‘নেত্রীর বার্তা— জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যরাই নৌকা পাবে’


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তিন সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আগ্রহীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে যারা জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এবং যারা দুঃসময়ে দলের সঙ্গে ছিল, তাদেরই মনোনয়ন দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (৪ জুন) দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য ফরম প্রদান ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের ভোট হবে আগামী ১৪ জুলাই। আসনগুলো থেকে নৌকার মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন দেড় শতাধিক নেতা। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, এই তিন আসনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী ১২ জুন গণভবনে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডেকেছে দলটি।

‘নেত্রীর বার্তা— জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যরাই নৌকা পাবে’

এদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে এই তিন আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ফরম বিতরণ ও জমাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা দেওয়া যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিন উপনির্বাচনের ডেট হয়ে গেছে। আমরা ১২ তারিখে (১২ জুন) মনোনয়ন বোর্ড বসব আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। মনোনয়নে বোর্ডে আমরা প্রার্থিতা ঠিক করব।

উপনির্বাচনে দলের প্রার্থিতা পেতে আগ্রহীদের সংখ্যাধিক্যের দিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা অনেক। মনোনয়ন ফরম তুলতে কোনো অসুবিধা নেই— অনেকেই হয়তো এই কথাই ভাবছে। পাই আর না পাই, প্রার্থী হতে চাই। কারণ বিএনপি নেই শুনেছে। সেই জন্য প্রার্থিতার দৌড়ও বেড়ে গেছে।

‘নেত্রীর বার্তা— জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যরাই নৌকা পাবে’

“আমি একটা কথা বলতে চাই। নেত্রীর সঙ্গে কারও ব্যাপারে আমার কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সাধারণ গাইডলাইন তিনি দিয়েছেন— ‘আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দেবো, যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।’ তার মানে জনগণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা যাদের আছে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত যারা, দুঃসময়ে যারা দলের সঙ্গে ছিল— তাদের কাউকে মনোনয়ন দেবেন, এমন আভাস দিয়েছেন। এখানে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকবে, দলীয় রিপোর্টও থাকবে। নেত্রীরও নিজস্ব টিম আছে, সেই টিম দিয়ে বিভিন্নভাবে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সব তথ্য মিলিয়েই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে,”— বলেন ওবায়দুল কাদের।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্থবিরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বহুদিন পর সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহের বই, যেসব জেলা শাখার সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে, যেগুলো কমিটি আছে জেলা উপজেলায় আমরা দেওয়া শুরু করব। কারণ কোভিড কবে শেষ হবে, কেউ জানে না। আমাদের কোভিডের সঙ্গে বসবাস করতে হবে। এর মধ্যে আমাদের সংগঠনও চালিয়ে যেতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি আমাদের সভা-সমাবেশগুলো করতে থাকব।

মহানগর নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার মনে হয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান ঢাক-ঢোল পিটিয়ে করার প্রয়োজন নেই। আপনারা যে ২৭টি টিম করে দিয়েছেন, সেই টিম সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করবে আমাদের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী। চিহ্নিত চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও চিহ্নিত মাদকাসক্ত— এই ধরনের লোক এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি— এদের কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগে সদস্য করা যাবে না। এটা আমরা বারবার বলেছি, আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

‘নেত্রীর বার্তা— জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্যরাই নৌকা পাবে’

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পথরেখা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা বিভাগে নেত্রী একজন যোগ্য সাংগঠনিক সম্পাদক (মির্জা আজম) দিয়েছেন। খুবই জনপ্রিয় একজন সংগঠক। কাজ বোঝে, কাজ বুঝিয়ে দিতে পারে। কুইক ডিসিশনও নিতে পারে। মহানগর উত্তরে শেখ বজলুর রহমান ও মান্নান কচির নেতৃত্বে আমরা একটি ভালো কমিটি করেছি। তারা অত্যন্ত অ্যাকটিভ। দলের স্বার্থে কাজ করে। আমার মনে হয়, ঢাকা মহানগরে সুদিন ফিরে আসবে। ঢাকা শহর হচ্ছে পার্টির ইঞ্জিন। ইঞ্জন যদি না চলে, বগি চলবে কেমন করে? ইঞ্জিনকেই তো ফলো করবে সবাই। ঢাকা মহানগর এটাই আওয়ামী লীগের প্রাণ, এটাই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি।

মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রধান অতিথির কাছ থেকে সদস্য নবায়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর দু‘জন নারী সদস্য নবায়ন ফরম সংগ্রহ করেন এবং বিশেষ শ্রেণিপেশার প্রতিনিধি হিসাবে একজন শিক্ষক, একজন প্রকৌশলী ও একজন উকিলকে সদস্য ফরম দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ অন্যরা। সভা পরিচালনা করেন এস এম মান্নান কচি।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link