পুলিশকে নির্বাচনি পদক দেওয়ায় বিস্মিত বিএনপি


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পুলিশকে নির্বাচনি পদক দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১১ জুন) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম পুলিশকে নির্বাচনি পদক দিচ্ছে। ২০১৮, ২০১৪ ও ২০০৮ সালের জন্য। কারণ কী? কোনোদিন শুনিনি এই পৃথিবীতে যে, নির্বাচন করার জন্য পুলিশকে পদক দেওয়া হয়। একটিই কারণ যে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে।‘

‘সে জন্য এসপি সাহেবরা বলেন, দেশটা আমরা চালাই। পুলিশের কনস্টেবল বলে, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ অবস্থার জন্য সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’কে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় যে করোনা ছড়াবে বিশেষজ্ঞরা তা আগেই বলেছেন। আমরা চিৎকার করে বলেছি, চিৎকার করে বলছি। কিন্তু তারা (সরকার) কোথাও কোনো ব্যবস্থা করেনি। আমার ঠাকুরগাঁও জেলার হাসপাতালে কোনো আইসিইউই নেই, অক্সিজেন নেই। আজকেও পত্রিকায় ছবি বেরিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে সবাই হাঁসফাঁস হাঁসফাঁস করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘ভারতে, পশ্চিম বাংলায় এগুলো হচ্ছে- এই অবস্থা তো আমরা দেখেছি। তারপরও সম্বিত ফিরে পায় না। ইউ আর প্রোটেক্টিং দোজ পিপলস। ওই চোরগুলোকে, ডাকাতগুলোকে আমরা প্রোটেক্ট করছি- দিস ইজ ভেরি আনফরচুনেট।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষের দাঁড়ানোর কোথাও জায়গা নেই। একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোথাও গিয়ে যে আশ্রয় পাবে, একটু রিলিফ পাবে, সেই জায়গাটি নেই। আগে আমরা সবাই মনে করতাম যে, আদালত বোধ হয় আমাদের সেই জায়গা। যে জায়গায় গেলে আমরা আশ্রয় পাব, প্রতিকার পাব, রিলিফ পাব। বিভিন্নভাবে সেই রিলিফটা প্রথম দিকে আমরাও পেয়েছি। এখন দেখছি এটি শূন্য অবস্থায় চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যখন নিপীড়নকারী হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন নির্যাতনকারী হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন আপনাকে ডিনাই করে ন্যায়বিচার থেকে, তখন আপনার যাওয়ার জায়গাটা কোথায় থাকে? আমরা এই কথাটা বলছি যে, সুপরিকিল্পভাবে, সুচিন্তিতভাবে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রের পরিণত করা হচ্ছে। এখানে কোনো সুশাসন থাকবে না, এখানে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না, আমাদের সংবিধানে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকায় আসাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, আপনারা (গণমাধ্যম) এটিকে বলেছেন হেফাজতের তাণ্ডব। আমি এই শব্দটার সঙ্গে একেবারেই একমত নই। তাণ্ডব তো করেছে সরকার। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে তারা এই তাণ্ডবটা করেছে এবং নাম দিয়েছে হেফাজতের তাণ্ডব।’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার ব্যাপারে হঠাৎ করে একটা মিথ্যা অডিও ক্লিপ ছাড়া হয়েছে। আপনারা ভালো করেই জানেন যে, কোনো জিনিস তৈরি করা কঠিন কাজ না। সেটি তারা (সরকার) করে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে। তারপর রিমান্ডে নিয়েছে। সেই রিমান্ড আর শেষ হয় না, ১০ দিন, ৫ দিন, ৭ দিন করে রিমান্ড। আবারও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’

‘নিপুণ রায় একজন মহিলা, অ্যাডভোকেট, রাজনীতিবিদ, কাম ফ্রম ভেরি গুড ফ্যামিলি, সোশ্যাল স্ট্যাটাস যে কোনো মানুষের চাইতে উপরে। তাকে গত তিন মাস যাবত কারাগার-থানা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে চরম হয়রানি করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। ওর অপরাধ হচ্ছে ও মহিলা। তুমি এত অ্যাকটিভ কেন? তুমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়ে তুমি এত কথা বলো কেন আমাদের বিরুদ্ধে?’— বলেন মির্জা ফখরুল।

দলের কারাবন্দি যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর কী অপরাধ? যেটি দেখতে পাই ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেনি। তাই বলে তাকে ৫ বছর ধরে জেলে রাখতে হবে? বিচার তো হচ্ছে, বিচার হবে। আর ওই যে আপনাদের যে অ্যাডভাইজার যিনি করোনা নিয়েও আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করলেন, যার হাজার হাজার কোটি টাকা লোন হয়ে আছে একটি দিনের জন্যও গ্রেফতার করলেন না। উপরন্তু তাকে পুরস্কার দিয়েছেন সরকারি গাড়ি-বাড়ি।’

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র চলছে যে জয়েন্ট ভেনচারে তাতে আমার মনে হয়- মোর দ্যান সিক্সটি পারসেন্ট পরের কর্তৃত্ব আর লেস দ্যান ফোরটি পারসেন্ট হলো আমাদের কর্তৃত্ব। দেশের মালিক যদি জনগণ না হয়, রাষ্ট্রের মালিক যদি রাষ্ট্র না হয়, রাষ্ট্র যদি জয়েন্ট ভেনচারে চলে তাহলে নিপুণ রায়দের এই দুর্দশা হবে এবং আপনাদেরও এই অবস্থা হবে-এই জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিপুণের ওপর যে অত্যাচারটা হচ্ছে জাস্ট লাইক এ কনডেম সেল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আধা ঘণ্টা/১৫ মিনিটের বেশি তার সেলের লক খোলা হয় না। তাই নিপুণের ভবিষ্যতটা যদি মুশতাকের (কারাগারে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ) মতো হয়- এটি আশ্বর্চ হওয়ার কিছু নেই। সেখানে (জেলে) ডাক্তার আছেন এরা বলবেন, তার স্বাভাবিক মৃত্যু। সুতরাং নিপুণকে কষ্ট দেওয়াটা সরকারের পক্ষে যত না দায়িত্ব, তার চেয়ে বেশি দায়িত্ব তার পাটনারকে খুশি করাটা। সেই কারণে নিপুণদের ভাগ্য এরকম হবে।’

কারাবন্দি নিপুণ রায় চৌধুরীর বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমার মেয়ে জেলখানায় অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। তার জন্ডিস হয়েছে, সেটিও আমাদেরকে জানানো হয়নি। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয় না, কথা বলতে দেওয়া হয় না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং নিপুণ রায় চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

সারাবাংলা/এজেড/একে





Source link