লুটপাট বন্ধ না হলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না: ন্যাপ


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: লুটপাট বন্ধ না হলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার নেতৃদ্বয় এ মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, ‘করোনা দুর্যোগের মধ্যে সরকারের প্রস্তাবিত বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা হবে। করোনাকালে প্রস্তাবিত বাজেটে গণমানুষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি অনেকটাই অবহেলিত। বাজেট বাস্তবায়নে সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বরাদ্দকৃত অর্থ হরিলুট, দুর্নীতি, অপচয় রোধ করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।’

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট বিশাল অঙ্কের ঋণনির্ভর। এই বাজেট সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করা হয়নি। এই বাজেটে দুই পদ্ধতিতে ভ্যাট আরোপ হতে যাচ্ছে। যা শাখের করাতের মত অবস্থা। বরাবরের মতো নতুন অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। এর মাধ্যমে আসলে লুটেরা ও দুর্নীতিবাজদের স্বার্থই বারবার রক্ষা করা হচ্ছে। ফলে দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হয়। সরকারের উচিত এই প্রস্তাব বাতিল করা।’

তারা বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে- এই বাজেট কল্পনাবিলাসী ও লুটপাট সহায়ক বাজেট। বাজেটের টাকা কোত্থেকে আসবে। বিদেশি ব্যাংক, দাতাগোষ্ঠী নাকি দেশীয় কোনো ব্যাংক থেকে। কিন্তু এই অর্থের চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। করোনাকালে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। এই বাজেটে এর মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। ভালো বাজেট সেটাই, যেই বাজেটে সাধারণ মানুষের কথা ভাবা হয়।’

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘দেশে শিল্পায়ান হচ্ছে না। এই শিল্পায়ন না হলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের বিশাল বেকার জনগোষ্ঠী পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে উঠছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষে প্রয়োজন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তা না হলে বাজেট বিশাল করে লাভ নেই।’

তারা বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ দিয়েই দায় এড়ানো যায় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে থোক বরাদ্দের অভিজ্ঞতা আসলে ভালো নয়। এতে দুর্নীতি, লুটপাটের ক্ষেত্র আরও বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও দুর্নীতি রাষ্ট্রের সার্বিক দায়িত্বহীনতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে ‘

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘প্রস্তাবিতত বাজেটে যে ৭.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে, তা পুরোপুরি অবাস্তব। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, বড়জোর ৪-৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। করোনার থাবা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশ অতি উচ্চাভিলাষী।’

তারা বলেন, ‘দেশের সকল স্তরে ধারাবাহিক দুর্নীতির খবর প্রকাশের পরও সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা জনগণের বুঝে আসে না। সরকার হয়তো মনে করে ব্যবস্থা নিতে গেলে দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। অথচ এই ব্যবস্থা না নেওয়ার মানসিকতা গোটা বাংলাদেশকে বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। ফলে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট লুটেরাদের কল্যাণ করলেও জনগণের কল্যাণে আসবে না।’

সারাবাংলা/এজেড/একেএম





Source link