‘নেতা বলতে আস্থার ঠিকানা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম’


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নেতা বলতে আস্থার ঠিকানা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। যার সঙ্গে আমরা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা করতে পারতাম সাবলীলভাবে, বন্ধু সুলভভাবে। ভাই সমতুল্য হিসেবে আমরা সব বিষয় নিয়ে নির্দ্বিধায় আলোচনা করতে পারতাম। সদা হাস্যজ্জ্বোল ও সদালাপী এই মানুষটি অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বলভাবে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।

মঙ্গলবার (৮ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে প্রয়াত জননেতা মোহাম্মদ নাসিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতি এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

অতিথিরা মোহাম্মদ নাসিমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তার স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘নাসিম ভাইকে দেখেছি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোটকে একটি ইনস্টিটিউশনে পরিণত করেছেন। তিনি আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে রেখেছেন। তিনি আমাদের বাসায় ডাকতেন এবং যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির সময় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তৃণমূলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের যাওয়ার জায়গাটি যখন ক্ষীণ হয়ে উঠেছিল, সেই সময় একমাত্র ঠিকানা ছিল মোহাম্মদ নাসিম। যার কাছে সারাদেশের জেলা পর্যায়ের নেতারা আসত এবং তাদের সমস্যার কথা বলতো।’

মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্য নিবেদিত ছিলেন জানিয়ে নানক বলেন, ‘আমাদের মুরব্বি বলতে নাসিম ভাই ছিলেন। আমাদের ভাই বলতে নাসিম ভাই ছিলেন।’

মোহাম্মদ নাসিমের রাজনৈতিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও একজন জনবান্ধব নেতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের রাজনৈতিক অঙ্গনে বা আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন আরেকজনের সঙ্গে দেখা হলে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে, দল নিয়ে, সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা নেই বললেই চলে। কিন্তু নাসিম ভাই বেঁচে থাকতে, তার সঙ্গে দেখা হলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো।

নানক বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে নাসিম ভাইয়ের মতো মানুষ চলে গেলেনম যা মেনে নেওয়া যায় না। মাননীয় নেত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিশ্বস্ত এক কাণ্ডারীকে হারিয়েছেন। হারিয়েছেন তার এক আপনজনকে। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা হারিয়েছি একজন সংগ্রামী বীরকে এবং শেখ হাসিনার শতভাগ বিশ্বস্ত কাণ্ডারীকে। যিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রশ্নে কোনদিন আপস করেননি। কোনদিন সেই চেতনা থেকে বিচ্যুত হননি। সেই মানুষটির রাজনৈতিক জীবন আমাদের কাছে পাথেয়, আমাদের কাছে শিক্ষণীয়।’

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যে দলটির জন্য আমাদের প্রয়াত নেতা তার সব বিলিয়ে দিয়েছেন, সেই দলটিকে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। তিনি যা শিখিয়ে গেছেন দলের নেতাকর্মীদের কথা শুনতে হবে, নেতাকর্মীদের কাছে যেতে হবে, নেতাকর্মীদের জন্য কিছু করতে হবে। সেরকমভাবে আমরা সবাই তৈরি হবো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট এবং শেখ হাসিনা সরকারের ১৮তম বাজেট। ২০০৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এটি হল ১৩ তম বাজেট পেশ করেছেন আমাদের সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এ বাজেট গণমানুষের বাজেট, এ বাজেট জনবান্ধব বান্ধব, এ বাজেট কৃষিবান্ধব বাজেট, এ বাজেট শ্রমিকবান্ধব, এ বাজেট ব্যবসাবান্ধব, এই বাজেট শিক্ষাবান্ধব বাজেট। এই বাজেটে সকলের স্বার্থের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসিমপুত্র তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মন্ডল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধক্ষ্য শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি শাহনেওয়াজ দুলাল প্রমুখ। স্মরণ সভায় সহ-সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি তৈমুর ফারুক তুষার। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম





Source link