‘মেগা প্রোজেক্ট হলেও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বস্তিবাসীরা’


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে হাজার কোটি টাকার প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন হলেও বস্তিবাসারীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৮ জুন) মহাখালীতে পুড়ে যাওয়া ‘সাততলা’ বস্তি পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। কি কারণে আগুন লাগল? কেন লাগল?- তা জানতে হবে। এদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা কী করা যায়, তার জন্য অবশ্যই সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে। এখানে সবাই ভাসমান মানুষ। কেউ গৃহপরিচারিকার কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ বুট পলিশ করে। একেবারেই বাস্তুহারা ছিন্নমূল মানুষগুলো এই ধরনের বস্তিতে বসবাস করে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ৫০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। আজকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট করছে। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রোজেক্ট ৫০ হাজার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য কেউ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কঠিন কাজ নাতো। বাংলাদেশে সরকারের যে জমি, সেই জমিগুলোই তো বরাদ্দ দেওয়া যায়।’

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ। আমি আশা করি, আগামী দয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সামান্য হলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা আসবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি চালু না হয়, এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা যারা সমাজের জন্য কাজ করছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি তাদের কাজ হলো অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।’

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুনসী বজলুল বাসিত আনজু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকি, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর যুব দল উত্তর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন আতিকুল হক মতিনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে নেতারা।

উল্লেখ্য, সোমবার (৭ জুন) ভোর ৫টার দিকে মহাখালী সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পরই ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুনে নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভয়াবহ এই আগুন নেভাতে পার্শ্ববর্তী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিটিউট, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে পানি আনে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তবে, বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। সাততলা বস্তিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ঘর ছিল। বেশির ভাগই পুড়ে গেছে। ছয় মাস আগেও ‘হঠাৎ’ অগ্নিকাণ্ডে সাততলা বস্তির বহু ঘর পুড়ে যায়।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম





Source link