করোনা ও আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু— মির্জা ফখরুল


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনা এবং আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৯ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এখন দুই শত্রু। একদিকে আওয়ামী লীগ শত্রু আরেকদিকে করোনা শত্রু। এই শত্রু, এই দুই দানব তচনচ করে দিচ্ছে আমাদের সব কিছু। সেজন্য আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। কিন্তু এটাকে জয় করতে হবে। পৃথিবীর বড় বড় বিজয়, বড় বড় বিপ্লব, বড় বড় অর্জনে কিন্তু একটাই শ্লোগানে- আমরা করব জয়। এই শ্লোগান দিয়েই আমাদেরকে জয় করতে হবে।’

নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে সেই যুদ্ধে আপনাকে পুরোপুরিভাবে ইকুইপ্ট হতে হবে। যুদ্ধ করতেই হবে। এরা আপনাদের এমনি এমনি ক্ষমতা দিয়ে দেবে না। এরা একেবারে ডিক্টেটর বনে গেছে, কর্তৃত্ববাদী বনে গেছে।’

‘তারা জানে যে, নির্বাচন করলে জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে কিন্তু সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদেরকে জয়ী করবে। যেমন ২০১৮ তে করেছে, যেমন ২০১৪ তে করেছে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি ওদের কথার কী উত্তর দেব? ওদের কথায় ঘোড়াও হাসে। আগের কথা বলছি-পুরনো ঢাকার ঘোড়ার গাড়ি আছে না। ট্রেন থেকে নেমেই আমরা ওইসব ঘোড়ার গাড়িতে হলে যাইতাম। ফুলবাড়ীয়া ট্রেন স্টেশন থেকে এসএম হলে ঘোড়া গাড়ির ভাড়ার ছিলো ৪ আনা। আমরা বলতাম দুই আনা- বারগেইন করতাম।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গাড়ির চালক ঘোড়ার লাগামটা টান মারতো। আর ঘোড়াটা হু হু করে উঠত। তখন চালক বলতো, আপনার কথায় তো ঘোড়াও হাইসা ওঠে। আসলে ব্যাপারটা এমন যে, ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কথায় এখন ঘোড়াও হাসে। কি বলে না বলে ওরা জানে না। আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছে ওই যে গোয়েবেলসীয় প্রচারের মতো।’

তিনি বলেন, ‘গোয়েবেলস ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মানের নাৎসীবাদী ফ্যাসিস্ট হিটলারের প্রচারমন্ত্রী। আপনাদের হাসান মাহমুদদের মতো। অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন, অবলীলায় খুব শান্ত মেজাজে বলে কিন্তু, জোরে বলে না, রাগ করে বলে, মনে হয় যেন না ঠিকই বলছে। এটাকেই বলে যে, গোয়েবেলসীয় প্রচার। মিথ্যা প্রচার করতে করতে ওরা জিয়াউর রহমানকে এখন মুক্তিযোদ্ধা দূরের কথা, স্বাধীনতার ঘোষক দূরের কথা, পাকিস্তানের চর বানিয়ে দিয়েছে। এটাতে সবাই হাসে। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ওরা ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেজন্য আমি সবাইকে বলব, প্রকৃত ও সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে বার বার বলতে হবে। আমরা সূর্বণজয়ন্তী পালন করছি, অনেক অনুষ্ঠান করেছি। আরও করব। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। আজকে জিয়াউর রহমানকে যত চেষ্টা করুক মুছে ফেলতে, মুছে ফেলা যাবে না। তিনি আমাদের রক্তে, মজ্জায় মিশে আছেন। তার জন্য আমাদের কোনো সাইন লাগে না, সংবিধান লাগে না। আমাদের মানুষের মাথায়, মাথায়, মগজে মগজে, হুদয়ে হৃদয়ে, রক্ত কণিকায় তিনি মিশে আছেন।’

দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’, ‘প্রতি নায়ক’, ‘কাগমারী সম্মেলন স্মারক গ্রস্থ’, ‘আমার পতাকা ফেলানীর লাশ হয়’, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘জনগনের মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান মওলানা ভাসানী’— এসব বই পড়ার পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাও পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির দিপ্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেনে বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/একেএম





Source link