বিশ্ববাসীর বুকে বাংলাদেশকে চির জাগরুক করেছেন শেখ হাসিনা: নানক


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা জাতির তমসাচ্ছন্ন সময়ে এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সারথী হয়ে আলোর আকাশে বিজয়ের নৌকা ভাসিয়ে বিশ্ববাসীর বুকে বাংলাদেশকে চির জাগরুক করে তুলেছেন।

বুধবার (৯ জুন) দুপুরে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, পাকিস্তানি জোঁকদের শোষণে রক্তশূন্য হয়ে পড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতি যখন মৃতপ্রায় ঠিক এমন একটি সময় বাঁচার স্বপ্ন দেখালেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরাহত বাঙালিকে প্রাণের দাবি শোনালেন। দেশজুড়ে আলোড়ন জেগে উঠল। জেগে উঠতে শুরু করল আশাহত জাতি। এক চিরন্তন মুক্তির আশায় বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিল বাংলার আপামর জনতা। ভাগ্যহত নিপীড়িত বাঙালি জাতির সেই ম্যাগনাকার্টা হল বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, পাকিস্তানি শাসনের ১৮ বছরের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সর্বোপরি পাক-ভারত যুদ্ধের পটভূমিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসাবে পরিগণিত হয়।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। ছয় দফা কর্মসূচিতে যে স্বায়ত্বশাসনের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল তার প্রেক্ষাপট একদিনে রচিত হয়নি। স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠী দীর্ঘ ১৮ বছরের সংগ্রামের পটভূমিতে কর্মসূচি গৃহীত হয়েছিল।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আজ বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে উপনীত হয়েছে। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন। ঠিক যেমনটি পিতা মুজিব করেছিলেন। অন্ধ গহ্বর থেকে এদেশের মুক্তির চেতনা বহমান রাখতে বঙ্গবন্ধু কন্যা যখন ১৯৮১ সালে এদেশে এসেছিলেন, তখন আমরা কবির মতোই সদা ভাস্মর হয়ে বলেছিলাম, অন্ধকারের সিন্ধুতীরে একলাটি ওই মেয়ে, আলোর নৌকা ভাসিয়ে দিল আকাশ পানে চেয়ে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা জাতির তমসাচ্ছন্ন সময়ে এসে এক হাতে মৃন্ময়ী হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সারথী হয়ে আলোর আকাশবীণা ছুড়ে দিয়েছেন। বিজয়ের নৌকা ভাসিয়ে বিশ্ববাসীর বুকে বাংলাদেশকে চির জাগরুক করে তুলেছেন। বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির সোপানে চির উন্নত মম শির হয়ে রয়েছে। পিতা মুজিবের লালিত স্বপ্নে আলো প্রত্যয় হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যেন সুদীর্ঘকাল বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের হয়ে তার সংগ্রাম জারি রাখতে পারে, আজকের দিকে আমার এতোটুকুই প্রত্যাশা।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে সিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সারাবাংলা/এনআর/এসএসএ





Source link