বসন্ত আমাদের উদাহরণ, সেটা কী মিয়ানমার আমাদের উদাহরণ অথবা দিল্লিতে যে আন্দোলন ছয় মাস হয়েছে সেটা আমাদের উদাহারণ? মিয়ানমার সফল হয়নি, এখন পর্যন্ত দিল্লিতে সফল হয়নি। অতত্রব সমস্ত দিক বিবেচনা করে আমাদের এগোতে হবে।

‘আমরা গণতন্ত্র বিনির্মাণ করছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মান করছি। আমি মনে করি সেই লড়াইটা কেবলমাত্র একটা ক্ষমতার পরিবর্তনের লড়াই না। সেটা পরিপূর্ণভাবে জীবনবোধ, মূলবোধ, সমাজ পরিচালনার যে নীতিমালা সব কিছু থাকতে হব ‘— বলেন মান্না।

গণফরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘১২ বছরের অধিককাল এই সরকার দেশে কোনো একটা ভোট সঠিকভাবে করতে দিচ্ছে না। তারা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণও করতে দিচ্ছে না। সরকার পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে তামাশায় পরিণত করেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/একেএম





Source link