রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে: রুমিন ফারহানা


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বেক্সিমকোর চাপের কারণে সরকার টিকার বিকল্প উৎসে যেতে পারেনি। যদিও রাশিয়া ও চীন আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে চেয়েছিল। টিকা বিক্রি করে সরকারি দলের এক অতি ক্ষমতাসীন ব্যক্তির লাভের জন্য রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে।

তিনি বলেন, ‘অর্থ খরচে এত অদক্ষতা দেখিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আবার সেই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানো যে কী? সেটি দেশের মানুষ ভালো জানে। বরাদ্দকৃত অর্থ খরচে স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম কোনো প্রতিফলন দেখতে পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মোকাবিলা এবং ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার শুরু থেকেই ছয়-নয় করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল।’

রোববার (৬ জুন) বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘করোনাকালে দেওয়া বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ, ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমার’। করোনাকালে উন্নয়নের সঙ্গী ছিল জীবন এবং জীবিকা। এই দুই খাতে ভীষণভাবে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট। সম্পূরক বাজেটে ১৯টি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধির তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাতে যে সকল মন্ত্রণালয় বাদ পড়েছে সে সকল মন্ত্রণালয় হচ্ছে কৃষি, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, খাদ্য, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। এই বাজেটে আরও কমেছে। খাদ্য শস্যের আমদানি সাম্প্রতিক অতীতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে। কিছু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা বললেও দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরে প্রথম দশ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৯ শতাংশ। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেও বিগত ১০ বছরে স্বাস্থ্য সেবায় এডিপি বাস্তবায়ন এই বছরের সবচেয়ে কম। প্রথম ১০ মাসে বরাদ্দের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। অথচ করোনায় সর্বোচ্ছ গুরুত্ব ছিল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে হওয়া উচিত। অথচ আমাদের বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সব চেয়ে কম বরাদ্দ। আবার যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটাও কেন ঠিক ঠাক ব্যয় করা গেল না সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিখাতে ব্যয় কমার বদলে ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়। টিকা ব্যবস্থাপনায় শুরু থেকেই নয় ছয় দেখেছি। সব ডিম এক ঝুঁড়িতে রাখার ফল হয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট ৬ মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও এবং সেই টিকার মূল্য পরিশোধ করার পরেও টিকা আসছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ। অন্যদিকে বেক্সিমকো লাভ করে ৩৮ কোটি টাকা। নিজের ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষায় সরকার বেক্সিমকোর চাপের কারণে টিকার বিকল্প উৎসে যেতে পারেনি। যদিও রাশিয়া ও চীন আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে চেয়েছিল। সরকারি দলের এক অতি ক্ষমতাসীন ব্যক্তির লাভের জন্য রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে।’

রুমিন ফারহানা প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম এর মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘যখন এখন  ‘এক কোটি দেব পরে আরও এক কোটি পাবেন’ এবং স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করে অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরেছেন তখন তাকে চরমভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। মানুষের চিন্তবাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্তি গণমাধ্যমের স্বার্থে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। রোজিনাকে ৬ ঘণ্টা ধরে যে হেনস্থা করা হলো যারা এই জন্য দায়ী তাদের ব্যপারে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটিও জানতে চাই। কোনো গণমাধ্যমকে রিপোর্ট প্রকাশ করার জেরে হেনস্তার শিকার হতে হয় নানা রকম হুমকির মুখে পড়তে তখন আর কোনো গণমাধ্যমই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। বিশ্ব গণমাধ্যম সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২ তম। মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানের অবস্থান তার চাইতে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে উন্নয়ন হয়েছে গুটি কয়েক মানুষের। ধনী আরও ধনী হয়েছে। গরিব আরও গরিব হয়েছে, বৈষম্য আরও বেড়েছে। করোনায় দারিদ্রের সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও বিগত ১০ বছরের স্বাস্থ্য সেবায় এডিপি বাস্তবায়ন এই বছরের সবচেয়ে কম। প্রথম ১০ মাসে বরাদ্দের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে





Source link