‘এই বাজেট কল্পনাপ্রসূত, মনগড়া এবং অবাস্তব’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এবং সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তা কল্পনাপ্রসূত, মনগড়া এবং অবাস্তব। আন্দাজে করা এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বাজেটে বিশাল ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে যে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। এই বাজেটে ব্যাপক সংশোধনী বা রদবদল করতে হবে। এছাড়াও, স্বাস্থ্যখাতে নামমাত্র বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনি তৈরিতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বাজেটের আকারের তুলনায় অনেক কম।

পাশাপাশি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতেও অনেক কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জি এম কাদের।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে বাজেট অধিবেশন থেকে বের হয়ে জাতীয় সংসদের টানেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপা’র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব (ঢাকা বিভাগ) লিয়াকত হোসেন খোকা, জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, পনির উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান পীর ফজলুর রহমান মিজবাহসহ আরও অনেকে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, ধারণার বশবর্তী হয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট তৈরী করেছেন।

তিনি বলেন, এই বাজেট এতটাই পরিবর্তন করতে হবে যে, তাতে প্রণীত বাজেটের প্রকৃত রুপ থাকবে না। বাজেটে খরচ বাড়িয়েছেন, বাড়ানো দরকারও আছে কিন্তু অর্থ আহরণের বিষয়ে তারা হোঁচট খেয়েছেন। গেলো বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী, ১০ মাসে ৬০ ভাগ রাজস্বও আদায় করতে পারেননি। সামনের দুই মাসে কতটা আদায় করতে পারবেন তাও জানেন না। যে ব্যয় প্রাক্কলন করেছেন তাতে যথেষ্ট পরিমাণে ঘাটতি রয়েছে। জিডিপির ৬ দশমিক ২ ভাগ ঘাটতির বাজেট এর আগে আর হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘাটতির এই বাজেটে যত সুন্দরভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে তা ডিটেইলে দেখা গেছে অনেক কিছুতেই ফাঁক আছে।

জি এম কাদের বলেন, যারা করোনাকালে কর্মহীন হয়েছে এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই এই বাজেটে। স্বাস্থ্য খাতের জন্য সাধারণ মানুষের বিপুল আকাঙ্ক্ষা ছিল। এবার স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের একটা বরাদ্দ হবে এমন আশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু, বাজেটে সামান্য বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এটা সাধারণভাবে বলা যায় রুটিনবৃদ্ধি। কোন ক্রাইসিসের জন্য এই বৃদ্ধি সামান্য এবং অপ্রতুল।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটের ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণ, স্বল্পসুদে ঋণ এবং বিভিন্ন খাত থেকে অর্থপ্রাপ্তির যে কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। আগামী দিনের অর্থনৈতিক যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তাতে এ লক্ষ্য আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে কি না তা বলা যাচ্ছেনা। তাই রাজস্ব প্রাপ্তিতে যেমন বিশাল সমস্যা হতে পারে, তেমনি বাজেট অনুযায়ী অর্থায়নেও সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া যেসকল বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে তা মুখে বলেছেন কিন্তু কাগজে মোটেই নেই।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একেএম





Source link