‘ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপ সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করবে’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপ সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। ভোটার তালিকার ‘সমন্বিত প্রকল্প’ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র আলাদা করার কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত ‘ভোটার তালিকা’ ও ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ বিষয়ক ‘সমন্বিত প্রকল্প (Integrated Project)’ নিয়ে এসব কথা বলেন জেএসডি’র সভাপতি।

এ বিষয়ে আব্দুর রব বলেন, ‘ভোটার তালিকা’ ও ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ একটি ‘সমন্বিত প্রকল্প’, যা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্প হচ্ছে অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ডিত প্রকল্প। এ প্রকল্পের মালিকানা প্রজাতন্ত্রের পক্ষে কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের। ভোটার তালিকার সমন্বিত এই প্রকল্প থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র আলাদা করার কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই।

তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকার সমন্বিত প্রকল্প খণ্ডিতকরণ বা কমিশনের সম্পদ বা জনবল বিভক্তিকরণ বা ভোটার তালিকার ডাটাবেজ নির্বাহী বিভাগে স্থানান্তরকরণ— এসব সংবিধান বহির্ভূত, বেআইনি এবং অসাংবিধানিক কাজ। যেহেতু ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র একটি সমন্বিত প্রকল্প, সেহুত এই সমন্বিত প্রকল্পে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা এর স্থানান্তরে বড় ধরনের সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করবে। ভোটার তালিকা তৈরির কাজের তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত— যা সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করেছে। তাই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের তদারকি, নির্দেশনা এবং পরিচালনা করার ক্ষমতা কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের।

ওই বিবৃতিতে রব আরও বলেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশের সংবিধান ১১৮ এবং ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা এবং দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে। সংবিধান ক্ষমতার যে বিভাজন নির্ধারিত করে দিয়েছে, তা কোনো কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না। ভোটার তালিকা প্রণয়নে সারাদেশের সার্ভার স্টেশনসহ সকল ডাটাবেজ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সম্পত্তি। বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্যই অর্থ জোগান দিয়েছে, নির্বাহী বিভাগের স্থাপনা বৃদ্ধির জন্য নয়। নির্বাচন কমিশন গত ১৩ বছর যাবৎ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দক্ষতার সঙ্গে এ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল ভোটার তালিকা প্রণয়নের বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই অর্জন সরকারের রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির নিকট কোনোক্রমেই ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন এমনিতেই ধ্বংসপ্রাপ্ত। অন্তত কাগজপত্রে হলেও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত রক্ষা হোক। অদূর ভবিষ্যতে সংবিধানের চেতনা ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনার অবশ্যই সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনও স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

সে লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশনকে সুরক্ষা দিতে হবে। সরকার এ হীন উদ্দেশ্য দ্রুত পরিত্যাগ করে সংবিধানের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এ বিতর্কের অবসান ঘটাবে বলেও ওই বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেন আব্দুর রব।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এনএস





Source link